স্বাধীনতার বয়ান পুনর্লিখন এবং রিসেটের রাজনীতি

ড. শ্যামল দাস
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৫৩আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৫৩

বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। এবারের নির্বাচনে এনসিপি-জামায়াত জোটের পরাজয়কে কেবল ভোটের অঙ্ক দিয়ে ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে। এটি ছিল স্মৃতি, নৈতিকতা, নিরাপত্তা এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে এক সমষ্টিগত প্রতিক্রিয়া। ভোটাররা কেবল সরকার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেননি; তারা একটি আদর্শিক পথকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এটি ছিল “প্রতিরোধমূলক ভোট”, যেখানে মানুষ কাউকে জেতাতে নয়, বরং কাউকে ঠেকাতে ভোট দিয়েছে।

এবার বড় প্রশ্নও ছিল। সেটি হলো আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য? গণতান্ত্রিক তত্ত্বের দৃষ্টিতে কোনও নির্বাচনের বৈধতা নির্ভর করে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ, প্রতিযোগিতার সমতা এবং ফলাফলের সামাজিক স্বীকৃতির ওপর। যদি একটি বৃহৎ দল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের বাইরে থাকে, তাহলে প্রতিনিধিত্বে একটি কাঠামোগত ঘাটতি তৈরি হয়। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন আসে, দল অনুপস্থিত থাকলেও কি তার ভোটাররাও নিষ্ক্রিয় থাকে? নাকি প্রকাশ্য অবস্থান ও ভোটার আচরণের মধ্যে একটি কৌশলগত দূরত্ব তৈরি হয়?  

এসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে দেখা দরকার মানুষ কেন একটি বিশেষ ‘ক্যাম্প’কে প্রতিরোধ করতে চেয়েছে। কয়েকটি বিষয় আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে।

ড. ইউনূসের তথাকথিত “রিসেট বাটন” তত্ত্ব ভোটারদের একাংশের কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়েছে। রাষ্ট্রের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতা এবং সাংবিধানিক কাঠামোকে ‘রিসেট’ করার ধারণা অনেকের কাছে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত বহন করেছে। জাতীয় পরিচয়কে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল, তা মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করে। সমষ্টিগত স্মৃতি তত্ত্ব অনুযায়ী, যে সমাজ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন করেছে, সে সমাজ অতীতকে মুছে ফেলার আহ্বান সহজে গ্রহণ করে না। যে দেশ ত্রিশ লাখ মানুষের রক্ত ও দুই লাখ নারীর সম্ভ্রমহানির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই ত্যাগের ইতিহাসকে অপমানকারীদের এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না, এটাই ইতিহাসের শিক্ষা।  

এছাড়া যত্রতত্র মব সৃষ্টি, মন্দির বা মাজার ভাঙচুরের ঘটনা, সংখ্যালঘু নির্যাতনকে শুধুই “রাজনৈতিক নাটক” বলে উড়িয়ে দেওয়া- এসব বিষয় ভোটারদের মনে দ্বৈত বার্তার জন্ম দেয়। একদিকে ধর্মীয় আবেগ উসকে দেওয়া, অন্যদিকে বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি, এই দ্বন্দ্ব মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে। নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য বা নারী রাজনীতিকদের হেয় প্রতিপন্ন করার ঘটনাও শহর ও গ্রাম উভয় প্রান্তে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। বর্তমানে নারী ভোটারের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য; ফলে লিঙ্গ-সংবেদনশীলতার অভাব রাজনৈতিকভাবে বুমেরাং হয়েছে। এর ওপর জামায়াতের ‘জান্নাত’ প্রদানের প্রতিশ্রুতিও মানুষ সহজভাবে নেয়নি।

সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল প্রতারণাবোধ। ৫ আগস্টের পর যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়। যখন মানুষ মনে করে যে তারা একটি আদর্শিক প্রকল্পে সমর্থন দিয়েছিল কিন্তু পরে সেটি তাদের প্রত্যাশা পূরণ না করে পুরো উল্টো রাস্তায় যাত্রা করে, তখন তা “আপেক্ষিক বঞ্চনার অনুভূতিতে (ফিলিংস অব রিলেটিভ ডিপ্রাইভেশান) রূপ নেয়। এই বঞ্চনাবোধের সঙ্গে যুক্ত হয় স্বাধীনতাবিরোধী ইঙ্গিত, ইতিহাস পুনর্লিখনের প্রচেষ্টা, এবং নৈতিক দ্বৈধতা। ফলত ভয় একটি রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।  

এই নির্বাচনে আমরা সেই ভয় এবং স্মৃতির মিলিত প্রভাব দেখতে পাই। ভোটাররা কেবল অর্থনীতি বা প্রার্থী দেখে সিদ্ধান্ত নেননি; তারা বিবেচনা করেছেন রাষ্ট্রের আত্মপরিচয়, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ। এনসিপি-জামায়াত জোটের বিরুদ্ধে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা ছিল বিশ্বাসঘাতকতার ধারণা, ঐতিহাসিক অপমানের অনুভূতি এবং সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কার সম্মিলিত ফল।

আরেকটু ব্যাখ্যা করা যাক। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাতীয় আত্মপরিচয়ের কেন্দ্র। এই প্রেক্ষাপটে যখন এনসিপি-জামায়াত ঘরানার কিছু নেতা মুক্তিযুদ্ধকে “ভারতের ষড়যন্ত্র” হিসেবে আখ্যা দেন, বা ৫ আগস্টের ঘটনাকে “তথাকথিত স্বাধীনতা”র বিপক্ষ শক্তির বিজয় বলে ব্যাখ্যা করেন, তখন তা রাজনৈতিক মতভেদ নয়, বরং জাতীয় স্মৃতির ওপর আঘাত হিসেবে প্রতিভাত হয়। পাঁচই আগস্টের পর এরা বিভ্রান্তিমূলক বয়ান দিতে শুরু করে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে; আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস থেকে শুরু করে জাতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত চলেছে নিরন্তর।

খেয়াল করলে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যারা সবচেয়ে বেশি অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, তাদের বড় অংশটিই পরাজিত হয়েছে; এর ওপর সর্বশেষ জামায়াত নেতা কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখতে চাওয়ার খায়েশ, সেটিও মানুষের প্রতারিত হওয়ার বোধের সাথে পালক যুক্ত করেছে মাত্র, যেটির ফলাফল আমরা দেখেছি নির্বাচনে।    

এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে সবসময় উচ্চকণ্ঠ না হলেও তারা প্রকাশ্যে রাজাকারদের যুদ্ধাপরাধের পক্ষে দাঁড়ায়নি। কিন্তু স্বাধীনতার প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তারা “শেখ মুজিব”কে কেন্দ্র করে খুব বেশি রাজনৈতিক বিতর্কে না গিয়েও রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-স্বীকৃত কাঠামো অস্বীকার করেনি। ফলে ভোটারদের একাংশ এনসিপি-জামায়াতের তুলনায় তাদের অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখেছে।

এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ে থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে নানান সময়ে বিতর্ক উঠেছে। যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব নৈতিকতার ভাষণ দেয় কিন্তু নিজেরা বিতর্কমুক্ত থাকতে পারে না, তখন রাজনৈতিক আস্থা ভেঙে পড়ে। রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব বলছে, বিশ্বাসের অভাব বা trust deficit তৈরি হলে ভোটাররা “আপেক্ষিক কম খারাপ” বা “কম অবিশ্বাসযোগ্য”কে বেছে নেয়।

এর ওপর গত আঠারো মাসে দেশের অধিকাংশ সেক্টরে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা মানুষকে ক্ষিপ্ত ও হতাশ করে তোলে। আরও যেটি মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তোলে তা হলো, অন্তর্বর্তী সরকার সংশ্লিষ্ট অনেকেই “ভারতীয় আধিপত্যবাদ” নিয়ে কথা বলে ক্রমাগতভাবে অন্য বৃহত্তর শক্তির সাথে গোপন চুক্তি করে গেছে তাদের শেষ দিন পর্যন্ত। যেগুলো তারা প্রকাশ করেনি; এমনকি তারা ভারতের সাথে আওয়ামী আমলে করা “গোপন” চুক্তিগুলোও দেখাতে পারেনি। এগুলো সরকারকে অনেকের কাছে একটি “মিথ্যা বয়ান নির্ভর সরকার” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এই ধারণাটির ফলেই মানুষ জামায়াত-এনসিপি’র রাজনীতিকে ক্ষমতার বলয়ে মেনে নিতে চায়নি।

এবার তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেওয়া যাক। পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করেছে সে বিষয়ে।

রাজনৈতিক নৃবিজ্ঞানী জেমস স্কট তার “ডমিনেশান অ্যান্ড দ্য আর্ট অব রেজিসট্যান্স” বইতে “পাবলিক” ও “হিডেন” ট্রান্সক্রিপ্ট ধারণার মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে ক্ষমতার প্রকাশ্য মঞ্চে যা বলা হয়, তা সবসময় বাস্তব রাজনৈতিক অভিসন্ধির প্রতিফলন নয়। শাসন বা বিরোধিতার ভাষ্য একরকম হলেও, অন্তরালে অন্য কৌশল কাজ করতে পারে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাইরে যদি নির্বাচন বর্জনের ভাষ্য উচ্চারিত হয়, সেটি পাবলিক ট্রান্সক্রিপ্ট; কিন্তু ভোটার স্তরে যদি কৌশলগত সমর্থন অন্যদিকে সরে যায়, সেটি হিডেন ট্রান্সক্রিপ্টের আওতায় পড়ে।

এখানে যুক্ত হয় যুক্তিসঙ্গত পছন্দ তত্ত্ব। এন্থনি ডাউন্স তার “এন ইকোনমিক থিওরি অব ডেমোক্র্যাসি” বইতে দেখিয়েছেন, ভোটাররা আদর্শগত আনুগত্যের চেয়ে সম্ভাব্য ফলাফল ও লাভ-ক্ষতির হিসাবকে গুরুত্ব দেয়। কোনও দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলে, তার সমর্থকেরা “দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ পছন্দ” বেছে নিতে পারে—অর্থাৎ এমন প্রার্থীকে সমর্থন করা, যিনি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভারসাম্যে তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে সক্ষম। নির্বাচনি আচরণ বিজ্ঞানে একে কৌশলগত ভোটিং বা ক্রস ভোটিং বলা হয়।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী ভোটব্যাংক ছিল—পূর্ববর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ৩৪-৪০ শতাংশের একটি ধারাবাহিক সমর্থন দেখা গেছে। এই ভোটারগোষ্ঠী সম্পূর্ণ রাজনীতি থেকে সরে গেছে—এমনটি অনুমান করা কঠিন। বরং যদি তারা প্রকাশ্যে নীরব থেকেও ভোটকেন্দ্রে গিয়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিকে সমর্থন করে থাকে, তাহলে সেটি এক ধরনের কৌশলগত পুনর্বিন্যাস। এটি আদর্শগত রূপান্তর নয়; বরং রাজনৈতিক বেঁচে থাকার কৌশল।

এই আচরণকে আলবার্ট হার্শম্যানের প্রস্থান-প্রতিবাদ-আনুগত্য তত্ত্ব দিয়েও বোঝা যায়। যখন কোনও সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায়, তখন সমর্থকদের সামনে তিনটি পথ থাকে- সম্পূর্ণ সরে যাওয়া (প্রস্থান), প্রকাশ্যে প্রতিবাদ (ভয়েস), অথবা আনুগত্যের মাধ্যমে ভিন্ন চ্যানেলে প্রভাব খাটানো। তৃতীয় পথটি অনেক সময় নীরব, গুপ্ত বা অনানুষ্ঠানিক সমর্থনের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

এখানে গেম থিওরির একটি মাত্রাও যুক্ত হয়। যদি কোনও দল বুঝতে পারে যে সরাসরি অংশগ্রহণে ঝুঁকি বেশি, তাহলে তারা “পরোক্ষ কৌশলগত সমন্বয় (প্রক্সি অ্যালাইনমেন্ট)”-এর পথ নিতে পারে, অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে দূরে থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রভাব বিস্তার। এটি অনেকটা “শঠে শাঠ্যাং” কৌশল, প্রকাশ্যে বিরোধিতা, ভেতরে ভেতরে হিসাবি সমর্থন। রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানে একে “ভূগর্ভস্থ রাজনৈতিক সংগঠিতকরণ (subterranean mobilization)” বা “পর্দার আড়ালের সমাবেশ ও সক্রিয়তা” বলা হয়, যেখানে সংগঠন প্রকাশ্য প্ল্যাটফর্মে নয়, বরং নেটওয়ার্ক ও সামাজিক সম্পর্কের মাধ্যমে কাজ করে।  

৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহেও অনুরূপ একটি কৌশলগত কাঠামো দেখা গিয়েছিল, যেখানে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফলাফল প্রভাবিত করা হয়। ফলে নির্বাচনি রাজনীতিতে একই ধরনের মডেল অন্য ফর্মেটে প্রয়োগ হওয়া অসম্ভব নয়। অর্থাৎ প্রকাশ্য অবস্থান একরকম, কিন্তু মাটির নিচে অন্য সমীকরণ।

ভূ-রাজনৈতিক মাত্রাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি কৌশলগত রাষ্ট্র; ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন, এই প্রতিটি শক্তিই ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে হিসাব করে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তববাদী (Realist) তত্ত্ব অনুযায়ী, রাষ্ট্রসমূহ নৈতিক ভাষ্যের চেয়ে স্থিতিশীলতা ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। ফলে কোন নির্বাচনে কোন দল আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিলো কী নিলো না—তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, ক্ষমতার চূড়ান্ত বিন্যাস কার পক্ষে স্থিতিশীল হবে। ভোটাররাও অনেক সময় এই বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়। এখানে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি’ই আসে পরবর্তী পছন্দের তালিকায়।

অতএব, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগও প্রকাশ্যে নির্বাচন বর্জন করে। তাদের ভোটারদের একটি অংশ যদি বিএনপি প্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে থাকে তাহলে সেটি তাত্ত্বিকভাবে অসম্ভব বা অযৌক্তিক নয়। বরং রাজনৈতিক আচরণতত্ত্ব, গেম থিওরি ও “হিডেন ট্রান্সক্রিপ্ট” ধারণা দিয়ে বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রকাশ্য ভাষ্য ও ভোটকেন্দ্রের সিদ্ধান্ত সবসময় একরৈখিক হয় না। এ অর্থে এটি বলা অসঙ্গত হবে না যে, এই নির্বাচনে আসলে বিএনপি’র সাথে আওয়ামী লীগও জয়ী হয়েছে।

নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে; কিন্তু ভোটারদের নীরব কৌশল, অনেক সময় দৃশ্যমান রাজনীতির চেয়ে গভীর ও কার্যকর, এটি অস্বীকার করা যায় না। ক্ষমতার দুর্গ যতই অটুট মনে হোক, উপকথার দৈত্যের মতো তার ভেতরে ফাটল তৈরি হয় নীরব হিসাবের মাধ্যমে। সেই ফাটলই অনেক সময় নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে।  

লেখক: অধ্যাপক, এলিজাবেথ সিটি স্টেট ইউনিভার্সিটি, নর্থ ক্যারোলাইনা, যুক্তরাষ্ট্র।

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, রায় রবিবার
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, রায় রবিবার
বজ্রনিনাদে ভারতে বর্ষার প্রবেশ, কেরালাজুড়ে হচ্ছে ভারি বৃষ্টি
বজ্রনিনাদে ভারতে বর্ষার প্রবেশ, কেরালাজুড়ে হচ্ছে ভারি বৃষ্টি
সর্বশেষসর্বাধিক