X
বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২
২২ আষাঢ় ১৪২৯

১৮ বছর পর খুললো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২২, ১৮:৩৮

বিদ্যালয় আছে, শিক্ষার্থী নেই। ভেঙে পড়েছে বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ঘরের টিনের চাল। শিক্ষার্থীদের বসার জন্য নেই টেবিল-চেয়ার। এক-দুদিন নয়, ১৮ বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ কান্দিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

তবে এবার আলোর মুখ দেখছে বিদ্যালয়টি। এটি পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। গত ৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ভর্তি কার্যক্রম। বর্তমানে দুজন শিক্ষক আছেন। বিদ্যালয়ের সামনে টানানো হয়েছে জাতীয় পতাকা। 

মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরের চারপাশের টিন মরিচা ধরে খসে পড়ছে। অনেক স্থান ফাঁকা হয়ে আছে। চালের ছিদ্র দিয়ে সূর্যের আলো পড়ছে বিদ্যালয়ের ভেতরে। আসবাবপত্র, টেবিল-চেয়ার কিছুই নেই। ঘরটি ধুলাবালুতে ঢেকে আছে। বাইরে ঝুলছে ভর্তি বিজ্ঞপ্তির ব্যানার।

দুটি চেয়ার নিয়ে জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে বসে আছেন দুজন শিক্ষক। ঝুঁকি নিয়ে চলছে ভর্তি কার্যক্রম। বিদ্যালয় চালুর খবর স্থানীয়দের জানাচ্ছেন শিক্ষকরা। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪০ সালে কান্দিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে পাঁচ জন শিক্ষক ছিলেন। ২০০৪ সালে একসঙ্গে তিন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর বিদ্যালয়টি অচল হতে থাকে। সেই সঙ্গে বিদ্যালয়ের ঘরটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমতে থাকে। একপর্যায়ে বাকি দুজন শিক্ষক অন্যত্র বদলি হয়ে যান। শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়ায় ২০০৪ সালে বিদ্যালয়কে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৮ বছর পর গত ৪ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি চালুর ঘোষণা দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। দুজন শিক্ষককে এখানে ডেপুটেশনে আনা হয়। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে বলা হয়।

জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরের চারপাশের টিন মরিচা ধরে খসে পড়ছে

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক শান্তিরঞ্জন ভৌমিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আশপাশের সব বিদ্যালয়ের উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু এই বিদ্যালয়ের উন্নয়ন হয়নি। ১৮ বছর ধরে এলাকার ছেলেমেয়েরা বাইরের এলাকায় গিয়ে পড়াশোনা করছে। এখন নতুন করে বিদ্যালয়ে ভর্তি চলছে। শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে কি লাভ, যদি অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হয়। জরাজীর্ণ এই টিনের ঘরে পড়াশোনার জন্য ঝুঁকি নিয়ে কেন সন্তানদের ভর্তি করবেন অভিভাবকরা। আগে নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। ভবন হলে শিক্ষার্থীদের ভর্তি এমনিতেই ভর্তি করবেন অভিভাবকরা। 

নগরীর হোচ্ছামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ডেপুটেশনে আসা সহকারী শিক্ষক শামীমা আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি জানুয়ারি মাসে এখানে এসেছি। প্রতিদিন বিদ্যালয়ে এসে বসে থাকি। মাঝেমধ্যে দু’একজন অভিভাবক এসে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলে যান। কিন্তু বিদ্যালয়ের এমন অবস্থা দেখে কেউ সন্তানদের ভর্তি করাতে চান না। অভিভাবকরা বলছেন, নতুন ভবন ও শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে তখনই সন্তানদের ভর্তি করবেন। আমরাও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন চাই। সেই সঙ্গে চাই, অন্য বিদ্যালয়ের মতো এখানেও ছেলেমেয়েরা ভর্তি হোক, পড়াশোনা এবং খেলাধুলায় মাতুক।

তিনি আরও বলেন, কান্দিরপাড়ের ঠাকুরপাড়া এলাকায় প্রায় ৬০০ পরিবারের বসবাস। এসব পরিবারে প্রায় তিন-চারশ শিশুসন্তান আছে। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন হলে সব শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হবে। তখন অভিভাবকদের বলতে হবে না, সন্তানকে এখানে ভর্তি করান। নিজেরাই ভর্তি করিয়ে দেবেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফারজানা হায়দার। তিনি কুমিল্লা সদরের আমড়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এখানে ডেপুটেশনে এসেছেন। 

বিদ্যালয়ের সামনে টানানো হয়েছে জাতীয় পতাকা

ফারজানা হায়দার বলেন, আমি ৪ ফেব্রুয়ারি এই বিদ্যালয়ে এসেছি। প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসি। প্রথমে বাইরে বসতাম। এখন ভাঙা ঘরের ভেতরেই বসি। অনেকে বলে বাইরে বসতে। কিন্তু আমরা যদি বাইরে বসি, তাহলে অভিভাবকরা কীভাবে ভরসা পাবেন? তাই ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা ঘরের ভেতরেই বসি। এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ২৭ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এছাড়া অনেক অভিভাবক আসছেন সন্তানদের ভর্তি করাতে। কিন্তু বিদ্যালয়ের ঘরের অবস্থা দেখে অভিভাবকরা সন্তানদের ভর্তি করাতে চান না। আমরা তাদের বলেছি, যারা ভর্তি হবে তারা আপাতত পাশের রামকৃষ্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লতিফা নিরোদা সন্দরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস করবে। 

তিনি বলেন, এই এলাকায় অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা অনেক দূরের বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াশোনা করে। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ এবং শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে চার-পাঁচশ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে ভর্তি হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিদ্যালয়টি অনেক বছর পর চালু হয়েছে। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শুরুর চেষ্টা করছি আমরা। এখানে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিশেষ করে জায়গা স্বল্পতা রয়েছে। এরপরও এটি সংস্কার করে নতুন তিনতলা ভবন করার চেষ্টা করছি। শিশুদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চার জন্য গ্রাউন্ড ফ্লোরকে মাঠের মতো করে ব্যবহার করা হবে। রাস্তার পাশে হওয়ায় নিরাপত্তা দেয়াল দিতে হবে। যেন শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার না হয়। আর ওপরের ফ্লোরগুলোতে শ্রেণিকক্ষ হবে। আশা করছি, দ্রুত ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’

/এএম/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদের টাকার হিসাব নিয়ে বিবাদে নিহত ১
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদের টাকার হিসাব নিয়ে বিবাদে নিহত ১
নববধূ সেজে ইয়াবা কিনতে ঢাকা থেকে টেকনাফে
নববধূ সেজে ইয়াবা কিনতে ঢাকা থেকে টেকনাফে
ফেল নয়, বাছাই করে শিক্ষার্থী নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো: শিক্ষামন্ত্রী
ফেল নয়, বাছাই করে শিক্ষার্থী নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো: শিক্ষামন্ত্রী
পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার পাশে দুর্ঘটনায় এমপির এপিএসসহ আহত ৩
পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার পাশে দুর্ঘটনায় এমপির এপিএসসহ আহত ৩
এ বিভাগের সর্বশেষ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদের টাকার হিসাব নিয়ে বিবাদে নিহত ১
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদের টাকার হিসাব নিয়ে বিবাদে নিহত ১
ফেল নয়, বাছাই করে শিক্ষার্থী নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো: শিক্ষামন্ত্রী
ফেল নয়, বাছাই করে শিক্ষার্থী নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো: শিক্ষামন্ত্রী
হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড থেকেই সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ড-বিস্ফোরণ
হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড থেকেই সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ড-বিস্ফোরণ
টেকনাফে ৫ দিনে ৪৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত
টেকনাফে ৫ দিনে ৪৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত
সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডের জন্য মালিকপক্ষ দায়ী
সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডের জন্য মালিকপক্ষ দায়ী