X
মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২
২১ আষাঢ় ১৪২৯

ডিম সংরক্ষণ করে ৩০ হাজার কচ্ছপের বাচ্চা সাগরে অবমুক্ত

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২২, ২১:৩৫

কক্সবাজারের সমুদ্র পাড়ে মানুষের হাঁটাচলা, সাপ বা কুকুরের খেয়ে ফেলা, পাড়ে আলোর ব্যবহারসহ নানা কারণে নষ্ট হচ্ছে কচ্ছপের ডিম, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বংশবৃদ্ধি। তাই, সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম সংরক্ষণ ও প্রজনন প্রক্রিয়ায় কাজ করছে নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট নামে প্রতিষ্ঠানসহ একাধিক সংস্থা। গত ১০ বছরে সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম সংরক্ষণ করে ৩০ হাজার বাচ্চা সাগরে অবমুক্ত করেছে তারা। এতে প্রায় বিলুপ্ত সামুদ্রিক কচ্ছপ রক্ষার পাশাপাশি সমুদ্রের তলদেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সামুদ্রিক কচ্ছপ ঝাড়ুদার নামে পরিচিত। বাংলাদেশে পাঁচ প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপের সবকটি বিশ্বব্যাপী বিপন্ন অবস্থায় আছে। সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে অলিভ রিডলি কচ্ছপ। তিন জাতের কচ্ছপ বাংলাদেশের সীমানায় ডিম পাড়তে আসে। বিশেষ করে সামুদ্রিক কচ্ছপগুলোর ডিম পাড়ার সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হচ্ছে সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া, টেকনাফ ও উখিয়ার সমুদ্র উপকূলীয় বালুচর। কিন্তু ডিম পাড়তে এসে সমুদ্র পাড়ে মানুষের হাঁটাচলা, সাপ বা কুকুরের খেয়ে ফেলা, পাড়ে আলোর ব্যবহারসহ নানা কারণে নষ্ট হচ্ছে কচ্ছপের ডিম। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বংশবৃদ্ধি। চরম ঝঁকির মুখে পড়ছে কচ্ছপগুলো। 

কক্সবাজারের পেঁচারদ্বীপ সমুদ্র উপকূলে হ্যাচারিতে জন্ম নেওয়া ৬৫টি কচ্ছপের বাচ্চা সোমবার সাগরে অবমুক্ত করেছে নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট (নেকম)। কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সহায়তায় কাজ করছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশে পাঁচ প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপের সবকটি বিশ্বব্যাপী বিপন্ন অবস্থায় আছে

সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) সদস্য ও সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রজননকেন্দ্রে নিয়োজিত আব্দুল লতিফ বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে সমুদ্র থেকে উঠে এসে কচ্ছপ ডিম পাড়ার পরপরই দ্রুত তুলে এনে হ্যাচারিতে সংরক্ষণ করা হয়। কচ্ছপ যেভাবে বালুচরে গর্ত করে ডিম রেখে চলে যায়, ঠিক সেভাবে হ্যাচারিতে ডিম সংক্ষণ করা হয়। পরে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার পর বালু থেকে উঠে আসলে তা দ্রুত সাগরে অবমুক্ত করা হয়।’

কক্সবাজার সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আয়াছুর রহমান বলেন, ‘২০১০ সাল থেকে সাগর পাড়ে সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম সংরক্ষণ ও প্রজনন করে আসছি। এই পর্যন্ত ৩০ হাজার কচ্ছপের বাচ্চা সাগরে অবমুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে সাগর পাড়ে কিছু প্রভাবশালীর জবর-দখলসহ নানা কারণে সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম সংরক্ষণ কঠিন হয়ে পড়ছে।’

কক্সবাজারের ‘এনআরএম’র ম্যানেজার মো. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘গত ১৫ জানুয়ারি থেকে অলিভ রিডলি জাতের কচ্ছপ সৈকতে ডিম দিয়েছিল। সেন্টমার্টিনসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন অংশে দেওয়া ডিমগুলো সংগ্রহ করে কচ্ছপ নিয়ে কাজ করে নেকম। নেকম কর্মীরা এসব ডিম সংগ্রহের পর হ্যাচারিতে রেখে বালুর নিচে বিশেষ কায়দায় ফোটানোর উদ্যোগ নেন। ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে ডিমগুলো থেকে বাচ্চা বের হয়। এই প্রক্রিয়ায় ৫৬টি কচ্ছপের বাচ্চা সাগরে অবমুক্ত করা হয়েছে। আরও সাড়ে পাঁচ হাজার কচ্ছপের ডিম ফোটার অপেক্ষায় রয়েছে।’

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. সারোয়ার আলম বলেন, ‘কচ্ছপ প্রকৃতির ঝাড়ুদার। সমুদ্রের আবর্জনাগুলো খেয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখে। কিন্তু আমাদের অসচেতনতায় নিজের আবাসস্থল হারাচ্ছে এই উপকারী প্রাণীটি। নিষিদ্ধ জালে মাছ শিকারকালে আটকা পড়ে মারা যায় কচ্ছপ। পর্যটন বিকাশের কারণে কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূলে অতিরিক্ত আলোর কারণে কুকুরের আক্রমণেও মরছে কচ্ছপ।’

তিন জাতের কচ্ছপ বাংলাদেশের সীমানায় ডিম পাড়তে আসে

একটি সংস্থার পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়, সাগরে প্লাস্টিক, পরিত্যক্ত মাছ ধরার যন্ত্রপাতি, তেলবর্জ্য এবং অন্যান্য পদার্থ খেয়ে কিংবা পরিত্যক্ত জালের সঙ্গে জড়িয়েও মারা যায় কচ্ছপ। রাসায়নিক দূষণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। উপকূলে আলোর ঝলকানি ডিম পাড়ায় বাধা দেয়। এভাবে প্রতিনিয়ত বিশ্বের নানা প্রান্তে হাজার হাজার সামুদ্রিক কচ্ছপ মারা যাচ্ছে। অথচ তাদের বাঁচানো গেলেও বেশিরভাগ লোকই ওসব না চিন্তা করে শুধু নিজের স্বার্থের কথা ভেবে নির্বিচারে নিধন করে চলেছে কচ্ছপ।

বন্যপ্রাণী বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা কনজারভেশন অ্যালায়ন্সের ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২২ প্রজাতির কচ্ছপ পাওয়া যায়। এ হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে কম জায়গায় সবচেয়ে বেশি প্রজাতির কচ্ছপ রয়েছে বাংলাদেশে। সামগ্রিকভাবে কচ্ছপের প্রজাতি সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। তবে বাংলাদেশে প্রজাতি সংখ্যা বেশি হলেও অনেকগুলোই বিলুপ্তির পথে। বন বিভাগ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএনের হিসাবে বাংলাদেশে মোট ৩০ প্রজাতির কচ্ছপ পাওয়া যায়। যার মধ্যে ২২টি প্রজাতি বাংলাদেশে তো বটেই, বিশ্বজুড়ে বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

/এএম/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
বাড়ি ফেরার পথে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
বাড়ি ফেরার পথে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
ঈদের আগেই খানিকটা ত্বকচর্চা
ঈদের আগেই খানিকটা ত্বকচর্চা
‘লুহানস্কেই ইউক্রেনে রাশিয়ার শেষ জয়’
‘লুহানস্কেই ইউক্রেনে রাশিয়ার শেষ জয়’
অস্ত্র ও মাদকসহ ৪ যুবক গ্রেফতার
অস্ত্র ও মাদকসহ ৪ যুবক গ্রেফতার
এ বিভাগের সর্বশেষ
অস্ত্র ও মাদকসহ ৪ যুবক গ্রেফতার
অস্ত্র ও মাদকসহ ৪ যুবক গ্রেফতার
কক্সবাজার সৈকত থেকে ২ শিশুর মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজার সৈকত থেকে ২ শিশুর মরদেহ উদ্ধার
মিতু হত্যার বর্ণনা দিলো ছেলে
মিতু হত্যার বর্ণনা দিলো ছেলে
ক্যাম্পে মিলেছে এম-১৬ রাইফেল, উদ্ধার ২০ লাখ পিস ইয়াবা
ক্যাম্পে মিলেছে এম-১৬ রাইফেল, উদ্ধার ২০ লাখ পিস ইয়াবা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ছাত্রের মৃত্যু, হাসপাতালে ছাত্রী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ছাত্রের মৃত্যু, হাসপাতালে ছাত্রী