X
রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২
১৭ আশ্বিন ১৪২৯

চট্টগ্রামে কেন বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ? 

নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম
২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২২:২০আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২২:৩৭

চট্টগ্রামে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিন জন মারা গেছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে দুজন ও এভারকেয়ার হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে। 

তবে নগরীতে উদ্বেগজনক হারে ডেঙ্গু রোগী বাড়লেও কার্যকর উদ্যোগ নেই সিটি করপোরেশনের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগরজুড়ে বেড়েছে এডিস মশার উপদ্রব। কিন্তু ছিটানো হচ্ছে না পর্যাপ্ত ওষুধ। এ কারণে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত চার মাসে ৪০৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১১১ জন নারী, ১৮৪ জন পুরুষ এবং ১০৮ জন শিশু। এদের মধ্যে জুন মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭, জুলাইয়ে ৫০, আগস্টে ৭৬ ও সেপ্টেম্বরে ২৫৬ জন। বাকি চার জন অন্য জেলার বাসিন্দা। আক্রান্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের ৩২৭ জন। বাকিরা উপজেলার। উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে বেশি রোগী পটিয়া ও সাতকানিয়ার।’

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নুরুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্তমানে হাসপাতালে ৪০ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। প্রতিদিন ছয়-সাত জন করে রোগী ভর্তি হচ্ছেন। দিন দিন ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিচ্ছি।’

এডিস মশার উপদ্রব বাড়লেও ছিটানো হচ্ছে না পর্যাপ্ত ওষুধ

সীতাকুণ্ড উপজেলায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রফিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের //সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে গত আগস্ট মাসে ২০ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। চলতি মাসে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৫ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। বর্তমানে ১৫ জন চিকিৎসাধীন আছেন। গত ২৪ ঘণ্টা আরও পাঁচ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এডিশ মশা থেকেই মানুষের শরীরে ডেঙ্গু রোগ ছড়াচ্ছে। ডেঙ্গু রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—জ্বর, শরীর ব্যথা, কফ, মুখ ও প্রস্রাব দিয়ে রক্তক্ষরণ, শরীরের বিভিন্ন স্থানে চামড়ার নিচে রক্তক্ষরণ, ফুসফুস ও পেটে পানি জমাসহ নানা লক্ষণ দেখা দেয়। কোনও ব্যক্তির শরীরে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আফরোজা কালাম বলেন, ‘আবহাওয়াগত কারণে নগরীতে এখন মশার উপদ্রব বেড়েছে। এডিস মশা যেন জন্মাতে না পারে সেজন্য নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। পরিষ্কার ও বদ্ধ পানি এডিশ মশার প্রজনন ক্ষেত্র। তাই বাসাবাড়ির আশপাশে ডাবের খোসা, ফুলের টব, ছাদবাগান, ফ্রিজের ট্রে, এসির জমা পানি, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিক বোতল ও পানির ড্রামে যাতে তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে সেদিকে সবার খেয়াল রাখতে হবে।’

ভারপ্রাপ্ত মেয়র আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবরের মাঝে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। বর্তমানে কারও জ্বর বা ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চসিক জেনারেল হাসপাতাল ও আরবান হেলথ সেন্টারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’

প্রতিটি ওয়ার্ডের নালা-নর্দমায় জমাটবদ্ধ পানিতে মশার প্রজজন বেড়েছে

তিনি আরও বলেন, ‘ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডের নালা-নর্দমায় জমাটবদ্ধ পানিতে যেখানে মশার প্রজজন বৃদ্ধি পায়, সেখানে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। ক্রাশ প্রোগ্রাম ছাড়াও মশা নিধনে স্প্রে চলমান আছে।’

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগী বেড়েই চলছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক চিকিৎসার ব্যবস্থার করা হয়েছে। এরপরও নগরীর বাসিন্দাদের সচেতন হতে হবে। ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।’

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু

নগরীর মুরাদপুর সঙ্গীত এলাকার বাসিন্দা মো. মুনতাসির উদ্দিন বলেন, ‘এই এলাকায় গত এক বছরের মধ্যে একবারও মশার ওষুধ ছিটাতে দেখিনি। সিটি করপোরেশনের কোনও স্প্রে ম্যান এই এলাকায় আসে না। এখানে মশার উপদ্রব এত বেশি যে, কয়েল জ্বালিয়েও মশা তাড়ানো যায় না। অথচ ঠিকই প্রতি বছর হোল্ডিং ট্যাক্সসহ যাবতীয় নানা ধরনের কর নেয় সিটি করপোরেশন। কিন্তু আমরা তাদের সেবা পাচ্ছি না।’

প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভারাপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা আবুল হাশেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নগরজুড়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। নগরবাসীকে সচেতন করতে প্রতিদিন পাঁচটি সিএনজি অটোরিকশা দিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে মশার ওষুধ ছিটানোর জন্য ২০০ জন স্প্রে ম্যান আছে। ওষুধ ছিটানোর জন্য ফগার মেশিন আছে ৬০টি এবং স্প্রে আছে ১৫০টি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে দুই ধরনের মশার ওষুধ মজুত আছে। এর মধ্যে লার্ভিসাইড (মশার ডিম ধ্বংসকারী) ওষুধ মজুত আছে পাঁচ হাজার ৭০০ লিটার এবং এডালটিসাইড (পূর্ণাঙ্গ মশা ধ্বংসকারী) ওষুধ আছে তিন হাজার লিটার। আমরা মাঝেমধ্যে ওষুধ ছিটাই।’

/এএম/
সম্পর্কিত
চট্টগ্রামে আরেক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু
চট্টগ্রামে আরেক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু
হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী হাসপাতালে
হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী হাসপাতালে
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও ২৯ জন
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও ২৯ জন
কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত যুবকের মৃত্যু
কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত যুবকের মৃত্যু
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
বিশ্ব শিশু দিবস ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের কর্মসূচিতে যা থাকছে
বিশ্ব শিশু দিবস ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের কর্মসূচিতে যা থাকছে
দেশের স্বাস্থ্যসেবা বিশ্বমানে উন্নীতে কাজ চলছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশের স্বাস্থ্যসেবা বিশ্বমানে উন্নীতে কাজ চলছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আসিফ-লগ্নজিতার প্রেমে পড়ার গল্প (ভিডিও)
আসিফ-লগ্নজিতার প্রেমে পড়ার গল্প (ভিডিও)
বৈষম্য ঘোচাতে চাকরি জাতীয়করণের দাবি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের
বৈষম্য ঘোচাতে চাকরি জাতীয়করণের দাবি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের
এ বিভাগের সর্বশেষ
চট্টগ্রামে আরেক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু
চট্টগ্রামে আরেক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু
হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী হাসপাতালে
হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী হাসপাতালে
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও ২৯ জন
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও ২৯ জন
কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত যুবকের মৃত্যু
কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত যুবকের মৃত্যু
হাসপাতালে একমাস ধরে আল্ট্রাসনোগ্রাম বন্ধ
হাসপাতালে একমাস ধরে আল্ট্রাসনোগ্রাম বন্ধ