রাঙামাটিতে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশুর মৃত্যু

রাঙামাটি প্রতিনিধি
২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ২২:১২আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ২২:১২

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার দুমদুম্যা ইউনিয়নে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুটির নাম গভীর চাকমা (৩)। সে দুমদুম্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অনিল চাকমার ছেলে।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা চিকিৎসক অনন্যা চাকমা। এর আগে রবিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে শিশুটির মৃত্যু হয়।

অনন্যা চাকমা বলেন, ‘ম্যালেরিয়ায় এক শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। শিশুটি দীর্ঘদিন ভারতের বগাখালীতে থাকতো। সেখান থেকে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে আসার পর পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্ত হয়। শনিবার চিকিৎসা শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশুটি মারা যায়।’

জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় গত নভেম্বর মাসে ৮৫ ও ডিসেম্বর মাসে ৮৫ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী দুমদুম্যা ইউনিয়নে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী হওয়ায় জুরাছড়ি উপজেলার মানুষজন ভারতের বগাখালীতে আসা-যাওয়া করেন। সেখানে গিয়ে কয়েকদিন আগে শিশুটি জ্বরে আক্রান্ত হয়। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় সময়মতো চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় না। ফলে কেউ অসুস্থ হলে সময়তো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা যায় না।

বিলাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, গত নভেম্বরে ৩২ ও ডিসেম্বরে ২০ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন। এর মধ্যে উপজেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন ফারুয়া ও বড়থলিতে রোগীর সংখ্যা বেশি। দুর্গম ও সীমান্তবর্তী হওয়ায় সরকারি চিকিৎসা পাওয়া কষ্টকর। পাশাপাশি সচেতনতার অভাবে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। গত দুই মাসে উপজেলার লোকজন জ্বর ও কাঁশির চিকিৎসা নিতে কমিউনিটি ক্লিনিক ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে চিকিৎসা নিতে এলে পরীক্ষায় ম্যালেরিয়া শনাক্ত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত বর্ষা মৌসুমে জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল ও বিলাইছড়িতে ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু এবার বর্ষা মৌসুমের আগেই ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।

ব্র্যাক বিনামূল্যে যেসব মশারি দিয়েছিল তার কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে বলে মনে করছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা। তিনি বলেন, ‘একটি মশারির কার্যকারিতা থাকে তিন বছর। এ বছর নতুন করে মশারি দেওয়া হলে আগামী বছর রোগীর সংখ্যা কমবে।’

/এএম/
সম্পর্কিত
আদ দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ নাকি ত্রুটি সংশোধন, কী ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
ডাকবাংলোতে মা ও দুই শিশুসন্তানের লাশ, কীভাবে হলো মৃত্যু?
সর্বশেষ খবর
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী