X
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
১০ আশ্বিন ১৪২৯

একসঙ্গে ৪ সন্তানের জন্ম, দুশ্চিন্তায় বাবা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
১৭ আগস্ট ২০২২, ২২:২৭আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২২, ২২:২৭

একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম হওয়ায় খুশি হয়েছেন বাবা-মা। কিন্তু জন্মের সময় সন্তানদের ওজন কম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাবা। বর্তমানে চার সন্তানকে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের এনআইসিইউতে রেখে চিকিৎসা করাচ্ছেন। এ অবস্থায় চিকিৎসা খরচ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র বাবা দেবদুলাল চন্দ্র বর্মণ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের লক্ষ্মীপুরা এলাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন দেবদুলাল। রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের পাঠকশিকড় গ্রামে তার বাড়ি। ২০২০ সালের ১৩ আগস্ট কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার থানগাঁও গ্রামের দিপ্তী রানীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আর কোনও সন্তান নেই। 

দেবদুলাল চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় কুমিল্লার চান্দিনা মেডিকেয়ার হাসপাতালে আমার স্ত্রী একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম দেয়। প্রথম দুজন মেয়ে ও পরের দুজন ছেলেসন্তান। সন্তানদের মা দিপ্তী রানী সরকার সুস্থ অবস্থায় ওই হাসপাতালে ভর্তি আছে। জন্মের পরই চার সন্তানের ওজন কম হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য এনআইসিইউতে ভর্তির পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও সন্তানদের ভর্তি করাতে পারিনি। এনআইসিইউর বেড সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে ভালো হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ পাইনি।’ 

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের এনআইসিইউতে সন্তানদের ভর্তি করি। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চার সন্তানের জন্য প্রতিদিন চিকিৎসা বাবদ ৩২ হাজার টাকা খরচ হবে। কিন্তু এত টাকা আমি কোথায় পাবো? আমি সামান্য একজন পোশাকশ্রমিক। গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অপারেটর হিসেবে চাকরি করি। চার সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগানোর সামর্থ্য আমার নেই। এ পর্যন্ত আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে হাসপাতালের প্রতিদিনের খরচ কীভাবে জোগাড় করবো বুঝতেছি না। কেউ সহায়তার হাত বাড়িয়ে না দিলে চিকিৎসা করানো সম্ভব হবে না। চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পারলে সন্তানদের বাড়ি নিয়ে যাবো। চিকিৎসা ছাড়া যদি বাঁচে তাহলে বাঁচবে, না হলে বাবা হিসেবে আমার কিছু করার থাকবে না। কারণ হাসপাতালের প্রতিদিনের খরচ জোগান দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’ 

দেবদুলাল আরও বলেন, ‘আমি ও চার সন্তান এক হাসপাতালে, অন্যদিকে স্ত্রী কুমিল্লার হাসপাতালে। ওই খরচও আমাকে বহন করতে হবে। সবমিলিয়ে আমি এখন দিশেহারা।’ 

দেবদুলাল চন্দ্র বর্মণের বড়ভাই সাধন চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন যে খরচের কথা বলেছেন, তা আমাদের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। টাকা জোগাড় করতে না পারায় চার সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে চাচ্ছি আমরা। কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চার সন্তানের মধ্যে দুজনের অবস্থা খুবই খারাপ। আরও কিছুদিন হাসপাতালে রাখতে হবে। কিন্তু হাসপাতালের খরচ কীভাবে জোগাড় করবো, কোনও উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।’

বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের কনসালট্যান্ট চিকিৎসক মো. মজিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একসঙ্গে জন্ম নেওয়া চার সন্তানের ওজন কম। সম্ভবত সাড়ে সাত মাসের মধ্যে তাদের ডেলিভারি হয়েছে। চার সন্তানই প্রি-ম্যাচিওর। এই সময়ে নানা জটিলতা দেখা দেয়। প্রথমত শ্বাসকষ্ট, আরডিএস, কান্না করতে না পারা, তাপমাত্রা ধরে রাখতে না পারাসহ নানা জটিলতা দেখা যায়। এজন্য তাদের এনআইসিইউতে রাখা হয়েছে। তবে এটা সত্য এনআইসিইউর চিকিৎসা ব্যয়বহুল।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘চার সন্তানকে নিয়ে তার বাবা রাজধানীর অনেক হাসপাতালে ভর্তির জন্য ঘুরেছেন। সবশেষ আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা বাবদ অনেক টাকা খরচ হতো। মানবিক দিক বিবেচনা করে কম খরচে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি আমরা। প্রতিদিন চার সন্তানের চিকিৎসা খরচ বাবদ ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকার কথা বলেছি। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব আমরা ছাড় দেবো।’

হাসপাতালের খরচের গরমিলের ব্যাপারে জানতে চাইলে দেবদুলাল চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তির সময় প্রত্যেক সন্তানের চিকিৎসা খরচ বাবদ আট হাজার টাকা করে আসবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। সে হিসাবে ৩২ হাজার টাকা খরচের কথা জানানো হয়েছিল আমাদের। এখন কেন চিকিৎসক কম বলছেন, তা আমার জানা নেই। সাংবাদিক আসার খবর শুনে এখন তারা চিকিৎসা খরচ কম বলতেছেন। কিন্তু আমাদেরকে দিনে ৩২ হাজারের হিসাব দিয়েছেন তারা।’

/এএম/
সম্পর্কিত
‘আমারে একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দেন’
‘আমারে একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দেন’
বৃদ্ধকে সড়কে ফেলে গেলো পরিবার, দায়িত্ব নিলেন ওসি
বৃদ্ধকে সড়কে ফেলে গেলো পরিবার, দায়িত্ব নিলেন ওসি
ফেসবুকে নারীর আবেদন, ডেকে সহায়তা দিলেন পুলিশ কমিশনার
ফেসবুকে নারীর আবেদন, ডেকে সহায়তা দিলেন পুলিশ কমিশনার
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির বাঁচতে চান
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির বাঁচতে চান
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
অপারেশন থিয়েটারে ২ চিকিৎসকের হাতাহাতি 
অপারেশন থিয়েটারে ২ চিকিৎসকের হাতাহাতি 
শুরুতে সাজঘরে সাব্বির-লিটন
শুরুতে সাজঘরে সাব্বির-লিটন
‘ডায়বেটিস আক্রান্তদের বছরে একবার রেটিনা পরীক্ষা দরকার'
‘ডায়বেটিস আক্রান্তদের বছরে একবার রেটিনা পরীক্ষা দরকার'
ইভিএমে রাতে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই: কমিশনার আলমগীর
ইভিএমে রাতে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই: কমিশনার আলমগীর
এ বিভাগের সর্বশেষ
‘আমারে একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দেন’
‘আমারে একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দেন’
বৃদ্ধকে সড়কে ফেলে গেলো পরিবার, দায়িত্ব নিলেন ওসি
বৃদ্ধকে সড়কে ফেলে গেলো পরিবার, দায়িত্ব নিলেন ওসি
ফেসবুকে নারীর আবেদন, ডেকে সহায়তা দিলেন পুলিশ কমিশনার
ফেসবুকে নারীর আবেদন, ডেকে সহায়তা দিলেন পুলিশ কমিশনার
‘নতুনভাবে বাঁচতে তাদের প্রেরণা জুগিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’
‘নতুনভাবে বাঁচতে তাদের প্রেরণা জুগিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’
১০ বছর ধরে শিকলে বাঁধা জীবন খুদেজার
১০ বছর ধরে শিকলে বাঁধা জীবন খুদেজার