X
বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ঝুলে আছে বিএনপি, তৃণমূলের চ্যালেঞ্জে কেন্দ্র

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১৭:০৯আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২০:১১

৪৮১টি উপজেলায় চার ধাপে অনুষ্ঠেয় উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন সোমবার (১৫ এপ্রিল)। সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কোথাও কোথাও আবার কেন্দ্রের বার্তার অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিএনপি। এখনও দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের কোনও খবর মেলেনি। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীকে প্রার্থিতা না দেওয়ায় বিএনপির মধ্যে বিষয়টির চাপ রয়েছে। এক্ষেত্রে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না করায় সাধারণ নেতাকর্মীরাও আগ্রহী হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি দলের অনেক নেতার বক্তব্যে উঠে এসেছে। কেউ কেউ বহিষ্কারের কথাও উল্লেখ করেছেন। 

দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের ভাষ্য, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে গেলে বহিষ্কার নিয়ে ঝুঁকিতে পড়বে দল। এক্ষেত্রে শীর্ষ নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন।

স্থায়ী কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের কেউ কেউ জানান, দলের একটি অংশ নির্বাচনের পক্ষে, অন্য একটি পক্ষ বিপক্ষে। এক্ষেত্রে যারা নির্বাচনের পক্ষে তারা এখনও মুখ খুলছেন না। আর যারা নির্বাচনে অনীহা দেখাচ্ছেন, তাদের মধ্যে ভিন্ন একটি কারণ থাকতে পারে। 

কেন্দ্রীয় একজন নেতার ভাষ্য, ‘বিএনপির রাজনীতিতে বহিষ্কারের একটি আর্থিক রাজনীতি আছে। এতে তদবির বাড়ে, আয়ও বাড়ে।’

রবিবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির একজন নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখনও স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। গত দুটি বৈঠক হয়নি। হয়তো এই সপ্তাহে হতে পারে।’

জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলের সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। হলে জানা যাবে।’

চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে তৃণমূল, নেতাদের মুখে বহিষ্কারের হুমকি

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান যেমন অস্পষ্ট, তেমনি তৃণমূলের মধ্যেও রয়েছে বিভ্রান্তি। আগ্রহী নেতাকর্মীরা নির্বাচনের বিষয়ে ইতিবাচক থাকলেও যারা কমিটির শীর্ষ পদে রয়েছেন, তারা সরাসরি নির্বাচনের বিপক্ষে মত দিচ্ছেন। এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রার্থিতার খবর পাওয়া গেছে। 

বাংলা ট্রিবিউনের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি আতাউর রহমান জুয়েল জানান, ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণ যুবদলের সহসভাপতি মাজহারুল ইসলাম জুয়েল ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগে নেমেছেন। 

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে মাজহারুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙা রাখতে এবং তাদের সংঘবদ্ধ করতেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছি। যদিও কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচনের ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন অংশ নিলে বহিষ্কারও করতে পারে। বিষয়টি মাথায় রেখে ত্রিশাল উপজেলার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ করছি, তাদের সঙ্গে কথা বলছি। তবে জনগণ চায় আমি নির্বাচনে অংশ নিয়ে তাদের প্রতিনিধি হই।’

নির্বাচনে আগ্রহী ত্রিশাল উপজেলা বিএনপি নেতা আনোয়ার শাদাত বলেন, ‘আমার বাবা বিএনপি থেকে ত্রিশালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। আমার বাবার ইচ্ছা ছিল আমিও জনপ্রতিনিধি হই। তার ইচ্ছাতেই বিএনপির সঙ্গে আছি। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছি। এ ব্যাপারে জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। দলীয় সিদ্ধান্তে বহিষ্কার করলেও নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করে জনগণের সেবা করতে চাই। যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় কোনও প্রতীক থাকবে না, সেই বিবেচনা থেকে আমি নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।’

ত‌বে রা‌জিবপুর উপ‌জেলায় বিএন‌পির সম্ভাব্য প্রার্থী ও উপ‌জেলা‌ বিএন‌পির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ক‌বির ম‌নিরুজ্জামান ব‌লে‌ছেন, ‘জনসং‌যোগ ও প্রচারণা চা‌লি‌য়ে যা‌চ্ছি। দলীয় সিদ্ধান্ত পে‌লে নির্বাচন কর‌বো। না পে‌লে কর‌বো না।’

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বিষয়ে ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এম এ হান্নান বলেন, ‘বিএনপি বৃহৎ আকারে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত আছে। সফলতা না আসা পর্যন্ত আন্দোলনে থাকবে। যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি, সেহেতু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তবে দলের বাইরে গিয়ে অনেক নেতাকর্মী নির্বাচন করবে এমনটাই শোনা যাচ্ছে।’

বাংলা ট্রিবিউনের খুলনা প্রতিনিধি হেদায়েৎ হোসেন জানান, ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে তৎপরতা চালাচ্ছেন বিএনপির তিন নেতা। ডুমুরিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে আগ্রহী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান। একই পদের জন্য গণসংযোগ করছেন জেলা বিএনপি নেতা মোল্লা আবুল কাশেমের ছেলে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মুনিবুর রহমান নয়ন। 

মুনিবুর রহমান নয়ন বলেন, ‌‘উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে গণসংযোগ শেষ করেছি। প্রতিটি ইউনিয়নে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। দল যদি নির্বাচনের বিষয়ে নমনীয় থাকে, তাহলে প্রার্থী হবো।’

ফুলতলা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে আগ্রহী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাব্বির হোসেন রানা। তিনি বলেন, ‘ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছি। দল নির্বাচনে গেলে অথবা এ বিষয়ে নীরব থাকলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো।’

খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, ‘বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে না। এখন কেউ ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থী হলে দলের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শফিকুল আলম মনার ভাষ্য, ‘বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না। বিএনপির কেউ এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গেলে দল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যশোরের কোনও উপজেলায় বিএনপির কোনও প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন না বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম।

জেলার শীর্ষ নেতারা বলেছেন, এই সরকারের আমলে কোনও নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না। জনবিচ্ছিন্ন এই সরকারের পাতানো নির্বাচনে অংশ নেওয়া মানেই টাকার শ্রাদ্ধ, সময় নষ্ট আর রাজনৈতিকভাবে নিজের ক্ষতি ডেকে আনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা থেকে বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের সিদ্দিকী আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য দৃশ্যমান কিছুই করেননি।

জেলা বিএনপি জানায়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বেশ আগেই আবু তাহের সিদ্দিকীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি নির্বাচন করবেন কি করবেন না, সেটি তার ব্যাপার। এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানালেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম।

জানতে চাইলে কেশবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মশিয়ার রহমান বলেন, ‌‘কেশবপুরে দলের কোনও নেতাকর্মী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। দলের কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচন বিষয়ে এখনও পর্যন্ত না করার পক্ষেই।’ 

বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি তৌহিদ জামানকে নার্গিস বেগম বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে বিএনপি কোনও নির্বাচন এই অংশ নেবে না। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ যদি নির্বাচনে অংশ নেয়, দল অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন বিএনপির কিছু নেতাকর্মী কিছু না জানিয়ে গোপনে নির্বাচন করে। গত পৌরসভা নির্বাচনে চুপিচুপি নির্বাচন করেছিল। আমরা কিছু বললে আমাদের কাছে বিষয়টি এড়িয়ে যায়। তবে আমার কাছে উপজেলা নির্বাচনটি জরুরি মনে হয় না। কারণ উপজেলায় তেমন কিছুই নেই।’

বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি সুমিত সরকার সুমনকে মুন্সিগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মাহবুব আলম স্বপন বলেন, ‘বিএনপির কোনও নেতাকর্মী এই উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে না। কারণ এই সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে পারে না এবং কেউ আশাও করে না।’

বগুড়া জেলা বিএন‌পির সভাপ‌তি রেজাউল ক‌রিম বাদশা ব‌লেন, ‘এই সরকা‌রের অধী‌নে কখনও নির‌পেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই বি‌এন‌পি উপ‌জেলা নির্বাচ‌নে অংশ নেবে না। কেউ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ক‌রে নির্বাচ‌নে অংশ নি‌লে তা‌কে আজীব‌নের জন্য দল থে‌কে ব‌হিষ্কার করা হ‌বে।’

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি, আর করবেও না।’ উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে দলের কেউ অংশ নিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

দলের সিদ্ধান্ত না মেনে নির্বাচনে কেউ অংশগ্রহণ করলে দল কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে বলে জানান সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি যারা করেন, তারা দলকে ভালোবাসেন বলেই অতীতের মতো এবারের উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে না।’ 

একই কথা বলেছেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন। তিনি বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না। এটা কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই নির্বাচন কমিশন ভোটারদের ভোট দেওয়ার অধিকার রাখে না। তাই এই নির্বাচনে রাজশাহী বিএনপির কেউ অংশগ্রহণ করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাচন প্রহসনের হবে। সেইসঙ্গে ভোটারবিহীন নির্বাচন হবে।’

কুমিল্লার বরুড়া পৌরসভার সাবেক দুবারের মেয়র ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে অটুট। কেন্দ্র অবশ্যই ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা এই সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচনে অংশ নেবো না। স্থানীয় নেতাকর্মীরা এসব বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন। তারা চায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি সরকার। যার মাধ্যমে দেশে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন হবে। এছাড়া আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি না। যারা যাচ্ছেন তারা বহিষ্কার হবেন। তাদের সঙ্গে দেশের জনগণের ও বিএনপির কোনও সম্পর্ক নেই। বিএনপির যারা সাধারণ কর্মী-সমর্থক আছেন, তারাও এই নির্বাচন বয়কট করেছেন। কাজেই যারা সত্যিকারের বিএনপি বা জনগণকে ভালোবাসেন, এমন কেউ এই একদলীয় সরকারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না।’ 

বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল মারুফকে বিএনপির কুমিল্লা মহানগরের সদস্য সচিব ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‌‘নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে দেখার মতো কিছুই নেই। তৃণমূল নেতাকর্মীরা এসব নির্বাচনে যেতে চায় না। কারণ এর আগেও ডামি নির্বাচন করে দেশের জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে এই নির্বাচন কমিশন। যারা নির্বাচনে যাবে জনগণ তাদের বয়কট করবে। আর বিএনপি পদধারী নেতাদের পদচ্যুত করতে পারে। কারণ, যারা এই তামাশার নির্বাচনে অংশ নেবে, তারা নিজেরাও জনগণের সঙ্গে তামাশা করছে।’

টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলায় দলের শীর্ষ পদে থাকা বিএনপির একাধিক নেতা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। নির্দেশনা অমান্য করায় তাদের ওই সময় বহিষ্কার করা হয়। এবারও জেলার কয়েকটি উপজেলায় বিএনপির একাধিক নেতা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য ইচ্ছা পোষণ করেছেন। অনেকে নির্বাচনি মাঠে কাজ শুরু করেছেন। তবে এসব প্রার্থী ব্যক্তি জনপ্রিয়তার কারণে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এতে এবার আরও কঠোর হচ্ছে বিএনপি। কেউ দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আসছে বলে জানালেন জেলার শীর্ষ নেতারা। 

বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি এনায়েত করিম বিজয়কে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, ‌‘দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনও নেতা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। যেহেতু জাতীয় নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করিনি, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশও নেই। যদি কোনও নেতাকর্মী দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করে তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন জরুরি নয়, কারণ আমরা জাতীয় নির্বাচনেই অংশগ্রহণ করিনি। সাধারণ কর্মীরাও দেশের পরিস্থিতি দেখে নির্বাচন চাচ্ছে না। দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিলে আমরা নির্বাচনে যাবো।’

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন, ‘এখন আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগই নির্বাচন করছে। তাদের আওয়ামী লীগের মধ্যে যে প্রার্থী পছন্দ হচ্ছে তাকেই জিতাচ্ছে। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই। সাধারণ কর্মীরাও নির্বাচনে যেতে যায় না। এই সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। এবার দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’

/এসটিএস/এএম/এমওএফ/
সম্পর্কিত
উপজেলায় কী পরিমাণ ভোট পড়লো জানালেন সিইসি, বললেন ‘সংস্কার প্রয়োজন’
মোংলায় জামানত হারালেন ৪ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী বায়জিদ
সর্বশেষ খবর
কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দির মৃত্যু
কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দির মৃত্যু
কোথায় বৃষ্টি হবে, গরম কি কমবে?
কোথায় বৃষ্টি হবে, গরম কি কমবে?
মায়ামিতেই ক্যারিয়ার শেষ করবেন মেসি 
মায়ামিতেই ক্যারিয়ার শেষ করবেন মেসি 
সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভারতীয় নাগরিকসহ ৩ জন নিহত
সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভারতীয় নাগরিকসহ ৩ জন নিহত
সর্বাধিক পঠিত
অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, আমরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করি: ডোনাল্ড লু
অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, আমরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করি: ডোনাল্ড লু
কাঁপছে সেন্টমার্টিন, আকাশে উড়ছে যুদ্ধবিমান
কাঁপছে সেন্টমার্টিন, আকাশে উড়ছে যুদ্ধবিমান
‘কমিশনার ১৭০ কোটি টাকা মাফ করে দেন, এনবিআরের চেয়ারম্যান কোথায়?’
‘কমিশনার ১৭০ কোটি টাকা মাফ করে দেন, এনবিআরের চেয়ারম্যান কোথায়?’
‘বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে শ্রমিক নিতে আগ্রহী ইউরোপ’
‘বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে শ্রমিক নিতে আগ্রহী ইউরোপ’
সীমান্তে গুলি চালাতে পারে বিএসএফ, সতর্ক করে বিজিবির মাইকিং
সীমান্তে গুলি চালাতে পারে বিএসএফ, সতর্ক করে বিজিবির মাইকিং