বন্যায় তলিয়ে গেছে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর ফসলি জমি

Send
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২:৪৫, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪৮, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

পানিতে তলিয়ে গেছে ধান খেত (প্রতীকী ছবি)উজান থেকে নেমে আসা পানিতে নাটোরে বন্যা পরিস্থির চরম অবনতি হয়েছে। ইতোমধ্যেই ডুবে গেছে দুই হাজার ৯৬৪ হেক্টর জমির ফসল। কৃষি বিভাগ বলছে, বন্যার এই পানি নামতে দেরি হলে রবি ফসল বিলম্বিত হবে। অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, এই বন্যার পানিবৃদ্ধি গত ১৫ থেকে ২০ বছরের রেকর্ড অতিক্রম করেছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, সকাল থেকে নলডাঙ্গায় বারনই নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, সিংড়া পয়েন্টে আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ১০৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার জানান, চলমান বন্যায় জেলার সিংড়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। এর বাইরে নলডাঙ্গা ও গুরুদাসপুর উপজেলায় আংশিক ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় জেলায় মোট দুই হাজার ৯২৮ হেক্টর রোপা আমন ধান, ৩৪ হেক্টর সবজি ও দুই হেক্টর মাশকলাই ডুবে গেছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, চলমান বন্যায় শত শত পুকুর ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দ্রুতই ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা হবে।

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ইতোমধ্যেই মাধনগর, পিঁপরুল ও খাজুরা ইউনিয়ন পুরোটাই পানিবন্দী। অপরদিকে ব্রক্ষ্মপুর ইউনিয়নে আংশিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। উপজেলার ২২টি আশ্রয়কেন্দ্রে পানিবন্দী পরিবার আসতে শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৫০ মেট্রিক টন চাল চাওয়া হয়েছে। চাল আসলেই বন্যার্তদের দেওয়া হবে।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু জানান, শেরকোল, তাজপুর, কলম, লালোড় ও চামারী ইউনিয়ন ছাড়াও পৌর এলাকার সকল মানুষই পানিবন্দী। বাড়িঘরে পানি ওঠা ছাড়াও সকল রাস্তার ওপর দিয়েই পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ২৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৬৪২ পরিবার উঠেছে। বন্যার্ত পরিবারগুলোকে ২৫ টন চাল দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

/এনএস/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ