বগুড়া শহরের মাটিডালি এলাকায় আইএফআইসি ব্যাংকের উপশাখার সিন্দুক ভেঙে ২৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা চুরির ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছে থেকে ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং চুরির টাকায় কেনা একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী। তিনি বলেন, ‘আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।’
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বগুড়া সদর উপজেলার বড় টেংরা হারবালা আদর্শ গ্রামের মো. জাহিদুল ইসলাম (২৯), সোনাতলা উপজেলার দক্ষিণ আটকরিয়া গ্রামের মো. পাভেল (২৫), আদমদীঘি উপজেলার তালশন কুন্ডুপাড়ার বিপ্লব সরকার মিথুন ওরফে মিঠু (২৮) এবং গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার সিংড়িয়া গ্রামের বিমল রাজভর (৩০)। এর মধ্যে জাহিদুল এবং পাভেলের বিরুদ্ধে একটি করে চুরি ও মাদকের মামলা রয়েছে।
গত ১২ জুন রাতে শহরের মাটিডালি বিমান মোড় এলাকায় আইএফআইসি ব্যাংকের উপশাখার সিন্দুক ভেঙে ২৯ লাখ ৪০ হাজার ৬১৮ টাকা চুরি হয়। এ ঘটনায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক সদর থানায় মামলা করেন।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে পুলিশ সুপার বলেন, ‘চুরির মূল হোতা জাহিদুল ইসলাম। তাদের চার জনের সঙ্গে আরও একজন জড়িত ছিলেন; যিনি পলাতক আছেন। ঘটনার দিন রাত সোয়া ১২টার দিকে ওই পাঁচ জন মাটিডালি ব্রিজের কাছে একত্রিত হন। চুরির আগে একজন ব্যাংকের ওই ভবন রেকি করে আসেন। তার সবুজ সংকেত পেয়ে জাহিদুল একটি টায়ার লিভারসহ মিথুন ও পাভেলকে নিয়ে ভবনের ওপরে ওঠেন। সেখানে পেছন দিয়ে সিঁড়ি ঘরের তালা এবং ব্যাংকের প্রবেশ গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা ব্যাংকের সিন্দুক কেটে ২৯ লাখ ৪০ হাজার ৬১৮ টাকা চুরি করে পালিয়ে যান। এ ছাড়া ব্যাংকের বাইরে পাহারায় ছিলেন বিমল ও পলাতক আরেকজন; যারা নিজেদের পরিচয় লুকাতে মাস্ক ও পলিথিন দিয়ে মুখ ঢেকে রাখেন।’
চুরির টাকা ভাগাভাগি করে তারা আত্মগোপনে চলে যান উল্লেখ করে পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘চুরির টাকা দিয়ে জাহিদুল একটি মোটরসাইকেল কিনেছেন। প্রথমে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ও চুরির টাকায় কেনা মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপর তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে পাভেলের কাছ থেকে এক লাখ এক হাজার ৪৭০ টাকা, বিমলের কাছ থেকে দুই লাখ ৯৩ হাজার ২২০ টাকা এবং মিথুনের কাছ থেকে এক লাখ ৯১ হাজার ২৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত অপরজন এবং বাকি টাকা উদ্ধারের জন্য আসামিদের সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।’