X
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২
১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

কুড়িগ্রামে ৫ দিন ধরে এলপিজি বিক্রি বন্ধ, সমাধান কী?

আরিফুল ইসলাম রিগান, কুড়িগ্রাম
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:২৮আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৩২

সরকারের বেধে দেওয়া সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে গ্যাস বিক্রি করলে লোকসান হবে—এমন দাবি তুলে কুড়িগ্রামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রেখেছেন ডিলাররা। তাদের দাবি, সম্প্রতি সরকার যে মূল্য বেধে দিয়েছে তাতে সিলিন্ডারপ্রতি অন্তত ৫০ থেকে ৬০ টাকা লোকসান গুনতে হয়। দাম সমন্বয়ের দাবিতে ডাকা ডিলারদের ধর্মঘটে জেলাজুড়ে পাঁচ দিন ধরে এলপিজি গ্যাস সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রয়েছে। গ্যাস নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভোক্তারা। তবে সৃষ্ট সংকট নিরসনে তেমন কোনও উদ্যোগের খবর পাওয়া যায়নি।

তবে ডিলারদের এমন দাবিকে অনৈতিক জানিয়ে জেলা প্রশাসন বলছে, মূল্য সমন্বয়ের দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের নয়। এটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ। জেলা প্রশাসন শুধু সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং তা কার্যকরে নজরদারি করে থাকে। ভোক্তারা যাতে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য ক্রয় করতে পারেন সেটা নিশ্চিত করা জেলা প্রশাসনের কাজ।

গ্রাহকদের অবস্থা

ডিলারদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে জেলায় জ্বালানি গ্যাস সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন ভোক্তারা। বিশেষ করে যেসব গ্রাহকের জ্বালানি প্রয়োজন পুরোপুরি সিলিন্ডারের গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল তারা বিপাকে পড়েছেন। বিভিন্ন দোকান ঘুরেও তারা গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। গ্রাম পর্যায়ে দুই-একটি দোকানে খুচরা মূল্যে গ্যাস বিক্রি হলেও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অন্তত ১০০ টাকা বেশি দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে গ্যাস নিয়ে চলমান সংকট নিরসনে কে ব্যবস্থা নেবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

কুড়িগ্রাম শহরের হাসপাতাল মোড়ের খুচরা ব্যবসায়ী আদম আলী জানান, ডিলাররা গ্যাস দিচ্ছেন না। গত বুধবার সর্বশেষ ডিলারের কাছে এক হাজার ২৮০ টাকা করে সিলিন্ডার এনে এক হাজার ৩৪০ টাকায় বিক্রি করেছেন। কিন্তু সেগুলো বিক্রির পর আর গ্যাস পাচ্ছেন না।

আরও পড়ুন: বেশি দামের দাবিতে কু‌ড়িগ্রামে এলপিজি বি‌ক্রি বন্ধ

তিনি বলেন, ‘ডিলাররের বিক্রয় প্রতিনিধিদের মোবাইল ফোনে কল করলে রিসিভি করছেন না। আমার নিজের বাড়িতেও গ্যাস নেই। বাড়ির রান্নার গ্যাসও পাচ্ছি না।’

একই মোড়ের ভাই ভাই হোটেলের মালিক সুমন ইসলাম বলেন, ‘গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। গত রবিবার রাতে ভোকেশনাল মোড়ের একটি দোকান থেকে দেড় হাজার টাকা দিয়ে একটি সিলিন্ডার আনতে হয়েছে।’ তবে এই সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হলে কীভাবে হোটেলের জ্বালানি চাহিদা মেটাবেন তা নিয়ে চিন্তিত তিনি।

জেলাজুড়ে একই ধরনের সংকটের খবর পাওয়া গেছে। রাজারহাট উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের ফরকেরহাট এলাকার রফিক নামে এক গ্যাস ব্যবহারকারী জানান, ফরকেরহাট বাজারেও সিলিন্ডারে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। দুই-একটি দোকানে পাওয়া গেলেও দাম নেওয়া হচ্ছে এক হাজার ৩৫০ টাকা।

রফিক বলেন, ‘এখন গ্রামের অনেক পরিবার গ্যাস ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু যাদের বাড়িতে গ্যাস শেষ হয়েছে তারা গ্যাস কিনতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। দোকানদাররা বলছেন, ডিলাররা নাকি গ্যাস বিক্রি করছেন না, তাদেরকেও বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।’

জেলা শহরের ত্রিমোহনী বাজারের চিকিৎসক মুকুল হোসেন বলেন, ‘আমার বাড়িতে গ্যাস শেষ হয়েছে। শহরের কোথাও গ্যাসের সিলিন্ডার পাইনি। অথচ সব ডিলারের ঘরেই গ্যাস মজুত আছে। নতুন দামে গ্যাস বিক্রি করলে তাদের নাকি লোকসান হয়। সরকার নির্ধারিত মূল্য সমন্বয় না করা পর্যন্ত তারা গ্যাস বিক্রি করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন।’

ডিলাররা যা বলছেন

জেলার একাধিক গ্যাস ডিলারের সঙ্গে কথা বলে গ্রাহকদের এসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। ডিলাররা বলছেন, সরকার এলপিজি গ্যাসের মূল্য সিলিন্ডার প্রতি ১৬ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ২৩৫ টাকা করেছে। কিন্তু এর চেয়ে অন্তত ৫০-৬০ টাকা বেশি দিয়ে তাদেরকে কোম্পানি থেকে সিলিন্ডার কিনতে হয়। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি করলে তাদের লোকসান গুনতে হয়। মূল্য সমন্বয় না করলে তারা গ্যাস বিক্রি করবেন না।

ওমেরা গ্যাস ডিলারের প্রতিনিধি আমান রুবেল বলেন, ‘পাশের জেলার ডিলাররা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন। তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে মূল্য সমন্বয় করে এমনটা করছেন। আমরা করতে চাইলে জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমরা তো লোকসান করে ব্যবসা করতে পারবো না। এজন্য পুরাতন কিছু গ্যাস থাকলেও তা বিক্রি বন্ধ রেখেছি। নতুন করে আর গ্যাস তুলছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘লোকসান পুষিয়ে নিতে আমরা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কিছু বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছিলাম। কিন্তু জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকারের অভিযানে আমাদের কয়েকজন ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাকে জরিমানা করা হয়েছে। এরপর আমাদের কয়েকজনের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে মূল্য সমন্বয়ের দাবিতে বর্ধিত মূল্যে গ্যাস বিক্রির অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু জেলা প্রশাসক সে অনুমতি দেননি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা গত শুক্রবার থেকে ধর্মঘট পালন করছি।’

একই কথা বলেন জেলায় যমুনা গ্যাস ডিলার বদরুল আহসান মামুন। তিনি বলেন, ‘সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সেই মূল্যে গ্যাস বিক্রি করলে আমাদের লোকসান গুনতে হয়। আমরাতো লোকসান করে ব্যবসা করবো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করেছিলাম, কিছু বেশি দামে বিক্রির অনুমতি দিতে। কিন্তু তিনি অনুমতি দেননি। বাধ্য হয়ে আমরা গ্যাস বিক্রি বন্ধ রেখেছি। নতুন করে গ্যাসও তুলছি না। মূল্য সমন্বয় না করলে গ্যাস বিক্রি করা সম্ভব নয়।’

সমাধান কী?

ডিলাররা মূল্য সমন্বয়ের দাবি জানালেও জেলা প্রশাসন বলছে, সেটা তাদের কাজ নয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ। ফলে ডিলারদের এমন দাবি জেলা প্রশাসনের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তাহলে সমাধান কী? 

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘ধর্মঘট বা গ্যাস বিক্রি বন্ধ রাখা সমস্যার সমাধান হতে পারে না। ব্যবসায়ীদের নৈতিকভাবে ব্যবসা করা উচিত। ডেপুটি কমিশনার কি মূল্য সমন্বয়ের মালিক? বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এটা সমন্বয় করবে। সে জায়গায় তারা কথা বলবেন। সেখান থেকে অনুমতি পেলে সেই মূল্যে বিক্রি করবেন।’

গ্যাস ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এটা মানুষকে জিম্মি করার অবস্থা। এটা কোনোভাবে ঠিক না। কোনও জেলায় কোনও অসুবিধা নেই। তারা (ডিলাররা) কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে হবে?’

/এসএইচ/
লুসাইলে ম্যারাডোনাকে স্পর্শ করলেন মেসি
লুসাইলে ম্যারাডোনাকে স্পর্শ করলেন মেসি
প্রস্থানের দুই বছর: শিল্পকলায় অবিনশ্বর আলী যাকের
মৃত্যুদিনে স্মরণপ্রস্থানের দুই বছর: শিল্পকলায় অবিনশ্বর আলী যাকের
পূর্ণ সক্ষমতায় ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাচ্ছে রামপাল
পূর্ণ সক্ষমতায় ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাচ্ছে রামপাল
এমবাপ্পের জোড়া গোলে নকআউটে ফ্রান্স
এমবাপ্পের জোড়া গোলে নকআউটে ফ্রান্স
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব কমবে ৪০ কিমি
ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব কমবে ৪০ কিমি
পোল্যান্ডের জয়ে আরও চাপে মেসিরা
পোল্যান্ডের জয়ে আরও চাপে মেসিরা
ম্যাজিস্ট্রেটের মামলায় কারাগারে স্বামী
ম্যাজিস্ট্রেটের মামলায় কারাগারে স্বামী
ইউক্রেন ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলো ন্যাটো
ইউক্রেন ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলো ন্যাটো
কুমিল্লার সমাবেশস্থলে হারানো ফোনের সন্ধান দিলে পুরস্কার ২০ হাজার
কুমিল্লার সমাবেশস্থলে হারানো ফোনের সন্ধান দিলে পুরস্কার ২০ হাজার