গৃহিণী থেকে সফল উদ্যোক্তা তাসলিমা

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৯:০০আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৯:০০

কেঁচো সার উৎপাদন করে গৃহিণী থেকে সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের তাসলিমা নাসরিন। ছোট পরিসরে শুরু করলেও তার খামারটি এখন বাণিজ্যিক খামারে রূপ নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন তিনি।

তাসলিমা নাসরিন জানিয়েছেন, উপজেলার মালদহ গ্রামের এক কীটনাশক কোম্পানির মাঠকর্মীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্বামীর আয়ে ঠিকমতো সংসার চলছিল না। অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। স্নাতক পাস করে স্থানীয় কৃষি সমিতির সঙ্গে যুক্ত হন। সমিতির মাধ্যমে উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেন। ২০১৯ সালে নিজের গৃহপালিত গরুর গোবর ও বিদেশি কেঁচো কিনে বাড়ির উঠানে ১৪টি রিং বসিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেন। পরে উৎপাদিত সার স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করেন। ওই সারে ভালো ফলন হওয়ায় বেড়ে যায় চাহিদা। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে উৎপাদন। এখন তার খামারে ১৩০টি রিংয়ে উৎপাদন হয় কেঁচো সার। 

শুরুর দিকে খামারে একা কাজ করলেও এখন দুজন শ্রমিক কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন তাসলিমা নাসরিন। তিনি বলেন, ‘প্রতি মাসে খামারে ১০-১২ কেজি কেঁচো ও ২০-২৫ মণ সার উৎপাদন হচ্ছে। কেঁচো ও সার বিক্রি করে সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা আয় হয়। এই আয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে। এখন ভালোভাবেই চলছে সংসার।’

প্যাকেটজাত করে সার বিক্রির অনুমতি না পাওয়ায় খামারের পরিধি বাড়াতে পারছি না উল্লেখ করে এই নারী উদ্যোক্তা বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ প্যাকেটজাত করে বিক্রির অনুমতি দিলে উৎপাদন বাড়াতে পারতাম। খামারটি আরও বড় করে অনেক বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারতাম।’

ছোট পরিসরে শুরু করলেও তাসলিমার খামারটি এখন বাণিজ্যিক খামারে রূপ নিয়েছে

ওই গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, ‌‘গত দুই বছর ধরে তাসলিমার তৈরি সার কিনে ক্ষেতে প্রয়োগ করে ভালো ফলন পাচ্ছি। এলাকার অনেক কৃষক এখন তাসলিমার তৈরি সার প্রয়োগ করে চাষাবাদ করছেন। এতে ভালো ফলন হচ্ছে সবার। এজন্য দিন দিন তার সারের চাহিদা বাড়ছে।’  

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘তাসলিমা নাসরিনের উৎপাদিত সার ও কেঁচো আশপাশের উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলায় বিক্রি হয়। ক্রেতারা খামারে এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তার সাফল্যে আশপাশের অনেক নারী সার উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।’

তাসলিমার মতো উপজেলার বেশ কিছু উদ্যোক্তা কেঁচো সার উৎপাদন করছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার। তিনি বলেন, ‘ক্ষেতে কেঁচো সার প্রয়োগে যেকোনো ফসলের ফলন ভালো হয়। ফসলের রোগবালাই কম হয়। মাটির গুণাগুণ বেড়ে যায়। ফলে কৃষি অফিস থেকে উদ্যোক্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি আমরা। তাসলিমা তার খামারের লাইসেন্স পেতে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে সহযোগিতা করবো আমরা।’

/এএম/
সম্পর্কিত
কাঁচামাল সংকটে বন্ধ দেশের একমাত্র সরকারি সার কারখানা
চট্টগ্রামে বন্যাভেসে গেছে মাছ ভেঙেছে সড়ক, ক্ষতি ১৫০ কোটি
২ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের ২২৬ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ করলো সরকার
সর্বশেষ খবর
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের পাশে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসকেরা
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের পাশে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসকেরা
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যানসহ দুই জন রিমান্ডে
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যানসহ দুই জন রিমান্ডে
শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশনে বিজেপি ও শরিকদের অস্বস্তি
শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশনে বিজেপি ও শরিকদের অস্বস্তি
জেনার সঙ্গে জড়িত প্রমাণ হলে এমপির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক: হারুনুর রশিদ
জেনার সঙ্গে জড়িত প্রমাণ হলে এমপির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক: হারুনুর রশিদ
সর্বাধিক পঠিত
আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ভাইরাল, সেই রুনা ডিবির হাতে গ্রেফতার
আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ভাইরাল, সেই রুনা ডিবির হাতে গ্রেফতার
জামায়াত এমপির বিয়ে আর কাবিনের গোমর ফাঁস করে দিলেন কাজী
জামায়াত এমপির বিয়ে আর কাবিনের গোমর ফাঁস করে দিলেন কাজী
গুজবে তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ট্যাংকি ভর্তি করার হিড়িক, প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি
গুজবে তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ট্যাংকি ভর্তি করার হিড়িক, প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি
চাকরি হারালেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা, গ্রেফতারে চলছে অভিযান
চাকরি হারালেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা, গ্রেফতারে চলছে অভিযান
আত্মগোপনে আছি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জীবনের নিরাপত্তা চাই: জামায়াত এমপির ড্রাইভার
আত্মগোপনে আছি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জীবনের নিরাপত্তা চাই: জামায়াত এমপির ড্রাইভার