ক্যানসারের রোগীর শেষ ইচ্ছায় চিকিৎসা ঋণ পরিশোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ নভেম্বর ২০২৩, ১১:১৫আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৩, ১১:১৫

ওভারিয়ান ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকা ক্যাসি ম্যাকিনটায়ার এমন একটি পরিকল্পনা করে গেছেন যার ফলে তার মৃত্যু অপরিচিত রোগীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। তার পরিকল্পনাতেই ১ লাখ ৭০ হাজার ডলারের তহবিল সংগ্রহ হয়েছে। যা দিয়ে অপর রোগীদের ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার বকেয়া বা অপরিশোধিত চিকিৎসা ব্যয় মেটানো যাবে। ব্রিটিশ  সংবাদমাধ্যম  বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।

নিউ ইয়র্ক সিটির এই নারী পেশায় ছিলেন বইয়ের প্রকাশক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর পর একটি পোস্ট প্রকাশের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। ওই পোস্টে রোগীদের জন্য ফলোয়ারদের অনুদান চেয়েছিলেন ৩৮ বছর বয়সী এই নারী। তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন, নিজের জীবনকে উদযাপনের অংশ হিসেবে অপর মানুষের চিকিৎসা বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

ক্যাসি ম্যাকিনটায়ার লিখেছেন, আপনারা যদি আমার এই পোস্ট পড়ে থাকেন তাহলে আমি পরপারে চলে গেছি। আমি আপনাদের সবাইকে আমার অন্তর দিয়ে ভালোবাসি। আমি জানি আপনারা আমাকে কতটা গভীরভাবে ভালোবাসতেন।

ম্যাকিনটায়ার লিখেছেন, ওভারিয়ান ক্যানসারের চতুর্থ ধাপে এসে অত্যাধুনিক চিকিৎসা পাওয়াতে তিনি খুব ভাগ্যবান। জীবনের অন্তিম মুহূর্তে এসে তিনি প্রত্যাশা করেন, সবাই যেন এমন চিকিৎসা সেবা পান।

শনিবার পর্যন্ত মাকিটায়ার ও তার পরিবার অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আরআইপি মেডিক্যাল ডেব্ট নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১ লাখ ৭০ হাজার ডলার সংগ্রহ করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতি পেনি দিয়ে এক ডলার চিকিৎসা বকেয়া পরিশোধ করে। এর অর্থ হলো ম্যাকিনটায়ারের উদ্যোগের ফলে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার বকেয়া পরিশোধে সক্ষম হয়েছেন।

আরআইপি মেডিক্যাল ডেব্ট-এর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, চিকিৎসার মূল খরচের আংশিক মূল্যের বিনিময়ে তারা কোটি ডলারের বকেয়া পরিশোধের দায়িত্ব নেয়। গড়ে যে পরিমাণ অর্থ দান করা হয় সেটির প্রভাব পড়ে ১০০ গুণ।

২০১৯ সালে ম্যাকিনটায়ারের ক্যানসারের চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। রবিবার (১৩ নভেম্বর) তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে স্বামী ও ১৮ মাসের এক মেয়েকে রেখে গেছেন তিনি।

অলাভজনক প্রতিষ্ঠান কেএফএফ-এর স্বাস্থ্য গবেষণার তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের দশ কোটি মানুষ বকেয়ো চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধ করতে জটিলতায় পড়েন।

/এসএইচএম/
সম্পর্কিত
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
সর্বশেষ খবর
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী