থাইল্যান্ডে মাসের পর মাস স্বল্প খরচে ভ্রমণ করার পরিকল্পনা এখন অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পর্যটকদের অপব্যবহার ও খারাপ আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে বিশ্বের ৯৩টি দেশ ও অঞ্চলের নাগরিকদের জন্য ৬০ দিনের বিনা ভিসায় (ভিসা-মুক্ত) প্রবেশের সুবিধা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি। মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের পর্যটকরা এখন ৬০ দিনের পরিবর্তে মাত্র ৩০ দিন বিনা ভিসায় থাইল্যান্ডে অবস্থানের অনুমতি পাবেন। এ ছাড়া কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের এখন থেকে দেশটিতে পৌঁছানোর পর অন-অ্যারাইভাল ভিসা সংগ্রহ করতে হবে।
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা পর্যটন শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এরপর পর্যটকদের আকর্ষণ করতে ২০২৪ সালে ভিসা নীতি শিথিল করেছিল থাই সরকার। কিন্তু সেই নীতি থেকে এখন বড় ধরনের পিছুটান দিলো কর্তৃপক্ষ।
মনোমুগ্ধকর চুনাপাথরের দ্বীপ, সাদা বালুকাময় সৈকত এবং সবুজে ঘেরা পাহাড়ের দেশ থাইল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। ২০১৫ সালে দেশটিতে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ বিদেশি পর্যটক আগমন করেছিলেন।
পর্যটকদের এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যাকে স্বাগত জানানো হলেও, থাই কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, ৬০ দিনের এই ভিসা-মুক্ত সুবিধার অপব্যবহার করে অনেক বিদেশি নাগরিক সেখানে অবৈধভাবে কাজ করছেন কিংবা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই আংশিকভাবে এই নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে থাইল্যান্ডে ঘুরতে গিয়ে বিদেশি পর্যটকদের মন্দ আচরণের বেশ কিছু ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উপাসনালয় বা মন্দিরে ভাঙচুর চালানো এবং মদ্যপ অবস্থায় বারে মারামারিতে লিপ্ত হওয়া। এ ছাড়া মাদক ও মানবপাচারের মতো অপরাধের দায়ে একাধিক বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বর্তমানে থাইল্যান্ডে আসা বিদেশি পর্যটকদের জনসংখ্যার ধরনেও পরিবর্তন আসছে। গত বছর দেশটিতে পর্যটক আগমনের দিক থেকে ভারত, চীন ও মালয়েশিয়ার পরই চতুর্থ অবস্থানে ছিল রাশিয়ার নাগরিকরা। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশ রুশ নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও থাইল্যান্ড তাদের সীমান্ত উন্মুক্ত রাখে, যার ফলে সেখানে রুশ পর্যটকদের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তবে থাইল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো বারবার রুশ নাগরিকদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অতিরিক্ত সময় অবস্থান করার বিষয়ে সতর্ক করে আসছে।
ভিসা নীতি সংকুচিত করার এই পদক্ষেপটি ২০২২ সালে থাইল্যান্ডের গাঁজা বৈধকরণের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন এশিয়ায় প্রথম দেশ হিসেবে তারা গাঁজাকে অপরাধমুক্ত ঘোষণা করেছিল। তবে এরপর পুরো রাজ্য জুড়ে বিনোদনমূলক গাঁজার ব্যবহার হু হু করে বেড়ে যায় এবং এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ফলস্বরূপ, গত বছর থাই সরকার এই গাঁজার জোয়ার নিয়ন্ত্রণে নতুন নিয়ম জারি করতে বাধ্য হয় এবং চিকিৎসাবহির্ভূত উদ্দেশ্যে গাঁজার ব্যবহারকে পুনরায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করে।
সূত্র: সিএনএন








