দাতাদের টাকা পেতেই কি ‘ভুয়া অভিযান’? চিতাবাঘের চামড়া উদ্ধারে কাঠগড়ায় এনজিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৩৭ আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৩৭

চিতাবাঘ শিকার ও পাচার চক্রের বিরুদ্ধে একটি বড়সড় তদন্তে দিল্লির এনজিও ওয়াইল্ডলাইফ এসওএস-এর প্রধান কার্তিক সত্যনারায়নের নাম উঠে এসেছে। মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের টাইগার স্ট্রাইক ফোর্স (এসটিএফ) সম্প্রতি এক শীর্ষ পাচারকারী ও তার সহযোগীকে গ্রেফতারের পর জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ওয়াইল্ডলাইফ এসওএস-এর বেতনভুক্ত কর্মী ছিলেন এবং তারা সিইও কার্তিক সত্যনারায়নের নির্দেশেই কাজ করতেন। তদন্তকারী দল কার্তিক সত্যনারায়নকে আগামী ১৭ আগস্ট শিবপুরিতে হাজির হতে নোটিশ পাঠিয়েছে।

তদন্তকারীদের ধারণা, ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং এনজিওর প্রচার বাড়াতে পরিকল্পিতভাবে এই শিকার ও ভুয়া অভিযানের নাটক সাজানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রদেশের প্রধান বন্যপ্রাণী সংরক্ষক সমীতা রাজৌরা নিশ্চিত করেছেন যে, ডিজিটালি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মেলায় এবং ধৃতেরা কার্তিকের নাম উল্লেখ করায় তাকে তলব করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইমেইল, বার্তা বা ফোনে যোগাযোগ করা হলেও কার্তিক সত্যনারায়ন বা এনজিওর সহ-প্রতিষ্ঠাতা গীতা সেশামনি কারও কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুলাই, যখন গোয়ালিওর-আগ্রা মহাসড়ক থেকে ১০টি চিতাবাঘের চামড়াসহ চারজন শিকারিকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময় ওয়াইল্ডলাইফ এসওএস দাবি করেছিল, এটি তাদের গোপন নজরদারির সাফল্য। কিন্তু চামড়াগুলোর উৎস মধ্যপ্রদেশ হওয়ায় এসটিএফ পৃথক তদন্ত শুরু করতেই থলের বেড়াল বেরিয়ে আসে। শিবপুরি ও মোরেনা বনে অভিযান চালিয়ে পুতে রাখা চিতাবাঘের অবশিষ্টাংশ এবং ফাঁদ উদ্ধার করা হয়।

এই সূত্রের ভিত্তিতে গত ১১ আগস্ট পাচারকারী ভগবান সিং এবং ১৩ আগস্ট তার সহযোগী ওয়াসিমকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। জানা গেছে, দুই অভিযুক্তই গত পাঁচ বছর ধরে ওয়াইল্ডলাইফ এসওএস-এর বেতনভুক্ত কর্মী হিসেবে এনজিওর গাড়ি ব্যবহার করেই বনে শিকারিদের ফাঁদ সরবরাহ করছিলেন।

বন বিভাগের এক সূত্র প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এটি শিকারিদের ধরার জন্য গোপন অভিযানই হতো, তবে ১০টি চিতাবাঘ মারা যাওয়া পর্যন্ত তারা কেন অপেক্ষা করলেন? চিতা বিচরণ করে এমন এলাকায় কেন নতুন করে চামড়ার চাহিদা ও ফাঁদ তৈরি করা হলো?

সাবেক এক বন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দাতাদের আকর্ষণ করতে এবং নিজেদের বড় আন্তর্জাতিক অনুদান পাওয়ার জন্য এমন ভুয়া অভিযান ও প্রতিদ্বন্দ্বী পাচারকারীদের ধরিয়ে দেওয়ার পথ বেছে নেওয়া হতে পারে।

১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই এনজিওটি এর আগেও ২০২৩ সালে তামিলনাড়ুতে বাঘ ও চিতাবাঘের চামড়া উদ্ধারের পর নিজেদের কৃতিত্ব দাবি করেছিল, যেখানে এই অভিযুক্তদের উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

/এএ/
সম্পর্কিত
যে অঞ্চলের নারীদের কাছে ‘সবুজ শাড়ি’ শক্তির প্রতীক
তাইওয়ানে চীনের আক্রমণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাভাসে কী বলা হয়েছে
ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় ফিরে এলো বিমানবালা নিরজা ভানোটের স্মৃতি
সর্বশেষ খবর
সেপ্টেম্বরে ধর্ষণের শিকার ৪৯ নারী-কন্যা, ৫২ জনকে হত্যা
সেপ্টেম্বরে ধর্ষণের শিকার ৪৯ নারী-কন্যা, ৫২ জনকে হত্যা
রেমিট্যান্স ও রফতানি, দুই খাতেই চাপ বাড়ছে
রেমিট্যান্স ও রফতানি, দুই খাতেই চাপ বাড়ছে
যে অঞ্চলের নারীদের কাছে ‘সবুজ শাড়ি’ শক্তির প্রতীক
যে অঞ্চলের নারীদের কাছে ‘সবুজ শাড়ি’ শক্তির প্রতীক
২০২৭ বিশ্বকাপের গ্রুপিং চূড়ান্ত, বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কারা
২০২৭ বিশ্বকাপের গ্রুপিং চূড়ান্ত, বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কারা
সর্বাধিক পঠিত
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কুষ্টিয়ার সেই শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কুষ্টিয়ার সেই শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘বের করে দিলেন’ রুবিও
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘বের করে দিলেন’ রুবিও
‘আম্মার উড়ে আসা নেতা’, কার ওপর গজব পড়ার কথা বললেন উমামা
‘আম্মার উড়ে আসা নেতা’, কার ওপর গজব পড়ার কথা বললেন উমামা
স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বের হয়ে যা বললেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বের হয়ে যা বললেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
এলপিজি: বেশি দামে বিক্রি হলে কঠোর ব্যবস্থা
এলপিজি: বেশি দামে বিক্রি হলে কঠোর ব্যবস্থা