জার্মান ডাক্তারের বিরুদ্ধে ১৫ রোগী হত্যার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ এপ্রিল ২০২৫, ১৮:০৫আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৫, ১৮:০৫

জার্মানির এক প্যালিয়েটিভ কেয়ার  বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের বিরুদ্ধে ১৫ জন রোগীকে প্রাণঘাতী ওষুধের মিশ্রণ দিয়ে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। বার্লিনের প্রসিকিউটরদের দাবি, ৪০ বছর বয়সী এই চিকিৎসক কিছু রোগীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে হত্যাকাণ্ডের চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করেছেন।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। 

২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ১২ জন নারী ও তিন জন পুরুষকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ডাক্তারটির নাম প্রকাশ করা হয়নি, কারণ জার্মানির কঠোর গোপনীয়তা আইন রয়েছে। তবে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, তিনি এখনও অভিযোগ স্বীকার করেননি। 

অভিযোগ রয়েছে, রোগীদের অজান্তে বা সম্মতি ছাড়াই তিনি তাদের অ্যানাস্থেটিক ও মাসেল রিলাক্সেন্ট (পেশী শিথিলকারী) ওষুধ প্রয়োগ করতেন। প্রসিকিউটর অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই রিলাক্সেন্ট শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশীকে অকার্যকর করে দিত, ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই রোগীর শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু হতো। 

এই ডাক্তার জার্মানির বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করেছেন। সন্দেহভাজন হত্যাকাণ্ডের শিকার রোগীদের বয়স ২৫ থেকে ৯৪ বছরের মধ্যে। প্রসিকিউটররা বলছেন, পাঁচটি আলাদা ঘটনায় তিনি হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ গোপন করতে রোগীদের অ্যাপার্টমেন্টে আগুন লাগিয়েছিলেন। 

২০২৪ সালের জুলাইয়ে একদিনেই তিনি দুই রোগীকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন ৭৫ বছর বয়সী পুরুষ (বার্লিনের কেন্দ্রে) এবং কয়েক ঘণ্টা পরে ৭৬ বছর বয়সী এক নারী (পাশের জেলায়)। নারীর বাড়িতে আগুন লাগানোর চেষ্টা ব্যর্থ হলে তিনি তার এক আত্মীয়কে ফোন করে বলেছিলেন, আমি আপনার আত্মীয়ের অ্যাপার্টমেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু দরজায় কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছি না। 

গত আগস্টে গ্রেফতারের সময় তাকে চার জন রোগী হত্যার সন্দেহে আটক করা হয়েছিল। তবে তদন্তে আরও সন্দেহজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য আরও হত্যার শিকার মানুষদের দেহাবশেষ উদ্ধারের জন্য কবর খোঁড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। 

প্রসিকিউটররা ৪০ বছর বয়সী এই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আজীবন পেশাগত নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিরোধমূলক আটকের আবেদন করেছেন। তিনি এখনও পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।

/এএ/
সম্পর্কিত
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
সর্বশেষ খবর
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী