X
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪
৩ বৈশাখ ১৪৩১

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির টার্গেট ১৩ মুসলিম অধ্যুষিত আসন

রক্তিম দাশ, কলকাতা
২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০১:২৯আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ২২:২৪

ভারতের ৬০টির মতো লোকসভা আসন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হওয়ার কারণে বিজেপির হাতছাড়া হয়েছে দু হাজার উনিশের লোকসভা নির্বাচনে। সংখ্যালঘু ভোটার সবচেয়ে বেশি রয়েছে উত্তরপ্রদেশে ও বাংলায়। উনিশের বিপুল জয়ের ম্যানডেটকে ছাপিয়ে চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে আরও বেশিসংখ্যক লোকসভা আসন জিততে গেরুয়া শিবির এখন টার্গেট করেছে উত্তরপ্রদেশ ও বাংলার ১৩টি মুসলিম অধ্যুষিত আসনকে।

ওই দু রাজ্যের ১৩টি আসন ছাড়া দেশের আরও ৩৪টি লোকসভা আসনের ফলাফলের বেশির ভাগটা নিজেদের অনুকূলে আনতে পারলে দেশজুড়ে বিজেপির ভিত আরও শক্ত হবে বলেই মনে করছে তারা। সেই লক্ষ্যেই সংখ্যালঘুদের মন জয় করতে মোদি-শাহর নির্দেশে দলের সংখ্যালঘু মোর্চা ধর্মগুরুদের দলে টানার পাশাপাশি একাধিক পরিকল্পনা তৈরি করেছে বলে সূত্রের খবর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিজেপি দলের নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন, উনিশের লোকসভা ভোটে বিজেপি দেশজুড়ে যে ভোট পেয়েছিল তাকে ছাপিয়ে যেতে হলে বহু সংখ্যক অন্য ভোট চাই। কারণ উনিশের ম্যানডেট ছাপিয়ে যেতে গেলে বর্তমানে যে ভোট ব্যাংক আছে তাতে কাজ দেবে না। অন্য সম্প্রদায়ের ভোট ব্যাংককে আনতে হবে গেরুয়া শিবিরের দিকে। দেশের সংখ্যালঘু জনসংখ্যা সবচেয়ে বড় অংশ মুসলিম ভোট ব্যাংক। তাদের মধ্যে পশমন্দা ও সুফি মুসলিমরা আবার সংখ্যাগরিষ্ট দেশজুড়ে। বিজেপি মনে করছে, মুসলিমদের মধ্যে এই দুটি সম্প্রদায়ের ভোট ব্যাংককে যদি টার্গেট করা যায়, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম ভোট পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে দলের সংখ্যালঘু মোর্চার পরিকল্পনা অনুয়ায়ী এই ভোট ব্যাংককে চব্বিশে গেরুয়া শিবিরের পক্ষে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট লোকসভা আসনগুলো চিহ্নিত করে কাজ শুরু হয়েছে। এই আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে– বাংলার ১৩, উত্তরপ্রদেশের ১৩, কেরলের ৬, বিহারের ৪, অসমের ৬, মধ্যপ্রদেশের ৩, তেলেঙ্গানার ২, হরিয়ানার ২, মহারাষ্ট্রের ১, জম্মু ও কাশ্মিরের ৫ এবং লাক্ষা দ্বীপের একটি লোকসভা আসন।

এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট লোকসভা আসনগুলোর ধর্মগুরু ও মাওলানাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা হবে। যাতে তারা মোদি সরকারের গত ১০ বছরে সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের কথা বলেন। এর পাশাপাশি মুসলিম অধ্যুষিত লোকসভাগুলোতে প্রতি শুক্রবার বিজেপির পক্ষ থেকে স্টল করা হবে। জুম্মার নামাজের আগে ও পরে এই স্টল থেকে দলের সংখ্যালঘু মোর্চার কর্মীরা মুসলিমদের বোঝাবেন, তারা মোদি সরকারের পক্ষ থেকে কী কী প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। মোদি বা বিজেপি যে মুসলিম বিরোধী নয় তাও বলবেন সংখ্যালঘু মোর্চার কর্মীরা।

একইভাবে কেরলের মতো খ্রিস্টান অধ্যুষিত লোকসভা আসনগুলোতে থাকা চার্চে রবিবার স্টল দিয়ে একইভাবে প্রচার করা হবে। এর পাশাপাশি এই ৬০টি লোকসভা আসনের প্রতিটিতে ৫ হাজার সংখ্যালঘু ব্যক্তি যারা মোদিকে পছন্দ করেন, যারা বিজেপি সরকারে থেকে উপকৃত বা কেন্দ্রীয় সরকারের ভিশনে বিশ্বাসী এরকম বুদ্ধিজীবী, আমলা, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের যুক্ত করা হবে বিজেপির সঙ্গে। যারা তাদের নিজস্ব অঙ্গনে প্রচারের কাজটা করবেন। সুফি কনফারেন্সের আয়োজন করা হবে প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রে। এপ্রিল বা মে মাসে নয়াদিল্লিতে ‘স্নেহ সম্মেলন’ নামে একটি বড় সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। এতে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি জামাল সিদ্দিকি বলেন, ‘একটা পরিকল্পনা করা হয়েছে। মোট ১০ রাজ্যের ৬০ লোকসভা আসন থেকে বিজেপির কর্মীরা গেরুয়া শিবিরের প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যক্তিদের খুঁজে বের করবেন। সেই ব্যক্তিদের হাতিয়ার করেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে বিজেপি নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই সংখ্যালঘুদের কাছে টানার কাজ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী চান যেন মানুষের সঙ্গে মিশে তাদের সমস্ত কথা আমরা শুনি। ভোট নয়, মানুষকে কাছে টানাই উদ্দেশ্য।’

অপরদিকে, বিজেপির টার্গেটে পশ্চিমবঙ্গে যে ১৩টি লোকসভা আসন, তাতে মুসলিম অনুপাত রয়েছে বহরমপুর ৬৪ শতাংশ, জঙ্গিপুর ৬০ শতাংশ, মুশির্দাবাদ ৫৯ শতাংশ, রায়গঞ্জ ৫৬ শতাংশ, বসিরহাট ৪৪ শতাংশ, মালদা উত্তর ৫০ শতাংশ, মালদা দক্ষিণ ৫৩.৫৬ শতাংশ, যাদবপুর ৩৩.০৪ শতাংশ, মথুরাপুর ৩২.০৩ শতাংশ, বীরভূম ৩৬ শতাংশ, কৃষ্ণনগর ৩৩ শতাংশ, ডায়মন্ড হারবার ৩৩ শতাংশ ও জয়নগর ৩০ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের জনশুমারি অনুযায়ী মুসলিমদের সংখ্যা ২৭.০১ শতাংশ। মনে করা হচ্ছে বর্তমানে এই সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে ৩২ শতাংশ। এই ৩২ শতাংশ ভোটকে উপক্ষে করে বিজেপির পক্ষে কোনও নির্বাচনে জেতাই সম্ভব নয়। একটা সময় মুসলিম ভোট ব্যাংক পুরোটাই বামদের মাইলেজ দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে যা একচেটিয়াভাবে তৃণমূলের দখলে চলে যায়। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তা অপরিবর্তিত থাকার কারণেই বিজেপির নবান্ন দখলের স্বপ্ন অধরা থেকে যায়।

আবার বাংলার হিন্দু ভোট একচেটিয়া বিজেপির পক্ষে আসেনি। তাই শুধু হিন্দু ভোটের দিকে তাকিয়ে না থেকে এবার মুসলিম ভোটেও ভাগ বসাতে চাইছে বিজেপি। সে জন্যই এই পরিকল্পনা। চব্বিশের লোকসভা ভোটে বাংলায় এর বেশ খানিকটা সফলতা মিললেই ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে ক্ষমতা দখল অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন বিজেপির নীতি নির্ধারকরা।

/এমএএ/
সম্পর্কিত
আদালতে হাজির হয়ে ট্রাম্প বললেন, ‘এটি কেলেঙ্কারির বিচার’
ভারতের গ্র্যান্ডমাস্টারকে হারিয়ে বাংলাদেশের মননের চমক
ইরানে পাল্টা হামলা না চালাতে ইসরায়েলকে ক্যামেরনের আহ্বান
সর্বশেষ খবর
আদালতে হাজির হয়ে ট্রাম্প বললেন, ‘এটি কেলেঙ্কারির বিচার’
আদালতে হাজির হয়ে ট্রাম্প বললেন, ‘এটি কেলেঙ্কারির বিচার’
পর্যটকদের মারধরের অভিযোগ এএসপির বিরুদ্ধে
পর্যটকদের মারধরের অভিযোগ এএসপির বিরুদ্ধে
২৭ বছর পর বাড়ি ফিরলেন শাহীদা, পূরণ হয়নি যে আশা
২৭ বছর পর বাড়ি ফিরলেন শাহীদা, পূরণ হয়নি যে আশা
ছাগলে গাছ খাওয়ায় দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১০
ছাগলে গাছ খাওয়ায় দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১০
সর্বাধিক পঠিত
কিছু আরব দেশ কেন ইসরায়েলকে সাহায্য করছে?
কিছু আরব দেশ কেন ইসরায়েলকে সাহায্য করছে?
সরকারি চাকরির বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন শেষ ১৮ এপ্রিল
সরকারি চাকরির বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন শেষ ১৮ এপ্রিল
বান্দরবা‌নে বম পাড়া জনশূ‌ন্য, অন্যদিকে উৎসব
বান্দরবা‌নে বম পাড়া জনশূ‌ন্য, অন্যদিকে উৎসব
শেখ হাসিনাকে নরেন্দ্র মোদির ‘ঈদের চিঠি’ ও ভারতে রেকর্ড পর্যটক
শেখ হাসিনাকে নরেন্দ্র মোদির ‘ঈদের চিঠি’ ও ভারতে রেকর্ড পর্যটক
ঈদের সিনেমা: হলে কেমন চলছে, দর্শক কী বলছে
ঈদের সিনেমা: হলে কেমন চলছে, দর্শক কী বলছে