যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে কোনও ধরনের ‘ভুল’ করলে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের উপকূলীয় অঞ্চল দখল করে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোর্তেজা সিমিয়ারি এই হুমকি দেন। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।
সিমিয়ারি বলেন, মার্কিন বাহিনী কোনও ভুল পদক্ষেপ নিলে ইরানের সামরিক বাহিনী ব্যবস্থা নিতে ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’। তিনি আরও বলেন, আমিরাত ও বাহরাইনের উপকূল দখল করে নেওয়ার বিষয়টি ইরানের কর্মপরিকল্পনায় রয়েছে এবং এর ফলে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র মৌলিকভাবে বদলে যাবে।
ইরানি বিশ্লেষকের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানের হামলার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা ‘সন্ত্রাসীদের দ্বারা ব্ল্যাকমেইলড’ হবেন না।
আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশও বলেন, আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের নগ্ন আগ্রাসন গভীর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ফেলছে এবং এর ফলে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের ‘নিরাপত্তা অংশীদারত্ব’ আরও জোরালো করছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস অবকাঠামো এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত আমিরাত একাই ৩৩৮টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজার৭৪০টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে সৌদি আরব ও আমিরাত ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করলেও, এখন তারা যুদ্ধের সমর্থনের দিকে ঝুঁকছে। সৌদি আরব ইতোমধ্যে তাদের পশ্চিমাঞ্চলের কিং ফাহাদ বিমানঘাঁটি মার্কিন বাহিনীর জন্য খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
অন্যদিকে, আমিরাতও যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে তারা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং যুদ্ধ বন্ধের জন্য ওয়াশিংটনকে কোনও চাপ দিচ্ছে না। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জানিয়েছেন, তার দেশ ৯ মাস পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।








