ইরানের ওপর এক মাসের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা বোমা হামলা চললেও দেশটির প্রায় অর্ধেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনও অক্ষত রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোর একটি বড় অংশ এখনও অক্ষত। তবে এর মধ্যে কিছু লঞ্চার বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, কারণ বারবার বিমান হামলার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপের নিচে সেগুলো চাপা পড়ে আছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এই মূল্যায়নের সঙ্গে ইসরায়েলের দেওয়া তথ্যের কিছুটা অমিল পাওয়া গেছে। গত মার্চ মাসে ইসরায়েল দাবি করেছিল, ইরানের আনুমানিক ৪৭০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের মধ্যে তারা প্রায় ৬০ শতাংশ ধ্বংস বা অকেজো করে দিয়েছে।
দুই দেশের এই হিসাবের পার্থক্যের কারণ হতে পারে লঞ্চারের শ্রেণিবিন্যাস। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রায় ২০০টি লঞ্চার সরাসরি হামলায় ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৮০টি লঞ্চারকে তারা ‘অকার্যকর’ হিসেবে গণ্য করছে। কারণ হিসেবে তারা বলছে, ভূগর্ভস্থ যে সুড়ঙ্গগুলোতে এগুলো সংরক্ষিত ছিল, সেগুলোর প্রবেশপথ বিমান হামলায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র অক্ষত কিন্তু বর্তমানে লঞ্চারগুলোকে ভিন্নভাবে দেখছে।
লঞ্চারের পাশাপাশি মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে আরও বলা হয়েছে, ইরানের কাছে এখনও ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হাজার হাজার শক্তিশালী ড্রোন মজুত রয়েছে। একটি সূত্র সতর্ক করে বলেছে, ইরান এখনও পুরো অঞ্চলে ‘চরম বিপর্যয়’ সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে।
তবে সিএনএন-এর এই প্রতিবেদনের তথ্য অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন। হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র এই প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন দাবি করে অভিযোগ করেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের সাফল্যকে ‘খাটো করে দেখানোর’ জন্য এই ধরনের তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল









