‘বালাকোটের পর দিন পাকিস্তানে হামলা চালাতে প্রস্তুত ছিল ভারত’

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:১৯, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৪, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

বালাকোটের হামলার পরদিনই পাকিস্তানে পাল্টা-হামলা চালাতে প্রস্তুত ছিল ভারতের বিমান বাহিনী (আইএএফ)। পাকিস্তান ভারতের কোনও সেনা ক্যাম্পে হামলা চালালে তারাও পাল্টা হামলা চালাত। কিন্তু চেষ্টা করেও ভারতীয় বাহিনীর উপর আক্রমণ চালাতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান। তাই আর ভারতের তরফে আগ্রাসী মনোভাব দেখানো হয়নি। ২০১৮ সালে পুলওয়ামা পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে এমনটাই দাবি করেছেন সাবেক ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান বিএস ধানোয়া। দায়িত্ব থেকে অবসরে যাওয়ার পর এই প্রথম সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললেন তিনি। কলকাতাভিত্তিক বাংলা সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এখবর জানা গেছে।

সেপ্টেম্বরেই অবসর নিয়েছেন বিএস ধানোয়া। শনিবার চণ্ডীগড়ে আয়োজিত সেনা সাহিত্য মহোৎসবের দ্বিতীয় দিনে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং দ্য মেসেজ অব বালাকোট’ আলোচনাসভায় যোগ দেন তিনি। সেখানেই বালাকোট এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন তিনি।

বিএস ধানোয়া জানান, ‘২৬ ফেব্রুয়ারি বালাকোটে ঢুকে জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রশিক্ষণ শিবির গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় বিমানবাহিনী। তার পর দিন অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় বাহিনীকে নিশানা করার চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান। তারা হামলা চালালে, পাল্টা আক্রমণ চালাতে প্রস্তুত ছিলাম আমরাও। কিন্তু চেষ্টা করেও আমাদের উপর আক্রমণ চালাতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান। তাই আর আমরা আর আগ্রাসী মনোভাব দেখাইনি।’

১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপি কনভয় লক্ষ্য করে হামলা চালায় পাক মদতেপুষ্ট জইশ-ই-মহম্মদ। তাতে ৪০ জন জওয়ান প্রাণ হারায়। তার প্রত্যাঘাতেই ২৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে বালাকোট এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরে ঢুকে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ শিবির ধ্বংস করে ভারত। পর দিনই রাজৌরি হয়ে ভারতের আকাশসীমায় ঢোকার চেষ্টা করে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান। সেটিকে তাড়া করতে গিয়ে পাকিস্তানের হাতে বন্দি হন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। তবে সেই সময় মিগ-২১ বাইসনের বদলে অভিনন্দন রাফাল ওড়ালে পরিস্থিতি অন্যরকম হত বলে দাবি করেন ধানোয়া। রাফাল যুদ্ধ বিমান পেতে দেরি হওয়ার জন্য নাম না করে পূর্বতন ইউপিএ সরকারকেও কটাক্ষ করেন তিনি।

ধানোয়ার দাবি, ‘পুলওয়ামার পর ভারত যে বদলা নেবে, পাকিস্তানও আগেভাগেই তা আন্দাজ করতে পেরেছিল। শুধু কবে, কোথায় বদলা নেওয়া হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটু সময় নিয়েছিলাম আমরা। পুলওয়ামায় যেহেতু জইশ-ই হামলা চালিয়েছিল, তাই শেষমেশ ওদের প্রশিক্ষণ শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়। বালাকোটে বেছে বেছে জঙ্গিদের কিছু ঘাঁটিকে নিশানা করি আমরা। ব্রহ্মোসের মতো শক্তিশালী সুরপারসনিক মিসাইলও ছিল আমাদের কাছে। তাতে একবারেই হয়ত কাজ হয়ে যেত। কিন্তু তাতে আরও অনেকে মারা পড়তেন, যা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা শুধু জঙ্গিদের নিকেশ করতে চেয়েছিলাম।’

যুদ্ধ নয়, পুলওয়ামা হামলার পর পাকিস্তানকে জবাব দেওয়াই ভারতের একমাত্র লক্ষ্য ছিল বলেও জানান ধানোয়া।

/এএ/

লাইভ

টপ