বাণিজ্যযুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-চীন চুক্তি আজ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩:১২, জানুয়ারি ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২২, জানুয়ারি ১৫, ২০২০

চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বাণিজ্যযুদ্ধের অবসানে একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন ও বেইজিং। ১৫ জানুয়ারি বুধবার ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। একে বলা হচ্ছে প্রথম ধাপের বাণিজ্য চুক্তি।

চুক্তির আওতায় মার্কিন পণ্যসামগ্রী আমদানির পরিমাণ বাড়াবে চীন। ইতোমধ্যেই আগামী দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাড়তি ২০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ও সেবা কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং। এর বিপরীতে চীনের ওপর আরোপিত কিছু শুল্ক স্থগিত রাখবে ওয়াশিংটন। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের বাড়তি আমদানি লক্ষ্যমাত্রাকে অবাস্তব হিসাবে অভিহিত করেছেন অনেক মার্কিন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ।

ট্রাম্প সমর্থকরা এ চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করলেও দেশটির অনেক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞের মতে, এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত নয়।

টুইটারে দেওয়া পোস্টে ১৫ জানুয়ারি চীনের সঙ্গে বড় পরিসরে প্রথম দফা বাণিজ্য চুক্তির কথা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, প্রথম দফায় হোয়াইট হাউসে এই অনুষ্ঠান হবে। চীনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত থাকবেন। পরবর্তী তারিখে আমি বেইজিং যাবো। সেখানে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শুরু হবে!

রয়টার্স জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি কৃষিজাত পণ্য আমদানিতে সম্মত হয়েছে বেইজিং। ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র থেকে জেনেটিক্যালি মোডিফায়েড (জিএম) পদ্ধতির দুই শস্য আমদানির অনুমতি দেয় চীন। শস্য দুইটি হচ্ছে সয়াবিন ও পেপে। একইসঙ্গে পুরনো ১০টি জিএম শস্যের অনুমোদন নবায়ন করা হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে চীনের কৃষিজাত আমদানির পরিমাণ আরও বাড়বে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে দুই দেশের মধ্যে প্রথম ধাপের বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইতোপূর্বে চীনকে আরও স্বচ্ছ, সময়োপযোগী ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে তার জিএম ফসল আমদানির আবেদন প্রক্রিয়া পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছিল। মূলত এরপরই নতুন করে মার্কিন দুই জিএম শস্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বেইজিং। ক্রমেই এর পরিসর আরও বাড়বে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

চীন কেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির চাপে রয়েছে?

দুই দেশ যে চুক্তিতে সম্মত হয়েছে তাতে চীনের তরফ থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এটি ঠিক কী পরিমাণ বাড়বে তারও একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। ফলে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে চীন কেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে উপনীত হতে ক্রমাগত চাপের মুখে পড়ছে? এর প্রধান কারণ বেইজিং-এর ধীরগতির অর্থনীতি। বাণিজ্য যুদ্ধ চীনের অর্থনীতিকে হয়তো মন্দার দিকে নিয়ে নিয়ে যাবে না। কিন্তু এটা অবশ্যই পরিস্থিতিকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাবে।

ইতোমধ্যেই চীনে খুচরা বিক্রির পরিমাণ কমতে শুরু করছে। ছোট ও মাঝারি ধরনের কোম্পানিগুলো কম অর্ডার পাওয়ায় সেই ধাক্কাটা তারা বুঝতে পারছে। আর এই চাপটাই পড়ছে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির ওপর।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও চাপের মধ্যে রয়েছে একটা চুক্তি করার জন্য। চীনে যেসব মার্কিন কোম্পানি রয়েছে তারা ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ব্যবসার ওপর যে শুল্ক আরোপ করেছে তার প্রভাব নিয়ে অভিযোগ করছে। তারা চাইছে যুক্তরাষ্ট্র যেন একটা ভালো চুক্তি করে।

ওয়াশিংটন ডিসির আকিন গাম্প নামে একটি ল ফার্মের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড পার্টনার স্টেফেন খো বলেন, চুক্তি হলে সেটা সবার জন্যই ভালো হবে। কেননা, যতদিন পর্যন্ত এই পরাশক্তিগুলো একে অপরের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করতে থাকবে ততই ভোক্তাদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হবে। কোম্পানিগুলো কম লাভ করবে। আর বিশ্ব অর্থনীতির গতি কমে যাবে। ফলে উভয় পক্ষই একটা চুক্তি করে সমাধানে আসতে এখন চাপের মধ্যে রয়েছে।

/এমপি/

লাইভ

টপ