রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:০৮, জানুয়ারি ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৬, জানুয়ারি ১৫, ২০২০

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পার্লামেন্টে সংবিধান পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ। বুধবার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা দেশের ক্ষমতার ভারসাম্যে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে। আর সেকারণেই বর্তমান কাঠামোর পুরো সরকার পদত্যাগ করছে। তবে নতুন সরকার নিয়োগের আগে নিজের দীর্ঘদিনের মিত্র মেদভেদেভকে সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন পুতিন।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) পার্লামেন্টের বার্ষিক ভাষণে প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদের ব্যক্তি নির্বাচনে পার্লামেন্টকে ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব দেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রেসিডেন্টের থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বেশি ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রয়োজনে দেশব্যাপী গণভোটও চেয়েছেন পুতিন। তবে সমালোচকদের দাবি ২০২৪ সালে বর্তমান মেয়াদ শেষের পরেও  ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতেই এই পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি।

প্রেসিডেন্টের ওই প্রস্তাবের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে এক বৈঠকে অংশ নেন পুতিন। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ওই বৈঠকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে মেদভেদেভ বলেন, পরিবর্তন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে আমাদের দেশের প্রেসিডেন্টকে সুযোগ দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘পরবর্তী সব সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট নেবেন’।

বৈঠকে সব অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী মেদভেদেভের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নিরাপত্তা কাউন্সিলের উপপ্রধান পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দিয়ে পুতিন বলেন, মেদভেদেভ এই পদ গ্রগণ করতে পারেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সাল থেকে কখনও প্রেসিডেন্ট কখনও প্রধানমন্ত্রী হিসেব দেশের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, টানা দুই বারের বেশি প্রেসিডেন্ট থাকা যায় না। একারণে তিনি দুইবার প্রেসিডেন্ট থাকার পর প্রধানমন্ত্রী হন। পরে আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ৬৭ বছর বয়সী পুতিন। ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর ওই দেশের শাসন পরিচালনার দায়িত্বভার নিজের হাতে রাখার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন পুতিনের সমালোচকরা। তবে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতা আকড়ে ধরে থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ রুশ নাগরিকদের কাছে পুতিন এখনও জনপ্রিয়। দেশের স্থিরতা রক্ষায় তাকে ‘কল্যাণকর ব্যক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করে তারা।

/জেজে/

লাইভ

টপ