বড় পরিসরে বন্দি বিনিময়ে সম্মত ইয়েমেনে যুদ্ধরত দুই পক্ষ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:১৯, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:২১, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইয়েমেনে যুদ্ধরত দুই পক্ষ বড় পরিসরে বন্দি বিনিময় করতে সম্মত হয়েছে। জর্ডানের রাজধানী আম্মানে হুথি বিদ্রোহী ও ইয়েমেন সরকারের মধ্যে সাত দিন ব্যাপী বৈঠকের পর রবিবার এই বন্দি বিনিময়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। ইয়েমেনে নিযুক্ত জাতিসংঘ দূত এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শিগগিরই বন্দিদের তালিকা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সম্প্রতি ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সহিংসতা বেড়েছে। স্থানীয় সময় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে সৌদি আরবের একটি টর্নেডো বিমান ভূপাতিত হয়। হুথি বিদ্রোহীরা বিমানটি ভূপাতিত করার স্বীকারোক্তি দেয়। এর জবাবে ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় দেশটির  ৩১ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়।  বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি বিমান ভূপাতিতের স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর এই হামলা চালানো হয়। সহিংসতা বৃদ্ধি সত্ত্বেও সংকট সমাধানে আলোচনা অব্যাহত রাখে দুই পক্ষ।

রবিবার ইয়েমেনে নিযুক্ত জাতিসংঘ দূত মার্টিন গ্রিফিথ এক বিবৃতিতে বলেন, আজ পক্ষগুলো আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে, ‘মাঠ পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ বাড়তে থাকলেও তাদের ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনার আত্মবিশ্বাস রয়েছে’।

তবে কত জন বন্দি বিনিময় করা হবে সেই বিষয়ে কিছু জানাননি জাতিসংঘ দূত। তবে বন্দি সংশ্লিষ্ট বিষয় দেখভাল করা হুথি কর্মকর্তা আবদুল কাদের আল মুর্তজা এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে দুই পক্ষ ১৪০০-এরও বেশি বন্দি বিনিময় করবে। তালিকা চূড়ান্ত করতে আরও দুই দিন আলোচনা চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, পাঁচ বছর আগে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী দখলে নেয় ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি রাজধানী রিয়াদে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন দেশটির প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্টের অনুগত সেনাবাহিনীর একাংশ হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান পরিচালনা শুরু করে সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলো। তারপর থেকে  এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। পুরো ইয়েমেন দুর্ভিক্ষের মুখে রয়েছে।

/জেজে/

লাইভ

টপ