অযৌক্তিক হয়রানির জবাবে মার্কিন সাংবাদিক বহিষ্কার: চীন

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:৫৫, মার্চ ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৪২, মার্চ ১৯, ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছে চীন। বেইজিং বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে চীনা সাংবাদিকদের অযৌক্তিক হয়রানির জবাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং সুহাং বলেছেন, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ওপর ওয়াশিংটন বিধিনিষেধ আরোপ করায় এর পাল্টা জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে বেইজিং। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এই খবর জানিয়েছে।

চীনের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মধ্যরাতে দেশটিতে কর্মরত মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন টাইমস এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের অন্তত ১৩ সাংবাদিককে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভয়েস অব আমেরিকা ও টাইম ম্যাগাজিনকে তাদের কার্যক্রমের বিস্তারিত চীনা সরকারকে অবহিত করতে হবে বলে জানানো হয়।

বুধবার চীনা মুখপাত্র গেং সুহাং বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে মতাদর্শিক সংস্কার এবং স্নায়ু যুদ্ধের মানসিকতা পরিহারের আহ্বান জানাচ্ছি’। ‘চীন কারও সঙ্গে সমস্যা শুরু করতে চায় না, তবে কোনও সমস্যার উদ্ভব হলে চোখ বন্ধ করে থাকবে না। আমরা মার্কিন পক্ষকে অবিলম্বে চীনা সংবাদমাধ্যমের ওপর নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি, না হলে তাদের আরও ক্ষতির মুখে পড়তে হবে’, বলেন তিনি।

বেইজিং বলছে গত মাসে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমকে বিদেশি দূতাবাস হিসেবে বিবেচনা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরালো করা হয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এই ধরনের ‘অন্যায্য নিষেধাজ্ঞায়’ সাংবাদিকদের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এটাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিপীড়ন বলেও আখ্যা দেয় তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ সাংবাদিককে বহিষ্কারের পর বুধবার আরও প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদক হু জিজিন। চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবুতে তিনি বলেন, ‘উভয় পক্ষ যদি পরস্পরের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করে তাহলে আমেরিকান মিডিয়া বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে’। চীনে বর্তমানে ২৯টি মার্কিন সংবাদমাধ্যম কাজ করছে। আর যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছে ১৯টি সংবাদমাধ্যম। সেদিকে ইঙ্গিত করে জিজিন লেখেন, ‘দুই পক্ষ যদি সাংবাদিকের সংখ্যা বা সাংবাদমাধ্যমের সংখ্যা নিয়ে যুদ্ধ করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্রই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে’।

/জেজে/এফইউ/

লাইভ

টপ