করোনা: যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন খামেনি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:৫৫, মার্চ ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২৫, মার্চ ২২, ২০২০

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ইরানের সবচেয়ে বড় শত্রু’ এবং করোনাভাইরাস-বিরোধী লড়াইয়ে সহায়তার প্রস্তাবকে ‘ভণ্ডামি’ বলে অভিহিত করেছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যম পার্স টু ডে এ খবর জানিয়েছে।

রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, মার্কিনিরা যখন করোনাভাইরাস তৈরি করার দায়ে অভিযুক্ত তখন কোনও সুস্থ বিবেকবান মানুষ তাদের কাছ থেকে সাহায্য গ্রহণ করতে পারেন না।

ইরান আবেদন জানালে যুক্তরাষ্ট্র ওষুধসহ অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী পাঠাতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা একাধিকবার যে বক্তব্য দিয়েছেন সেদিকে ইঙ্গিত করে খামেনি বলেন, ‘মার্কিনিদের এসব কথাবার্তা অত্যন্ত বিস্ময়কর। কারণ, তারা নিজেরাই প্রচণ্ডভাবে করোনা মোকাবিলার ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর অভাবে রয়েছেন। কোনও কোনও মার্কিন কর্মকর্তা প্রকাশ্যে এই অভাবের কথা স্বীকারও করেছেন। কাজেই তাদের যদি কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী থেকে থাকে তা দিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সেবা করুক; আমাদের কোনও প্রয়োজন নেই।’

খামেনি আরও বলেন, ‘মার্কিনিরা হয়তো এমন ওষুধ পাঠাতে চায় যাতে ইরানে এই ভাইরাস আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে অথবা স্থায়ীভাবে ছড়িয়ে যায়। অথবা এটাও হতে পারে যে, তারা ইরানি জনগণের ওপর করোনাভাইরাস কতটা কাজ করেছে তা পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে কিছু বিশেষজ্ঞ পাঠাতে চায়। কারণ, বলা হচ্ছে এই ভাইরাসের একটি অংশ তৈরি করা হয়েছে শুধু ইরানি জনগণকে টার্গেট করে। কাজেই তারা তাদের হাতে তৈরি ভাইরাসের প্রভাব যাচাই করে নিজেদের তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা আরও বাড়াতে চায়।’

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভণ্ড, প্রতারক, নির্লজ্জ এবং লোভী হিসেবে উল্লেখ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, তারা সব ধরনের শঠতা এবং ভণ্ডামিপূর্ণ কথা বলেন। তারা নিষ্ঠুর, নির্দয় ও সন্ত্রাসী।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানিদের যা প্রয়োজন তা কেবল তাদের কাছে চাইতে হবে। ট্রাম্পের এ দাবিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ ভণ্ডামি বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছেন, ওয়াশিংটন যখন তেহরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তখন এসব কথার কোনও মানেই হয় না।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি ইরানে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজার ৬৩৮ এবং মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৬৮৫ জনের।

/এএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ