ভারতে করোনা আক্রান্ত শতাধিক মায়ের সুস্থ সন্তান প্রসব

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪:৫০, মে ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৫৮, মে ২১, ২০২০
 
 
ভারতের সুস্থ সন্তান প্রসব করেছেন করোনা-আক্রান্ত শতাধিক মা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, মুম্বাইয়ের লোকমান্য তিলক মিউনিসিপ্যাল জেনারেল হাসপাতালে গত মাসে করোনা আক্রান্ত মায়েদের গর্ভ থেকেই সুস্থভাবে ভূমিষ্ঠ হয়েছে ১১৫ শিশু। বিবিসি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ওই শিশুদের ৩ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে ফলাফল নেগেটিভ আসায় হাসপাতালের ছাড়পত্র পেয়ে গেছে তারাও।
 
মুম্বাইয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে ৮৪০ জনেরও বেশি মানুষ। আক্রান্ত হচ্ছেন গর্ভবতী নারীরাও। লোকমান্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মাসে করোনার সংক্রমণ নিয়ে সন্তান প্রসবকারীদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মায়ের সি-সেকশনের মাধ্যমে ডেলিভারি হয়েছে। আর বাকিরা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। এছাড়াও করোনা আক্রান্ত দুই গর্ভবতী মা হাসপাতালে মারা গেছেন। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে সন্তান প্রসবের আগেই।
 
গত মাসে হাসপাতালে জন্ম নেওয়া ১১৫ শিশুর মধ্যে ৫৬ জন ছেলে ও ৫৯ জন মেয়ে। আক্রান্ত মায়েদের মধ্যে ২২ জনকে অন্য হাসপাতাল থেকে লোকমান্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। আক্রান্ত প্রসূতি মায়েদের বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই তাদের সংক্রমণের উৎস জানা যায়নি। তারা বাড়িতে নাকি বাইরে নাকি হাসপাতাল ওয়ার্ডে সংক্রমিত হয়েছেন তা স্পষ্ট নয়।
 
৪০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষ ওয়ার্ডে করোনা আক্রান্ত মায়েদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ৬৫ জন চিকিৎসক ও ২৪ জন নার্স। আক্রান্ত গর্ভবতী রোগীদের জন্য আরও ৩৪টি শয্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
তিনটি অপারেশন থিয়েটারে ছয়টি বিছানায় ডেলিভারি হচ্ছে। চিকিৎসাকর্মীরা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়ে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
 
লোকমান্য হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান অরুণ নায়েক বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান যে করোনা পজিটিভ আসা বেশিরভাগ নারীর মধ্যেই কোনও উপসর্গ নেই। অল্প কয়েকজন জ্বর ও শ্বাসকষ্ট থাকার কথা বলেছেন। আমরা তাদেরকে চিকিৎসা দিয়ে ডেলিভারির পর বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি।’ অরুণ আরও বলেন, ‘মায়েদের মধ্যে অনেক উদ্বেগ কাজ করছিলো। তারা আমাদেরকে বার বার বলছিলেন, যে তারা মরে গেলে যাবেন, কিন্তু বাচ্চারা যেন সুস্থ থাকে।’
সন্তান জন্মদানের পর মায়েদেরকে একটি বিশেষ ওয়ার্ডে রাখা হয়। এরপর আলাদা একটি কেন্দ্রে ১০ দিন ধরে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। বাচ্চাদেরকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা রাখা হয় না। মায়েরা ফেস মাস্ক ব্যবহার করে সন্তানদের স্তন্যপান করাতে পারেন।
/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ