নীল নদের পানি নিয়ে মিসর-সুদান-ইথিওপিয়া ঐকমত্য

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:০৬, জুন ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৪, জুন ২৮, ২০২০

নীল নদের পানি ব্যবহারের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে মিসর, ইথিওপিয়া আর সুদান। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি হতে যাচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, তিন দেশের মধ্যস্থতাকারী আফ্রিকান ইউনিয়নের অনলাইন বৈঠকের পর এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নীল নদ থেকে মিসরের পানি সরবরাহকে সুরক্ষিত রেখে কীভাবে ইথিওপিয়া জলাধারটি পূর্ণ করে তাদের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি পরিচালনা করবে, তা নিয়ে কয়েক বছর ধরে এই তিনটি দেশের মধ্যে আলোচনা চললেও কোনও সুরাহা হচ্ছিল না। আল জাজিরা বলছে, 'ব্লু নাইল ড্যাম' নামের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশগুলোর মধ্যে এক দশকের বেশি সময় ধরে চলতে থাকা সেই বিরোধের অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শ্বেত নদ ও নীলাভ নদ নামের দুই উপ-নদী সুদানের রাজধানী খার্তুমের কাছে মিলিত হয়ে নীল নদ নামে প্রবাহিত হয়েছে। সুদান থেকে মিসরের ভিতর দিয়ে নদটি ভূমধ্যসাগরে গিয়ে পড়েছে। সুদানের সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে নীলাভ নীল নদের ওপর ‘দ্য গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসান্স ড্যাম (জিইআরডি)’ তৈরি করা হচ্ছে। এই উপ-নদীটিই নীলের পানির প্রধান উৎস আর এর উৎপত্তি ইথিওপিয়ায়।

আফ্রিকান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাসহ ওই তিন দেশের নেতাদের মধ্যে এক অনলাইন বৈঠকের একদিন পর শনিবার ইথিওপিয়ার পানিমন্ত্রী সেলেশি বিকেলে জানিয়েছেন, দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে তিন দেশের মধ্যে মতৈক্য হয়েছে।

চারশ’ কোটি ডলারের এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি থেকে ছয় হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে এবং এ প্রকল্পটি তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য বলে জানিয়ে আসছে ইথিওপিয়া। অপরদিকে নীল নদ মিসরের প্রয়োজনীয় মিঠা পানির ৯০ শতাংশের জোগান দেয়। এক বিবৃতিতে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, নীল নদ ও গ্র্যান্ড রেনেসান্স বাঁধ ‘আফ্রিকার ইস্যু আর এর সমাধান অবশ্যই আফ্রিকা থেকে আসবে’ বলে এই তিনটি দেশ একমত হয়েছে।

এদিকে নীল নদের ওপর নির্ভরশীল আরেকটি দেশ সুদানও ইথিওপিয়া ও মিসরের বিরোধ নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সুদানের প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামডকও নীল নদীর অববাহিকার দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে চুক্তির প্রযুক্তিগত খাতগুলো খতিয়ে দেখার ব্যাপারে তিন দেশই কাজ শুরু করবে।

এদিকে শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও কনফারেন্সের পর মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি বলেছেন, ‘সব পক্ষের মিলিত আলোচনার পর আশা করি কোনও পক্ষই এমন কিছু করবে না, যা অন্যায্য মনে হতে পারে।’

/এফইউ/বিএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ