দ.কোরিয়ায় রেমডেসিভির গ্রহণকারী প্রতি তিনজনে একজনের অবস্থার উন্নতি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:৫৪, জুলাই ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১০, জুলাই ১৩, ২০২০

দক্ষিণ কোরিয়ায় গুরুতর কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর শরীরে রেমডেসিভির প্রয়োগের পর প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে দেখা গেছে। সেদেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। তবে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মনে করে, রেমডেসিভিরই তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছে নাকি অন্য থেরাপি কিংবা তাদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে তা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।

প্রতীকী ছবি

করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য এখন পর্যন্ত কোনও অনুমোদিত ওষুধ নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কার্যকরী ওষুধ নিয়ে গবেষণা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথও বেশ কয়েকটি ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে। এরই একটি হলো রেমডেসিভির। গিলিয়াড সায়েন্সেস-এর তৈরি এ ওষুধটি অতীতে ইবোলার বিরুদ্ধে পরীক্ষা করা হলেও এতে সফলতা এসেছিলো খুবই কম। তবে করোনা আক্রান্তদের শরীরে রেমডেসিভিরের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালিয়ে গিলিয়াড সায়েন্স দাবি করে, এ ওষুধ প্রয়োগের পর আক্রান্তদের সেরে উঠতে সময় কম লাগছে। ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, রেমডেসিভির ওষুধটির সম্ভাবনা আছে। যুক্তরাষ্ট্রে এরইমধ্যে জরুরি প্রয়োজনে করোনা রোগীদের রেমডিসিভির প্রদানের অনুমতি দেওয়া আছে। এছাড়া বাংলাদেশ, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতেও করোনার চিকিৎসায় ওষুধটি ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্পতি সে তালিকায় যোগ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ)।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিভিন্ন হাসপাতালে প্রথম পর্যায়ে রেমডেসিভির গ্রহণকারী ২৭ জন রোগীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (কেসিডিসি) এর পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। কেসিডিসি-এর উপ পরিচালক কৌন জুন উক এ ব্রিফিংয়ে বলেন, ২৭ জনের মধ্যে ৯ জনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে, ১৫ জনের অবস্থা অপরিবর্তিত আছে এবং তিনজনের শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।

কৌন আরও বলেন, রেমডেসিভিরের সাফল্য নিয়ে আরও বিশ্লেষণের প্রয়োজন।

এতোদিন মনে করা হচ্ছিলো, রেমডেসিভির করোনা আক্রান্তদের সুস্থ হওয়ার সময়কে কমিয়ে আনে। এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, প্লাসেবো গ্রহণকারী রোগীদের চেয়ে রেমডেসিভির গ্রহণকারী রোগীরা ৩১ ভাগ দ্রুত গতিতে সুস্থ হচ্ছেন। তবে নতুন এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী গিলিয়াড সম্প্রতি দাবি করেছে, এ ওষুধ গুরুতর আক্রান্তদের মৃত্যুঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখছে।

রেমডেসিভির দিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছে এবং রেমডেসিভির ছাড়া চিকিৎসা করা হয়েছে এমন রোগীদের দুইটি দলে ভাগ করে নতুন বিশ্লেষণটি করা হয়ে। এতে দেখা গেছে, রেমডেসিভির দিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছে এমন রোগীদের মৃত্যুহার ৭.৬ শতাংশ। আর রেমডেসিভির দেওয়া হয়নি এমন রোগীদের মৃত্যুহার ১২.৫ শতাংশ।  

/এফইউ/

লাইভ

টপ