আবারও অ্যামাজনে ছড়াচ্ছে দাবানল

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:০২, আগস্ট ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:০৯, আগস্ট ০২, ২০২০

জুলাই মাসে অ্যামাজন অঞ্চলে দাবানলের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ব্রাজিলের এক সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এ বছরের জুলাইয়ে দাবানল বেড়েছে ২৮ শতাংশ। এতে গত বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে অ্যামাজনে দাবানলের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

অ্যামাজনের দাবানল

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থাকা অক্সিজেনের ২০ শতাংশেরই উৎপত্তি অ্যামাজনে। গবেষকদের মতে এই বন প্রতিবছর ২০০ কোটি মেট্রিক টন কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে। সে কারণে একে ডাকা হয়ে থাকে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ নামে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হারকে ধীর করতে অ্যামাজনের ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। বিশ্বের দীর্ঘতম এ জঙ্গলটির আয়তন যুক্তরাষ্ট্রের আয়তনের প্রায় অর্ধেক।

গত বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে নজিরবিহীন দাবানলে পুড়েছে অ্যামাজন। তখন ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্স (আইএনপিই) বলেছিল, দাবানলে প্রতি মিনিটে অ্যামাজনের প্রায় ১০,০০০ বর্গমিটার এলাকা পুড়ে যাচ্ছে, যা একটি ফুটবল মাঠের প্রায় দ্বিগুণ আয়তনের সমান (একটি ফুটবল মাঠের আয়তন প্রায় ৫ হাজার ৩৫১ বর্গমিটার)।  পরিবেশবাদীদের অভিযোগ প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর সরকারের বাণিজ্যপন্থী নীতির কারণেই আগুন দিয়ে বন ধ্বংসের ঘটনা বেড়ে যায়। গত ১১ বছরের মধ্যে ওই বছর বন ধ্বংসের হার ছিলো সর্বোচ্চ।

সম্প্রতি স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে ব্রাজিলের ন্যাশনাল স্পেস এজেন্সি জানিয়েছে, আবারও ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে অ্যামাজনে। এ বছরের জুলাইয়ে ৬ হাজার ৮০৩টি দাবানলের ঘটনা দেখা গেছে।

ব্রাজিলের অ্যামাজন এনভায়রনমেন্টাল রিসার্স ইন্সটিটিউট-এর বিজ্ঞানবিষয়ক পরিচালক অ্যানে আলেনচার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি ভয়াবহ লক্ষণ। আমরা আশঙ্কা করছি, আগস্ট মাসে পরিস্থিতি খারাপ হবে। আর সেপ্টেম্বর মাসের পরিস্থিতি হবে তার চেয়েও ভয়াবহ।’

পরিবেশবাদী সংগঠন ও গবেষকদের অভিযোগ, ব্রাজিলের চিরহরিত অরণ্যে দাবানলের কারণ পশু পালক ও কাঠুরেরা। জমি ব্যবহারের জন্য বনাঞ্চল পরিষ্কার করতে এসব দাবানল তৈরি করছে। আর এতে সমর্থন দিচ্ছেন দেশটির বাণিজ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো। ক্ষমতা গ্রহণের পরই তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, অ্যামাজনে কৃষি ও খনি তৎপরতা বাড়ানো এবং তা বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করার। জলবায়ু পরিবর্তন ও অরণ্য বিনাশ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অগ্রাহ্য করে তিনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। আইএনপিই’র তথ্য অনুসারে, বলসোনারোর ক্ষমতা গ্রহণের পর অরণ্য বিনাশের ঘটনা বেড়েছে।

 

 

/এফইউ/

লাইভ

টপ