যক্ষ্মার টিকাতে করোনায় সুরক্ষা!

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:০২, আগস্ট ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৬, আগস্ট ০২, ২০২০

যক্ষ্মা প্রতিরোধের ব্যাসিলাস ক্যালমেট গুয়েরিন বা বিসিজি টিকা করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ও আক্রান্তের পর মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে বলে এক নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারি ঠেকাতে যখন সম্ভাব্য ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে মরিয়া প্রচেষ্টা চলমান তখন এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো। এতে বলা হয়েছে, টিকা গ্রহণের প্রথম ৩০ দিনের মধ্যে ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা সবচেয়ে বেশি।


আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট সায়েন্স নামক অলাভজনক সংস্থার একটি জার্নালে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের মার্থা বার্গ।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনায় বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের এত মৃত্যু ও সংক্রমণ হতো না যদি দেশটির সরকার কয়েক দশক আগে সবার জন্য বিসিজি টিকা বাধ্যতামূলক করত।
গবেষণায় উঠে এসেছে, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে বিসিজি টিকার নীতি কার্যকরী হতে পারে।


 

আরও পড়ুন: শৈশবের যক্ষ্মার টিকায় কি করোনা মোকাবিলা সম্ভব হবে?



যক্ষ্মার প্রতিষেধক হিসেবে শিশুর জন্মের পরপরই বিসিজি টিকা দেওয়া হয়ে থাকে। গবেষকরা বলছেন, নভেল করোনাভাইরাসসহ বেশ কয়েকটি সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে মানুষের দেহে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সহযোগিতা করে।
এই গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা ১৩৫টি দেশে নতুন শনাক্তের দৈনিক হার এবং ১৩০টি দেশে সংক্রমণের শুরুতে প্রথম এক মাসে মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন। তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বাধ্যতামূলক বিসিজি টিকা কর্মসূচি করোনার বিস্তারের বক্ররেখার সমরূপতার সঙ্গে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
তবে গবেষকরা বিসিজি টিকাকে করোনার বিরুদ্ধে শতভাগ কার্যকর বা ম্যাজিক বুলেট হিসেবে তুলে ধরেননি। তারা সতর্ক করে বলছেন, এই বিষয়ে আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বিসিজি বাধ্যতামূলক দেশগুলোতেও করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ভিন্নতা ছিল। এর অর্থ হলো, করোনা ঠেকাতে বিসিজি টিকার কার্যকারিতায় অতিরিক্ত সামাজিক ভ্যারিয়েবলের প্রভাব রয়েছে।


বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন করোনায় সংক্রমণ এবং মৃত্যু বাড়লেও এই রোগ নির্মূলে এখন পর্যন্ত কোনও কার্যকর ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করা যায়নি। বিশ্বজুড়ে প্রায় দেড় শতাধিক গবেষণা চললেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মনে করছে, এই ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়ে শীর্ষে রয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চূড়ান্ত পর্ব শুরু হয়েছে।
এর আগে করোনাভাইরাস ও বিসিজি টিকার সম্পর্ক-সূত্র খুঁজতে গিয়ে নিউ ইয়র্ক ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (এনওয়াইআইটি) গবেষকরা দেখেছেন, বাংলাদেশের মতো যেসব দেশ সর্বজনীন নীতিমালার মধ্য দিয়ে বিসিজি টিকা প্রয়োগ করেছে; সেসব দেশে করোনার প্রকোপ কম। ভারতীয় গবেষকদের আশা, করোনার প্রতিরোধক তৈরিতেও এই টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভারতের তামিল নাড়ু রাজ্য সরকার গত মাসে বিসিজি টিকায় প্রবীণ করোনা রোগীদের মৃত্যুর হার কমায় কিনা তা যাচাইয়ের জন্য একটি পাইলট কর্মসূচির অনুমোদন দিয়েছে। শনিবার ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিসিজি টিকা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছে।



/এএ/

লাইভ

টপ