ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণা, এক মাসেই ব্যয় ৫১৮ কোটি টাকা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩:৫১, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২১, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন মূল দুই প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন। রবিবার দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শুধু গত আগস্টেই নির্বাচনি প্রচারণায় ট্রাম্পের ব্যয় হয়েছে ৬১ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৫১৮ কোটি ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৮ টাকা।

২০২০ সালের ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। ফলে প্রচারাভিযান এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে অনেক ভোটার রয়ে গেছেন যারা এখনও সিদ্ধান্ত নেননি কাকে ভোট দেবেন। মূল দুই প্রার্থী ট্রাম্প ও বাইডেন উভয়েই চেষ্টা করছেন এই ঝুলন্ত ভোটারদের কাছে টানতে। তবে এমন ভোটারদের অনেকেই এই দুই প্রার্থীর কাউকে নিয়েই খুশি নন। তারপরও নির্বাচনি প্রচারণায় ঝুলন্ত ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প ও বাইডেন।

রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় শিবির থেকেই বলা হচ্ছে, ২০২০ সালের এ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হচ্ছে ভোটারদের জীবনকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। তারা প্রচারাভিযানের জন্য গত কয়েক সপ্তাহে যে পরিমাণ অর্থ তুলছে তা-ও নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়বে।

এখানে বলে রাখা দরকার, এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প ও বাইডেন শক্তিশালী প্রার্থী হলেও এর বাইরে আরও প্রার্থী রয়েছেন। তারা হচ্ছেন লিবার্টারিয়ান পার্টির জো ইয়র্গেনসেন, গ্রিন পার্টির হাওয়ি হকিন্স, বার্থডে পার্টির কানিয়ে ওয়েস্ট, এ্যালায়েন্স এ্যান্ড রিফর্ম পার্টির রকি দে লা ফুয়েন্তে এবং কনস্টিটিউশন পার্টির ডন ব্ল্যাংকেনশিপ। তবে রাজনৈতিক বিবেচনায় মূল লড়াই হবে ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যেই।

আমাদের কোনও ভালো প্রার্থী নেই

আমি এই নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি- বলছিলেন হিউস্টনের ৩২ বছরের সাইকিয়াট্রিক নার্স সামিয়ান কাজী। তার ভাষায়, ‘আমাদের ভালো কোনও প্রার্থী নেই। এদেশের সুন্দর ভবিষ্যতের আশা জাগবে বা মানুষের জীবন উন্নত হবে, এমন কোনও কিছুই আমরা এই প্রার্থীদের কাছ থেকে পাচ্ছি না।’

সামিয়ান কাজী জানান, তিনি আগেকার নির্বাচনগুলোতে নিয়মিত ভোট দিয়েছেন। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আর ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকেই ভোট দিয়েছেন। এবার তার পছন্দের প্রার্থী ছিলেন বার্নি স্যাণ্ডার্স। কিন্তু ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী নির্বাচনে এই বামপন্থী প্রার্থী হেরে গেছেন। এরপর থেকে সামিয়ান কাজী অনেকটা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।

তিনি বলছেন, ‘সমাজের যে ক্ষমতাবানরা এদেশে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করে - তারা তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ হুমকির মুখে পড়ুক তা চায় না।’

সামিয়ান কাজী বলেন, ‘আসলে আমেরিকা এখনও একটি গণতান্ত্রিক দেশ হতে চাইছে কিনা এটাই আমার সন্দেহ হয়। এ দেশটি আসলে একটি প্লুটোক্রেসি বা ধনিকতন্ত্র। ধনীদের নিয়ন্ত্রণ হুমকির মুখে ফেলতে পারে এমন কোনও কাঠামোগত বা অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কথা এখানে নিষিদ্ধ। কেউ এমন কিছু করতে চাইলেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হবে।’ সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি।

/এমপি/

লাইভ

টপ
X