ব্রাসেলস হামলার ঘটনায় ৬ সন্দেহভাজন গ্রেফতার

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৮:৫৬, মার্চ ২৫, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৬, মার্চ ২৫, ২০১৬

মঙ্গলবারের হামলার পর নিরাপত্তা জোরদার করেছে বেলজিয়ামব্রাসেলসের বিমানবন্দর ও মেট্রো স্টেশনে হামলার ঘটনায় ৬ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে বেলজিয়াম পুলিশ। স্কায়েরবিক এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তবে সন্দেহভাজনদের পরিচয় কিংবা হামলার সঙ্গে তাদের কী ধরনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে সে ব্যাপারে বিম্তারিত জানানো হয়নি। এদিকে আলাদা করে হামলার পরিকল্পনাকারী সন্দেহে প্যারিস থেকে একজনকে আটক করেছে ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাসেলস হামলার সন্দেহভাজনদের খুঁজতে স্কায়েরবিক এলাকার বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। একইদিন বিকেলে ফরাসি পুলিশও প্যারিসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালায়। তার কয়েক ঘণ্টা আগে নতুন একটি হামলার পরিকল্পনাকারী সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওই সন্দেহভাজন তার পরিকল্পনার শেষ ধাপে ছিলেন। তবে তার হামলা পরিকল্পনার সঙ্গে প্যারিস কিংবা ব্রাসেলস হামলার সংযোগ রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ব্রাসেলস হামলার ঘটনায় শনাক্ত হওয়া তিন সন্দেহভাজন

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বিমানবন্দর ও মেট্রো স্টেশনে পৃথক বোমা হামলায় অন্তত ৩৪ জন নিহত হন বলে জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। এর মধ্যে ২০ জন মেট্রো স্টেশনের হামলায় এবং ১৪ জন বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় নিহত হন বলে জানানো হয়। তবে, বুধবার সরকারিভাবে ৩১ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।


ব্রাসেলসের বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা জানান, ফুটেজে তিন সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ব্যস্ত চেক ইন এলাকার দিকে বোমাভর্তি স্যুটকেস টেনে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এরমধ্যে দুই সন্দেহভাজন তাদের বাম হাতে কালো রংয়ের দস্তানা পরে ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই দুজন তাদের নখের আবরণে ঢাকা ডিভাইস ব্যবহার করেই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন।
বুধবার বেলজিয়ামের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয় সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়া তিন সন্দেহভাজনের দুজন আত্মঘাতী হামলাকারী। ওই দুই হামলাকারীর নাম খালিদ এল-বাকরাওই ও ব্রাহিম এল-বাকরাওই। সম্পর্কের দিক দিয়ে তারা পরস্পরের ভাই বলে নিশ্চিত করা হয়। আর সাদা কোটধারী তৃতীয় সন্দেহভাজনকে ‘ম্যান ইন হোয়াইট’ আখ্যা দিয়ে তাকে আটক করতে তল্লাশি শুরু হয়। ধারণা করা হয়, ওই ব্যক্তির নাম নাজিম লাকরাওই। তাকে আইএসের বোমা প্রস্তুতকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যিনি প্যারিসের হামলায়ও জড়িত ছিলেন বলে মনে করা হয়ে থাকে। বুধবার সকাল থেকে নাজিমের জন্য তল্লাশি এবং তাকে গ্রেফতারের গুঞ্জনসহ সেখানকার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে গ্রেফতারের খবরও প্রকাশিত হয়। সেই খবরের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও নাজিমের গ্রেফতারের খবর দেয়। তবে পরে সেই খবর প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এক সংবাদ সম্মেলনে প্রসিকিউটর ফ্রেডেরিক ভ্যান লিউ জানান, সাদা কোটধারী ব্যক্তি নাজিম নন। নাজিম আসলে ব্রাসেলসের বিমানবন্দরের হামলায় মারা গেছেন। কারণ তিনি ছিলেন দুই আত্মঘাতীর একজন।
প্রসিকিউটর জানান, সিটিভি ফুটেজে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হওয়া তিন সন্দেহভাজনের মধ্যে বাম পাশের জনকে পরে নাজিম বলে চিহ্নিত করা হয়। আর মাঝের জন হলেন ব্রাহিম এল বাকরাওই। এরা দুজন বিমানবন্দরে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর পরে ডানের ব্যক্তিকে মেট্রো স্টেশনে হামলা চালাতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে তিনিই ব্রাহিমের ভাই খালিদ।
ব্রাসেলস হামলায় আহতদের একজন (2)

তুরস্ক অভিযোগ করেছে, ব্রাহিম তুরস্কে আটক হয়েছিলেন এবং পরে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসবাদী’র বিষয়ে সতর্কও করা হয়। কিন্তু তারা এ বিষয়ে কোনও সতর্কতা অবলম্বন করেননি।
বুধবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান দাবি করেছেন, তুর্কি কর্তৃপক্ষ গত বছর জুনে ব্রাহিম এল-বাকরাওইকে সিরীয় সীমান্তের নিকটবর্তী গাজিয়ানতেপ এলাকা থেকে আটক করে এবং পরে জুলাইয়ে তাকে নেদারল্যান্ডসে ফেরত পাঠানো হয়। তবে বাকরাওইকে কিভাবে নেদারল্যান্ডস থেকে বেলজিয়ামে স্থানান্তরিত করা হয়, সে বিষয়ে এরদোয়ান কিছু উল্লেখ করেননি।
এদিকে প্যারিস হামলার মূল সন্দেহভাজন হিসেবে বেলজিয়ামে আটক সালাহ আব্দেসলাম ব্রাসেলস হামলা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবি ম্যারি।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে একযোগে কয়েকটি স্থানে আইএসের হামলায় নিহত হন ১৩০ জন। ওই হামলার অন্যতম সন্দেহভাজন সালাহ আবদেসালামকে গত ১৮ মার্চ ব্রাসেলস থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে গ্রেফতারের পর থেকেই সতর্ক অবস্থায় ছিল বেলজিয়ামের কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আবদেসালামকে গ্রেফতারের মাত্র চার দিনের মাথায় জোড়া হামলায় রক্তাক্ত হয় ব্রাসেলস। একটি বিমানবন্দর ও একটি মেট্রোরেলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন ৩৪ জন। আহত হন দুই শতাধিক।
আব্দেসলামের গ্রেফতারের সঙ্গে ব্রাসেলস হামলার সংযোগ রয়েছে বলে মনে করা হয়ে থাকে। সূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি
/এফইউ/

লাইভ

টপ