মলত্যাগ শরীরের স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রতিদিনের কিছু ভুল অভ্যাস এই স্বাভাবিক কাজটিকেই অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। দীর্ঘদিন এসব অভ্যাস চলতে থাকলে দেখা দিতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য, অর্শসহ নানা ধরনের সমস্যা। তাই শৌচাগারে যাওয়ার সময় কয়েকটি বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
বেগ পেলেও তা আটকে রাখার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। কাজের ব্যস্ততা কিংবা বাইরে অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার ব্যবহারের অনীহায় অনেকে মলত্যাগ পিছিয়ে দেন। মাঝেমধ্যে এমনটা বড় সমস্যা না হলেও নিয়মিত বেগ চেপে রাখার অভ্যাস ক্ষতিকর হতে পারে। দীর্ঘ সময় মল বৃহদান্ত্রে আটকে থাকলে সেখান থেকে অতিরিক্ত পানি শোষিত হয়। এতে মল শক্ত হয়ে যায় এবং পরে মলত্যাগ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস থাকলে মলত্যাগের স্বাভাবিক সংকেতও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
শৌচাগারে বসে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করাও ভালো অভ্যাস নয়। ফোন দেখতে দেখতে অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সময় কমোডে বসে থাকেন। দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় বসে থাকার ফলে মলদ্বারের আশপাশের শিরায় চাপ বাড়তে পারে, যা অর্শের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই প্রয়োজন শেষ হলে অযথা শৌচাগারে বসে না থাকাই ভালো।
কোষ্ঠকাঠিন্য হলে অতিরিক্ত জোর প্রয়োগ করাও এড়িয়ে চলা উচিত। শক্ত মল বের করার জন্য বারবার চাপ দিলে মলদ্বারের আশপাশে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে অর্শের সমস্যা তৈরি হতে পারে বা আগে থেকে থাকা সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে জোর করার বদলে খাবারে পর্যাপ্ত আঁশ ও পানি রয়েছে কি না, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
মলত্যাগের ভঙ্গিও স্বস্তির সঙ্গে মলত্যাগে ভূমিকা রাখে। কমোড ব্যবহারের সময় পায়ের নিচে ছোট পিঁড়ি বা উঁচু টুল রাখলে হাঁটু কিছুটা ওপরে উঠে আসে। এতে শরীর অনেকটা বসে মলত্যাগের ভঙ্গির কাছাকাছি অবস্থানে থাকে এবং মলত্যাগ সহজ হয়।
তাই নিয়মিত বেগ চেপে রাখা, শৌচাগারে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার, অতিরিক্ত চাপ দেওয়া এবং অস্বস্তিকর ভঙ্গিতে বসার মতো অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখাও স্বাভাবিক মলত্যাগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।