সাক্ষাৎকারআমি ঢাকার প্রায় সব গাছপালাই চিনি : দ্বিজেন শর্মা

Send
.
প্রকাশিত : ১৪:৪১, জুন ১৩, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২৬, জুন ১৩, ২০১৭

[অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা একাধারে শিক্ষক, অনুবাদক, বিজ্ঞান লেখক। জীবনের সবটুকু সময় বৃক্ষ ও পরিবেশের জন্য ব্যয় করেছেন। ছেলেবেলায় সুবর্ণ সময় কাটিয়েছেন জন্মস্থান মৌলভীবাজার জেলার পাথারিয়া পাহাড়ের কোলে। শিক্ষকতা করেছেন করিমগঞ্জ কলেজ, বিএম কলেজ ও নটরডেম কলেজে। মস্কোর প্রগতি প্রকাশনে অনুবাদকের কাজ করেছেন প্রায় বিশ বছর। মস্কো বসবাস করার সূত্রে খুব কাছ থেকে দেখেছেন সমাজতন্ত্র। দেশে ফিরে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিতে। বাংলা একাডেমি, একুশে পদকসহ বিভিন্ন জাতীয় সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। আজীবন নিসর্গী এই মানুষটি তাঁর ঘটনাবহুল জীবনের নানান গল্প শুনিয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোকারম হোসেন।]


মোকারম হোসেন : আপনার শিক্ষাজীবন সম্পর্কে কিছু বলুন। তখন চারপাশের প্রকৃতি ও পরিবেশ কেমন ছিল?
দ্বিজেন শর্মা : শুরুটা গ্রামের পাঠশালায়, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছি ৪ মাইল দূরের পিসি হাইস্কুলে। তারপর করিমগঞ্জ (আসাম) পাবলিক হাইস্কুলে। আইএসসি আগরতলার মহারাজা বীরবিক্রম কলেজে। করিমগঞ্জ স্কুলে আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় সময় কাটিয়েছি। চারপাশের প্রকৃতি ছিল অসাধারণ সুন্দর। অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধুও জুটেছিল। আড্ডা ও গল্পের বই পড়া ছিল আমাদের নেশা। সেই স্কুলে কোনো মারধরের বিষয় ছিল না। শিক্ষকরা ছিলেন বন্ধুসম। কিন্তু আগরতলার পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ পৃথক। ছাত্র পড়িয়ে এক বাড়িতে থাকতাম। তারাও ছিলেন দরিদ্র, খাওয়া দাওয়ায় বেশ অসুবিধা হতো। তাই মাঝে মাঝে বাড়ি চলে আসতাম। বাড়ি এলে আর ফিরতে ইচ্ছে করত না। সেখানে দু-বছর পড়াশুনা করি। আমাদের ব্যাচ ছিল ওই কলেজের প্রথম ব্যাচ। কলেজের চারপাশেই ছিল ঘন বন। কলেজ থেকে দেখতাম বুনো হাতি নিচেই দাঁড়িয়ে আছে। রাতে শহরেও হানা দিত। কলেজের টিলায় বুনো পেয়ারা জন্মাত। আমরা সেসব পেয়ারা খেতাম। এ ধরনের ঝোপাল পেয়ারা গাছ আর কোথাও দেখিনি। ১৯৫০ সালে কলকাতা সিটি কলেজে বিএসসিতে ভর্তি হই। সেখানে এক বন্ধুর প্রভাবে মার্কসবাদে আকৃষ্ট হই এবং পাঠ্যবই ফেলে মার্কসীয় সাহিত্যে পড়াশুনা শুরু করি। থাকতাম ব্যারাকপুরে এক উদ্বাস্তু কলোনীতে ছাত্র পড়িয়ে। পাশেই ছিল রেল লাইন। পাকিস্তানি সবুজ রঙের রেলগাড়ি এই পথে কলকাতা পৌঁছাত। ট্রেন দেখলেই বাড়ির কথা মনে পড়ত। বেশ কয়েকবার পাঠ্যবই বিক্রি করে বাড়ি চলে এসেছি। পড়াশুনায় মন বসত না একেবারেই।

মোকারম হোসেন : পরে কী আবার স্বেচ্ছায় চলে যেতেন?
দ্বিজেন শর্মা : হ্যাঁ, আমার পড়াশুনার ক্ষেত্রে মা-বাবা কখনো চাপ প্রয়োগ করতেন না। কয়েকদিন পর নিজেরই মনে হতো ফিরে যাওয়া উচিত।

মোকারম হোসেন : আপনার ছেবেলার স্বপ্ন ছিল...
দ্বিজেন শর্মা : তখন দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ চলছিল। আকাশে ঝাঁকে ঝাঁকে বিমান। খুব কাছেই কাছাড় জেলার (বর্তমানে ভারত) কুম্ভির গ্রামে ছিল বিমান ঘাঁটি। সারাদিন বিমানের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে যুদ্ধ বিমানের বৈমানিক হবার স্বপ্ন দানা বাঁধে। কিন্তু একদিন এ স্বপ্ন মুছে যায়। মা সবসময় বলতেন আমাকে ডাক্তার হতে হবে। কারণ আমাদের পারিবারিক পেশা কবিরাজি। আমিও তাঁর স্বপ্নে প্রভাবিত হয়েছিলাম। কিন্তু আমার ডাক্তার হবার সাধও অপূর্ণই থেকে যায়। কলকাতা যেতে একদিন দেরি হওয়ায় মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হতে পারিনি। পরে সিটি কলেজে বিজ্ঞানের স্নাতক কোর্সে ভর্তি হই।

মোকারম হোসেন : আপনার কোনো প্রিয় শিক্ষকের কথা মনে পড়ে?
দ্বিজেন শর্মা : সিটি কলেজে (কলকাতা) মানব শরীর বিদ্যার অধ্যাপক ডা. রাসগৌর ঘোষাল মানব-শারীর বিদ্যা পড়াতেন। এমন শিক্ষক কমই পেয়েছি। কবি অশোক বিজয় রাহার কাছেও পড়েছি। অসাধারণ শিক্ষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুলতান আহমদ খান ছিলেন আমার শিক্ষক ও গাইড। লক্ষ্মৌর এই শিক্ষক ও গবেষকের কথা ভোলার নয়। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর তিনি আর এদেশে আসেননি।

মোকারম হোসেন : নটরডেম কলেজের গাছপালা সমৃদ্ধ সুন্দর নৈসর্গিক ক্যাম্পাস নির্মাণে আপনার অবদান অপরিসীম। কখন ও কিভাবে এ কাজ শুরু করলেন সে সম্পর্কে কিছু বলুন।
দ্বিজেন শর্মা : নটরডেম কলেজে আমি যোগ দেই ১৯৬২ সালে। সম্ভবত ১৯৬৫ সালে কলেজ বাউন্ডারিতে ছোট্ট একটা জায়গাতে ছাত্রদের ব্যবহারিক ক্লাশের জন্য অল্প কিছু গাছ লাগাই। সে সময় সারা কলেজ ক্যাম্পাসেই বাগান করার প্রস্তাব দিই ফাদার টিমকে। উনি আমার প্রস্তাব সমর্থন করেন। ফাদার বেনাস সেদিনই কলেজ ছুটির পর আমাকে বায়োলজি ল্যাবে আসতে বলেন। আমি গিয়ে দেখি তিনি পুরো কলেজের মডেল সামনে নিয়ে বসে আছেন। কাঠির ওপরে তুলো জড়িয়ে কিছু গাছের মডেলও বানিয়েছেন। ফাদার বললেন- এই লন, এই মাঠ সবই আছে- কোথায় কোন গাছ লাগাবে দেখ। সেই থেকে গাছ লাগানোর শুরু। আমারও ল্যান্ডস্ক্যাপিং-এ এই প্রথম হাতেখড়ি। কোন গাছের উচ্চতা, মাথার আকার-আকৃতি, পাতার রঙ এসব নিয়ে কোন ভিন্ন মত হলেই ফাদার তার ভেসপার পেছনে চড়িয়ে চলে যেতেন সেই গাছের কাছে। । শ্যামলী নিসর্গ লিখছি তখন। কাজেই কোথায় কোন গাছ পাওয়া যাবে তা ভালোই জানতাম। এভাবেই আমরা কলেজের ল্যান্ডস্ক্যাপিং-এর প্ল্যানটা করি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মালি মোক্তারকে আমাদের কলেজে নিয়ে আসি- সে খুবই কর্মঠ ছিল। এভাবেই ক্যাম্পাসটা গড়ে ওঠে; অসাধারণ সুন্দর একটা ক্যাম্পাস। আমি তো ৩/৪ বছর পরে প্রায় সন্ধ্যায়ই কলেজে গিয়ে মাঠে একা একা বসে থাকতাম বা ঘুরে বেড়াতাম। কোথাও কোনো শব্দ নেই, একেবারেই নিরিবিলি চারপাশ। পাখি আসত কতো। সেখানে আলাদা একটা সৌন্দর্য ছিল, যা আমি দারুণ উপভোগ করেছি। আমি আশা করি এই প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাও এর দ্বারা উদ্বুদ্ধ হবে, উপভোগ করবে এবং শিখবে কিভাবে প্রকৃতির সঙ্গে বসবাস করতে হয়, প্রকৃতিকে সুন্দর করে সাজানো যায় এবং একটা ছোট্ট বাড়িকেও কিভাবে গাছপালা দিয়ে চমৎকার করে সাজানো যায়। এটা একটা বড় শিক্ষা।

মোকারম হোসেন : আপনার রাশিয়া যাবার ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ইচ্ছা কাজ করেছে কি না?
দ্বিজেন শর্মা : সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন দেখা আবাল্যকালের স্বপ্ন। স্বপ্নেও দেখেছি কয়েকবার, কাশ্মির পাড়ি দিয়ে সে দেশে ঢুকে পড়েছি এবং অন্তহীন আপেল বাগানের ভেতর দিয়ে ছুটছি। সেই স্বপ্নের রাশিয়া যাবার আমন্ত্রণ পেয়ে বিন্দুমাত্রও বিলম্ব না করে চাকরির সুযোগটা গ্রহণ করি। আরেকটি আকাঙ্ক্ষাও ছিল, রাশিয়া গেলে ইউরোপে, বিশেষত ইংল্যান্ডে যেতে পারব এবং ডারউইনের জন্মস্থান ও কর্মস্থল দেখতে পাব। কিউ গার্ডেন দেখা ছিল আরেকটি স্বপ্ন, সেই সঙ্গে লন্ডনের পার্কগুলোও। আমার সেসব আশা পূর্ণ হয়েছে।

মোকারম হোসেন : বাম রাজনীতির সঙ্গে পরোক্ষ সংযোগের কারণে আপনাকে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। এমনকি কারাবরণও করতে হয়েছে। সেই জীবন সম্পর্কে জানতে চাই।
দ্বিজেন শর্মা : আমি কলকাতা পড়ার সময় বাম রাজনীতির সংস্পর্শে আসি। ন্যাশনাল বুক অ্যাসেম্বলির বইপত্র পড়েছি। বামপন্থি ছাত্রদের সঙ্গে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি। ব্যারাকপুরের উদ্বাস্তু কলোনিতে থাকতাম। সেখানে একটি গল্প প্রতিযোগিতায় ‘সীমান্ত’ নামে আমার একটা গল্প পুরস্কৃত হয়। তাতে বন্ধু-বান্ধবের সংখ্যা বিস্তর বেড়ে যায়। আমি কিছুতেই তেমন জড়াইনি। সতত বাড়ির কথা মনে পড়ত। দু-তিন বার পাঠ্যবই বিক্রি করে পড়াশোনা বন্ধ রেখে বাড়ি চলে এসেছি। কলকাতা আমার মোটেও ভালো লাগেনি। দেশে এসে রাজনীতির সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল সামান্যই। তবু লোকে কেন জানি আমাকে বামপন্থি বলে ভাবত। সম্ভবত সেজন্যই ১৯৬২ সালে ছাত্র আন্দোলনের সময় আমি গ্রেফতার হই এবং বরিশাল জেলে তিন মাস নিরাপত্তা বন্দি ছিলাম। আমি তখন বিএম কলেজের অধ্যাপক। আমি আজও রাজনীতিতে আউটসাইডার।

মোকারম হোসেন : ১৯৭০ সালের জলোচ্ছ্বাসে দুর্গত মানুষের সেবা কাজে কিভাবে জড়িয়ে গেলেন? সেই অভিজ্ঞতা জানতে চাই।
দ্বিজেন শর্মা : আমি তখন বরিশালে। বন্ধু-বান্ধব অনেকেই ঘূর্ণিঝড়ের পর উপকূলে ছুটে গেছেন। আমিও একদলের সঙ্গে সেখানে যাই। এমন পরিস্থিতি জীবনে দেখিনি। শত-শত গরু মহিষ ফুলে ওঠা শরীর নিয়ে জলে ভাসছে, অসহ্য দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। গাছপালা সব মাটিতে গড়াচ্ছে। কলাবাগান তছনছ। শুধু এক জাতের গাছই দেখলাম খাড়া হয়ে আছে এবং সেটি গাবগাছ। পরিস্থিতি ততদিনে বেশ সহনীয় হয়ে উঠেছে। আমি তখন বরিশালের উদ্দেশে রওয়ানা হই।

মোকারম হোসেন : মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনি কোথায় ছিলেন? তখনকার কোনো স্মরণীয় অভিজ্ঞতা বা স্মৃতি জানতে চাই।
দ্বিজেন শর্মা : একাত্তরের ২৯ মার্চ আমি ঢাকা ছেড়ে যাই। ফিরে আসি ডিসেম্বরের শেষের দিকে। এই নয় মাস আমি স্ত্রী ও সন্তানদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম। আমার প্রথম আশ্রয়স্থল ছিল ঢাকার (বর্তমানে গাজীপুর) পুবাইলের নাগরী নামের একটি জায়গা। পুরো এলাকাটা ছিল খ্রিস্টান অধ্যুষিত। আমার বাসায় পল রোজারিও নামে একটা খ্রিস্টান ছেলে থাকত। সে-ই আমাকে নাগরীতে তাদের বাড়ি নিয়ে যায়। আমেরিকান অ্যাম্বেসির বিশেষ দৃষ্টি ছিল বলে পাকবাহিনি ওই এলাকায় অভিযান চালাত না। সেখানে প্রায় ২০ হাজার অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু সেখানকার তরুণরাও যখন মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে থাকে, গেরিলা আক্রমণ শুরু করে তখন জায়গাটা অনিরাপদ হয়ে উঠছিল। জুলাই মাস পর্যন্ত সেখানে থাকি। এরপর প্রথমে আগরতলা ও পরে আগরতলা থেকে কলকাতা চলে যাই। ডিসেম্বরে ঢাকায় ফিরে বন্ধুর বাড়িতে স্ত্রী ও পুত্র-কন্যার সাথে দেখা হয়। শুনলাম আমার শ্বশুর ১৫ আগস্ট বরিশালে পাকবাহিনির হাতে নিহত হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আমার বিভিন্ন লেখা নিয়ে ‘আমার একাত্তর ও অন্যান্য’ নামে একটি বই বের হয়েছে। বইটিতে সে সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

মোকারম হোসেন : প্রবাসে থাকার সময় ননী ভৌমিক, অরুণ সোম সহ অনেক বিখ্যাত অনুবাদকের সংস্পর্শে আসার, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সুযোগ হয়েছে। প্রবাস জীবনের এই স্মৃতি আপনার এক অনন্য অভিজ্ঞতা। প্রগতি প্রকাশনে কাজের গল্প জানতে চাই।
দ্বিজেন শর্মা : ১৯৭৪ সালের আগস্ট মাসে আমি ও খালেদ চৌধুরী প্রগতি প্রকাশনে যোগ দিতে মস্কো পৌঁছাই। সেদিন বিকালেই প্রগতিতে গেলে ননীদার সঙ্গে দেখা হয়। অনেকদিন থেকেই তিনি মস্কো আছেন, রুশ থেকে বাংলা অনুবাদ করতেন। তিনি আমাদের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তার বাড়িতে ছিল আমাদের সকলের জন্য অবারিত দ্বার। তিনি মারা যান আমি মস্কো থেকে চলে আসার পর। অরুণ সোম ছিলেন আমার অতি ঘনিষ্ঠ। তিনিও রুশ থেকে বাংলায় অনুবাদ করতেন। গল্প-উপন্যাস অনুবাদে তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। সমাজতন্ত্রের পতনের কিছু দিন পর দেশে ফিরে আসেন। এখন দেশেই আছেন এবং রুশ থেকে বাংলায় অনুবাদ করে চলছেন। প্রফুল্ল রায় কলকাতা থেকে পরে আমাদের সঙ্গে যোগ দেন। রাজনৈতিক সাহিত্যে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ, চমৎকার রবীন্দ্র সংগীত গাইতেন। আমাদের ওপরতলায় ছিল তার বাসা, নিত্যই বহুবার দেখা হত। আড্ডা হত, গান হত। তিনি বাগানে আমার সঙ্গে কাজ করতেন। আমরা একসঙ্গে বেড়াতাম। তিনি মার্ক্সের দাস ক্যাপিটাল’র তিন খণ্ড অনুবাদ করেন। হঠাৎ একদিন শেষরাতে তার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।

মোকারম হোসেন : দেশে ফিরে আসার পরে এশিয়াটিক সোসাইটিতে যোগদান করেছেন। সেখানে কি বিষয়ে কাজ করতেন। সেই জীবন সম্পর্কে জানতে চাই।
দ্বিজেন শর্মা : ২০০০ সালে আমি এশিয়াটিক সোসাইটিতে বাংলাপিডিয়া প্রকল্পে যোগ দিই, জীববিদ্যার অনুবাদক-সম্পাদক হিসেবে। ২০০৩ সাল পর্যন্ত আমি সেখানে কর্মরত ছিলাম। ২০০৪ থেকে ২০১০ পর্যন্ত আমি ছিলাম ‘উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ’ প্রকল্পের সভাপতি।

মোকারম হোসেন : আপনার ব্যক্তিগত জীবন- বিয়ে, স্ত্রী, ছেলেমেয়েদের সম্পর্কে জানতে চাই।
দ্বিজেন শর্মা : ১৯৬০ সালে দেবী চক্রবর্তীর সঙ্গে আমার বিবাহ হয়। আমার এক ছেলে (সুমিত্র) ও এক মেয়ে (শ্রেয়সী)। সুমিত্র মস্কো থাকেন, পেশায় চিকিৎসক। কন্যা মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইক্রোবায়োলজিতে এমএস। এখন সংসার পেতেছেন লন্ডনে, স্বামী মহাবীর পতি, বাণিজ্যিক সংস্থায় কাজ করেন। তাদের দুটি মেয়ে, বড়টি শৈলী ও ছোটটি জয়ী। আমার পুত্র সুমিত্রর একটি ছেলে, আন্তন শর্মা। আমার পুত্রবধূ রুশ। আন্তন আইন শাস্ত্রের ছাত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ে আছেন।

লাইভ

টপ