লাতিন আমেরিকার জাদুবাস্তবতা | আলেহো কার্পেন্তিয়ের | শেষ পর্ব

Send
তর্জমা : মুহম্মদ মুহসিন
প্রকাশিত : ০৭:০০, জুন ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০০, জুন ২৬, ২০২০

 

পূর্ব প্রকাশের পর

এভাবে জাদুবাস্তব বা বাস্তব অতিক্রান্ত বিষয়কে ইচ্ছে করে বানানোর ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হলো এতে স্বপ্ন-কারিগরির আমলাতান্ত্রিকতার মধ্যে পড়তে হয়। সনাতন এইসব ফরমুলা মেনে চিত্রশিল্প কিছু ক্ষেত্রে হয়ে দাঁড়িয়েছে জীর্ণ তৈজসের ভাগাড়, যেমন—চিনির পলেস্তারামাখা ঘড়ি, দর্জিবুড়ির পোশাকের ডামি, অথবা অবোধ্য কোনো শিশ্ন-ভাস্কর্য। ইউরোপের এই জাদুবাস্তব যেন আটকে গেছে কোনো এক ছাতার শলাকায়, অথবার চিংড়ির করাত-কাঁটায়, অথবা ব্যবচ্ছেদ টেবিলের একটা কিছুতে, অথবা একটি বিষণ্ন কক্ষে অথবা একটি পাথুরে মরুভূমিতে। অধ্যাপক ও লেখক মিগুয়েল দে উনামুনো একবার বলেছিলেন কল্পনার অভাব হলেই নিয়ম-কানুন মুখস্থ করতে শিখতে হয়। ইউরোপে সেই নিয়ম-কানুন চালু হয়েছে কোঁৎ দে লোত্রেয়ামোঁর (Comte de Lautreamont) কাব্য Les chants de Maldoror-এর প্রস্তাব অনুযায়ী ডুমুর কর্তৃক গাধা ভক্ষণের নীতিতে। এই নিয়ম বা কোডে নির্মিত জাদুবাস্তবতায় আমরা পাই বুলবুলির ভয়ে আতঙ্কিত শিশু (Max Ernst-এর চিত্র) অথবা আন্দ্রে ম্যাসনের পাখি-খেকো ঘোড়া। লক্ষণীয় যে, যখন আন্দ্রে ম্যাসন মার্তিনিকের জঙ্গল আঁকতে চেষ্টা করলেন, মার্তিনিক জঙ্গলের অবিশ্বাস্যরকম জড়িয়ে-পেঁচিয়ে যাওয়া গাছ-গাছালি এবং এর ফলফলাদির নোংরা-রকম যৌনাচার (!) বিষয়ক জাদুবাস্তবতা আন্দ্রে ম্যাসনের শিল্পসত্তাকে গিলে ফেললো, অক্ষম পুরুষের মতো তিনি সাদা কাগজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেন, কিছুই উৎপাদন করতে পারলেন না। এর জন্য দরকার হয়েছিল একজন লাতিন আমেরিকান পেইন্টার। কিউবান শিল্পী উইলফ্রেডো ল্যাম আমাদেরকে শেখালেন নিরক্ষীয় বনের জাদুবাস্তবকে কীভাবে উপস্থাপন করতে হয়। আমাদের প্রকৃতির সরবরাহকৃত ফরম বা চিত্র-এককগুলোকে তাদের রূপ-রূপান্তরে এবং যৌগায়নে অবারিতভাবে ক্যানভাসে ছেড়ে দিয়ে এক অনন্য প্রকাশে এই জাদুবাস্তবকে ক্যানভাসে জীবন্ত করে তোলার বিষয়টি সমসাময়িক শিল্পজগতকে দেখিয়েছেন শিল্পী উইলফ্রেডো ল্যাম। পঁচিশ বছর ধরে একই আকাশের নিচে একই পাথুরে লার্ভা আঁকার সুরিয়ালিস্ট শিল্পী ইভেস তানগুয়ির (Yves Tanguy) কল্পনার বন্ধ্যাত্ব দেখে আমি সুরিয়ালিস্টদের কাছ থেকে শেখা কথাটিই বলতে চাই—‘তোমাদের যাদের দেখার যোগ্যতা নেই, তারা যারা দেখতে পায় কল্পনায় তাদেরকে দেখ’ (Vous qui ne voyez pas, pensez a ceux qui voient)। ইউরোপিয় ঐ অস্বাভাবিক বাস্তবের পক্ষে ওকালতি করতে গিয়ে লোত্রেয়ামোঁর কথা ধার করে বলা হয়—এখনো অনেক ‘মানুষ আছে যারা সদ্য মৃত সুন্দরী নারীর সঙ্গে সঙ্গম করে আনন্দ পায়’, আমি তাঁদেরকেই জিগ্যেস করতে চাই—এই বিকৃত রুচির মানুষগুলোই কি বেশি আনন্দ পাবে না যদি কি-না ঐ নারীটি মৃত না হয়ে জীবিত একজন হয়? একটি বড় বিষয় হলো এই শিল্পীরা অনেকে শিল্পীর চেয়ে বরং জাদুশিল্পী হতে বেশি পছন্দ করছেন। তাঁরা ভুলে যান যে, জাদুবাস্তব অব্যর্থভাবে জাদুবাস্তব হয়ে ওঠে যখন বাস্তবের একটি অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন থেকে এটি উদ্ভূত হয়, অথবা যখন বাস্তবের একটি অসাধারণ আসমানি প্রকাশ থেকে এর উদ্ভব হয়, অথবা যদি বিভা ও বৈচিত্র্য দ্বারা কারো অনুভবে এক দার্শনিক উৎসারণ সংঘটনে সক্ষম এমন এক বাস্তব থেকে তার উদ্ভব হয়, অথবা যদি একটি বাস্তবের প্রকরণ ও আয়তনিক সীমা-অতিক্রমী এক সম্প্রসারণ থেকে এর জন্ম বা উদ্ভব হয়। শেষোক্ত বিষয়ে স্মরণীয় যে, বাস্তবের এমন সীমা-অতিক্রমী সম্প্রসারণ অনুভূত হতে হবে কোনো উদ্দীপিত আত্মিক বা আধ্যাত্মিক প্রভার মাধ্যমে। শুরুতেই এ কথা বলে নেয়া দরকার যে, জাদুবাস্তবের এই সকল ক্ষেত্রেই এর অপিরহার্য বৈশিষ্ট্য হলো একে অবশ্যই বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে, অর্থাৎ পাঠক-দর্শকের বিশ্বাস একে অর্জন করতেই হবে। তবে বিশ্বাসের ব্যাপারে মনে রাখতে হবে যাঁরা সেইন্ট বিশ্বাস করেন না তাঁরা সেইন্টদের অলৌকিক ক্ষমতার দ্বারা তো উপকারের আশা করতে পারেন না। আবার যাঁরা দোন কিহোতে নন তাঁরা সশরীরে বা সর্বান্তকরণে তো আমাদিস ডে গাউল কিংবা তিরান্ত লে ব্লাঙ্ক গ্রন্থে প্রবেশ করতে পারবেন না। সার্ভেন্তিসের কাব্য-উপন্যাস দি লেবারস অব পেরসিলেস এন্ড সেগিসমুন্দা-এ বর্ণিত নেকড়েতে পরিণত মানুষগুলোর বিষয়ে রুতিলিওর কথা বিস্ময়কর হলেও বিশ্বাস জন্মায় কারণ সার্ভেন্তিসের সময়ে একথা বিশ্বাস করা হতো যে, লুপাইন ম্যানিয়া নামে নেকড়ে হয়ে ওঠার একটি রোগ দ্বারা মানুষ মাঝে মাঝে আক্রান্ত হয়। একটি মানুষ নরওয়ে থেকে তাসকানি পর্যন্ত এক ডাইনির পিঠে চড়ে ভ্রমণ করেছে এমন ঘটনা তখন মানুষ স্বাভাবিকভাবে বিশ্বাস করতো। মার্কো পোলো তো ভ্রমণ কাহিনির মতো সত্য বৃত্তান্তেই লিখেছেন যে তিনি তাঁর ভ্রমণপথে এমন পাখি দেখেছেন যারা পায়ের থাবায় করে হাতি নিয়ে উড়ে যায়। মার্টিন লুথারের মতো সাধু-সত্যবাদী বলেছেন—তিনি শয়তানকে একদম সামনাসামনি দেখেছেন এবং শয়তানের মাথা বরাবর তিনি কালির দোয়াত ছুঁড়ে মেরেছেন। ভিক্তর হুগো ভূতে বিশ্বাস করতেন এবং তিনি নিশ্চিত করে বলেছেন যে, গাঞ্জি (Guernsey) দ্বীপে লিও পোলদিনার ভূতের সঙ্গে তাঁর সামনাসামনি কথাবার্তা হয়েছে। সূর্যমুখীর ওপর বিশ্বাস থেকে ভ্যানগগের যে আসমানি জাদুবাস্তবের সাক্ষাৎ লাভের সুযোগ ঘটেছে তা তো তিনি ক্যানভাসেই দেখিয়ে গেছেন। সুতরাং এটা প্রমাণিত হিসেবে বলা যায় যে, বিশ্বাসের বাইরে যে অতি-বাস্তব বা জাদুবাস্তবের আবাহন গত ত্রিশ বছর ধরে সুরিয়ালিস্টরা করেছেন তা পুরোটাই ছিল একটা সাহিত্যজাগতিক ভেলকি (literary ruse)। ঐ সাহিত্য একটি স্বপ্নজাগতিক ভৌতিকতা রূপে বিরক্তিকর অথবা সেগুলো এখন মূর্খতার প্রশংসারূপ প্রাচীন সাহিত্য রূপে বিরক্তিকর।এ কথাগুলোর মানে এই নয় যে, আমি আবার রিয়ালিজমে ফিরে যেতে চাই। ওটা এখন একটা পলিটিকাল এজেন্ডা। অতিবাস্তব বা সে-মুখো জাদুবাস্তব সন্ধানী সুরিয়ালিস্টরা যা করছেন তা হলো—তাঁরা জাদুকরের ভেলকিবাজির টেকনিকগুলোর পরিবর্তে ব্যবহার করছেন একাডেমিকদের ঘুনে-ধরা কিছু ধারণা অথবা নির্দিষ্ট কিছু অস্তিত্ববাদীদের পরলৌকিক পরমানন্দের কিছু দর্শন। যে-সকল কবি ও শিল্পী অপরকে যন্ত্রণা দেয়ার দর্শন প্রচার করেন অথচ নিজের মধ্যে উক্ত দর্শনের প্রয়োগ করেন না তাঁরা যেমন, যাঁরা নিজেরা রতি-অক্ষম বলে অতিসক্ষম রতিবানকে সমীহ করেন তাঁরা যেমন, ঠিক তেমনই হলেন তাঁরা যাঁরা বিশ্বাস করেন না যে মন্ত্র দিয়ে ভূত নামিয়ে আনা যায় অথচ ভূত আবাহন করেন, ভূতভিত্তিক গোপন সংঘ গড়ে তোলেন, ভূতভিত্তিক সাহিত্যগোষ্ঠী গড়ে তোলেন, দর্শনের আবছায়ায় সাধু-সন্ত-গূঢ়তত্ত্ব ইত্যাদি ভিত্তিক ব্যর্থ সমাজ গড়ে তোলেন। এঁরা কোনো গ্রহণযোগ্য সুফিবাদিতায় পৌঁছতে পারেন না এবং আত্মাকে বাজি ধরার মতো বিশ্বাসের দৃঢ়তা তাঁদের নেই।

এই বিষয়গুলো আমার কাছে খুব খোলাসা হয়েছে আমার হাইতি অবস্থানকালে। হাইতিতে আমার প্রতিটি দিন কেটেছে এমন কিছু-না-কিছুর সঙ্গে যা সংজ্ঞার্থেই জাদুবাস্তব। সে এমন এক ভূমি যেখানে হাজার হাজার মানুষ এখনো বিশ্বাস করেন যে, মাকান্দাল তাঁর প্রবল কায়িক রূপান্তর ক্ষমতার বলে তাঁকে পুড়িয়ে হত্যার দিনে অলৌকিকভাবে অন্য কায়ায় নিজেকে রূপান্তর করে বেঁচে গিয়েছিলেন। দাস-বিপ্লবের অন্যতম সূচনাকারী জ্যামাইকান বুকম্যান সম্পর্কে আগে থেকেই আমি আশ্চর্যজনক অনেক গল্প জানতাম। আমি পরিদর্শন করেছি হেনরি ক্রিস্তফের দুর্গ ‘লা ফেরিয়েরে’ যার সঙ্গে তুলনা করতে পারি এমন একমাত্র জিনিস হতে পারে ইতালিয়ান চিত্রশিল্পী পিরানেসির আঁকা ‘ইমাজিনারি প্রিজনস’। আমি সেখানে ঘ্রাণ পেয়েছিলাম হেনরি ক্রিস্তফের সৃষ্ট রাজ-পরিবেশের। অবিশ্বাস্য ইচ্ছাশক্তি ও উদ্যমের এই অত্যাচারী রাজা সুরিয়ালিস্টদের কল্পনার ঐসব অত্যাচারী রাজার মতো নন যাঁদের অত্যাচারী ব্যক্তিত্ব নিজের জীবনের অত্যাচার ছাড়া শুধু অত্যাচারের কল্পনা থেকে সৃষ্টি হয়েছে। হাইতির বাঁকে বাঁকে আমার সাথে দেখা হয়েছে জাদুবাস্তবের। পরে আমি ভেবে দেখেছি এই জাদুবাস্তবের উপস্থিতি ও প্রাণবন্ততা শুধু হাইতির বিশেষ সমৃদ্ধি নয়, বরং পুরো লাতিন আমেরিকা বহন করে এর ঐতিহাসিক উপস্থিতি ও উত্তরাধিকার। তবে এর সৃষ্টিক্রমে লাতিন আমেরিকায় কোথায় কী আছে তার তালিকা এখনো প্রণীত হয়নি। এই মহাদেশের সেই মানুষগুলো যাঁরা এর ইতিহাসের তারিখগুলো খোদাই করে রেখে গেছেন এবং রেখে গেছেন তাঁদের নাম তাঁদের জীবনের প্রতি স্তরে ছিল জাদুবাস্তবের শনাক্তযোগ্য উপস্থিতি। যে-মানুষগুলো চিরযৌবনের ফোয়ারার খোঁজে নেমেছিলেন এবং নেমেছিলেন মানোয়া’র (Manoa) স্বর্ণশহরের খোঁজে তাঁদের থেকে শুরু করে সেই আদি যুগের বিদ্রোহীগণ বা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধকালের বীরাঙ্গনা কর্নেল হুয়ানা দে আজুরদুইয়ের (Colonel Juana de Azurduy) মতো পৌরাণিক শৌর্যসমৃদ্ধ বীর সন্তানগণ—সকলের জীবনের স্তরে স্তরে রয়েছে শনাক্তযোগ্য জাদুবাস্তবের উপস্থিতি। ইতিহাসে দেখি যে ১৭৮০ সালেও আঙ্গোস্তুরা ইত্যাদি জায়গা থেকে আগত সুস্থ মস্তিষ্কের স্প্যানিশগণ এই মহাদেশে এসে পাগলের মতো খুঁজেছেন ‘এল দোরাদো’ অর্থাৎ কল্পিত স্বর্ণশহর বা স্বর্ণরাজ্য—বিষয়টা আমার কাছে একেবারে তাৎপর্যহীন মনে হয় না। আবার ফরাসি বিপ্লবের সেই সময়েই, যখন যুক্তি ও বিজ্ঞানের জয়জয়কার, তখন ফ্রান্সিসকো মেনেন্দেজ পাতাগোনিয়ার পাহাড়-জঙ্গলে তন্ন তন্ন করে খুঁজছেন রোম সম্রাট সিজারদের জাদুর শহর। এই বিষয়ের আরেকটি দিক হলো লোকনৃত্য। পশ্চিম ইউরোপ থেকে লোকনৃত্য যখন এর সকল তান্ত্রিক ও ভৌতিক আবাহনী ক্ষমতা হারিয়েছে তখনো লাতিন আমেরিকার সকল দলীয় বা গোষ্ঠীভিত্তিক লোকনৃত্যে আমরা দেখছি এক গভীর তান্ত্রিকতার আবহ এবং তার সাথে সব সময় জড়িয়ে থাকতে দেখছি কোনো অভিষেক জাতীয় অনুষ্ঠানের অন্তর্গত সম্বন্ধ যেখানে অলৌকিক শক্তির সাহায্য প্রার্থনা খুব প্রাসঙ্গিক। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি কিউবান সান্তেরিয়া নৃত্য কিংবা খ্রিস্টীয় কর্পুস ফেস্টিভালের আফ্রিকান সংস্করণ যা ভেনেজুয়েলার সানফ্রান্সিসকো দে ইয়ারে শহরে এখনো যথারীতি চর্চায় রয়েছে।

লোত্রেয়ামোঁর Les chants de Maldoror-এর ষষ্ঠ সঙ্গীতে আমরা দেখতে পাই নিজেকে বিভিন্ন জন্তুতে রূপান্তরের মাধ্যমে মালদোরো পৃথিবীর সকল পুলিশের অনুসন্ধান ও গুপ্তচর বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিজেকে যে-কোনো সময় যে-কোনো স্থানে পৌঁছানোর ক্ষমতা দ্বারা কখনো পিকিং. কখনো মাদ্রিদ বা কখনো আবার সেইন্ট পিটার্সবুর্গে পৌঁছে যাচ্ছে। বলা যায় এটা ‘সর্বশক্তিতে’ এক ‘জাদুময় সাহিত্য’ (জাদু বাস্তবতার নয়)। লাতিন আমেরিকায় এরকম জাদুময় সাহিত্য কেউ লেখেননি। কিন্তু এমন ঘটনা ঘটেছে শুধু লাতিন আমেরিকাতেই। মাকান্দাল এখানে বাস্তবেই বাস করতেন এবং তাঁর সমসাময়িক মানুষগণের বিশ্বাস অনুযায়ী সত্যিই তাঁর এমন ক্ষমতা ছিল। তাঁর সেই ক্ষমতাবলে ইতিহাসে তিনি এক মহান অভ্যুত্থানের নায়ক। অথচ লেখক লোত্রেয়ামোঁর (মূল নাম Isidore Lucien Ducasse) নিজের স্বীকৃতি অনুযায়ীই মালদোরোর নামে এমন কেউ বাস্তবে কোনো কালে ছিল না, মালদোরো পুরোটাই লেখক পিয়েরে এ্যালেক্সিসের তৈরি রোকাম্বোলে চরিত্রের এক কাব্যিক সংস্করণ। মালদোরো যে সাহিত্যগোষ্ঠী নির্মাণ করে গেলো তাদের স্থায়িত্ব ক্ষণিকের। অপরদিকে, লাতিন আমেরিকার মাকান্দাল রেখে গেছেন একখানা পূর্ণাঙ্গ পুরাণ। একটি জনগোষ্ঠী তাঁকে ধারণ করে আছে। এখনো ভুদু আয়োজনে তাঁকে নিয়ে নিয়মিত স্তোত্র গীত হয়। লোত্রেয়ামোঁ সম্পর্কে একটি কথা তারপরও উল্লেখ করা যেতে পারে। কাব্যিক অতিবাস্তবে আগ্রহী এই ব্যক্তিটিও কিন্তু জন্মসূত্রে লাতিন আমেরিকান এবং তাঁর একটি কবিতার শেষাংশে এ কথা তিনি অনেকটা গর্বের সঙ্গে উল্লেখও করেছেন। সবশেষে বলতে চাই—লাতিন আমেরিকার আমাদের এই জমির কুমারীত্ব, নিজস্ব আদব-তমিজে আমাদের বেড়ে ওঠা, আমাদের দর্শন, ফাউস্টকে মনে করিয়ে দেয়া আমাদের ইন্ডিয়ান কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের ইতিহাস, এর আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে দুনিয়ার কাছে পৌঁছে-যাওয়া আসমানি বার্তা, এর উর্বর জাতিগত মিশ্রণ—এই সব নিয়ে লাতিন আমেরিকা এমন এক পৌরাণিক সম্পদের ভাণ্ডার যার সামান্য অংশও এখনো ব্যবহার করে শেষ করা যায়নি। এক কথায়, জাদুবাস্তবের এক দীর্ঘ বৃত্তান্ত ছাড়া আমেরিকার গোটা ইতিহাসটা আর কী?

আরও পড়ুন : লাতিন আমেরিকার জাদুবাস্তবতা | আলেহো কার্পেন্তিয়ের | পর্ব-৩

//জেডএস//

লাইভ

টপ