X
সোমবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ২ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস
ভ্রমণ

স্যুরিশের চারপাশে

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ১৮:১৫

ভাবছিলাম গরম শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু শেষ হলো না। জার্মানির একদম উত্তরের শ্লেসভিগ শহর থেকে ২০২১-এর সেপ্টেম্বরে চলে এলাম একদম দক্ষিণে। তুলনামূলক গরম বেশি এখানে, সমুদ্র কাছে নেই বলে শ্লেসভিগের মতো সারাক্ষণ উত্তাল বাতাস নেই, পাহাড়ঘেরা অঞ্চল। রাজ্যের নামে বাডেন-ভ্যুর্টেমব্যার্গ। শহরের নাম লার/শভার্সভাল্ড। শভার্সভাল্ড শব্দের ইংরেজি ব্ল্যাক ফরেস্ট, বাংলায় দাঁড়ায় কালো বন। নামই আবিষ্কারের নেশা জাগায়। ঘরের জানালা খুললেই দেখি শভার্সভাল্ডের পর্বত শ্রেণি। কিন্তু কালো বন কেন? বন আরও দেখেছি জার্মানিতে। তাদের নাম কেন কালো বন নয়। এখানে আসার পরবর্তী রবিবার হাইকিং জুতো পরে পানি আর শুকনো খাবার নিয়ে বের হই। তুলনামূলক গরম—রোদ আড়াল হলে কিছুটা শীতল বাতাস গায়ে লাগে। শরৎ বইছে সারাগায়ে যেন। আলোছায়া করে করে দু ঘণ্টা হেঁটেও জানালা দিয়ে শভার্সভাল্ডের যে টিলা দেখা যায় তার চূড়ায় পৌঁছাতে পারি না। আমি একা নই, অনেকের সঙ্গে হাঁটতে গিয়ে দেখা। অপরিচিত, কিন্তু হাসলে, উত্তরে হাসি পাওয়া যায়, বয়সে অধিকাংশই শেষের দিকে। চোখ মেলে আশেপাশে চেয়ে দেখি ঝলমলে রোদের দিনেও বনের ভেতরে দুর্ভেদ্য অন্ধকার। পাইন (জার্মানে : কীফের্ন), ওক (আইশে), স্প্রুস (ফিচটেন), বীচ (বুখেন) গাছে ভরা বনের ভেতরে সূর্যের আলো এক প্রকার প্রবেশ করে না বললেই চলে। গাছগুলোর মধ্যে পাইন এবং স্প্রুসের পরিমাণ সবথেকে বেশি (এরাই বড়দিনের সময় ক্রিসমাস ট্রি হিসেবে ব্যবহৃত হয়)। স্প্রুস এবং পাইন চিরসবুজ গাছ, জানা গেলো এই দুই গাছের পরিমাণ শভার্সভাল্ডে প্রায় আশি শতাংশের বেশি। চিরসবুজ হওয়ায় শীতকালেও বনকে গাড় সবুজ দেখায়, তাদের বিস্তৃতির জন্য সারা বছরই সূর্যের আলো কম ঢোকে এই বনে, সে কারণেই নাম কালো বন। ব্ল্যাক ফরেস্ট-এর রেঞ্জ বিশাল, এই ঢেউ ধরেই পূর্ব দক্ষিণ জুড়ে বিস্তৃত হয়েছে সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালা।

এখান থেকে সুইজারল্যান্ড ঘণ্টা দুয়েকের দূরত্ব। জার্মানির ফ্রেইবুর্গ পার হয়ে বাসেলে এলেই সুইজারল্যান্ডে ঢুকে যাওয়া যায়। বাসেলের বিমানবন্দর আমার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো। দেখার অপেক্ষায় ছিলাম অনেকদিন। কারণ বলি, বিমানবন্দরটি একই সঙ্গে তিন দেশের সীমানায় অবস্থিত—সুইজারল্যান্ড, জার্মানি এবং ফ্রান্স। ইংরেজিতে নাম ‘ইউরোএয়ারপোর্ট বাসেল-মুলহাউজ-ফ্রেইবুর্গ’। মুলহাউজ ফ্রান্সের সীমানার শেষ শহর। বিমানবন্দরের রানওয়ে ফ্রান্সে কিন্তু ইমিগ্রেশন তিন দেশের জন্য তিনটে। জেনেভায় দেখেছি একই বিমানবন্দর ফ্রান্স এবং সুইজারল্যান্ড ব্যবহার করে। আমেরিকা-কানাডার সিমান্তেও এ রকম বিমানবন্দর আছে, যেগুলো একই সঙ্গে দুই দেশ ব্যবহার করে, কিন্তু তিন দেশের এক বিমানবন্দর জানামতে দুনিয়ার আর কোথাও নেই। 

সেপ্টেম্বরের শেষের দিকের শনিবার। আগে থেকে জুরিখ যাওয়ার পরিকল্পনা করা ছিলো। স্থানীয়রা তাকে বলে স্যুরিশ, বইয়ের জার্মানে উচ্চারণ তাইই, তাদের মুখে দেশের নাম শুভাইৎস। সুইজারল্যান্ডের জাতীয় ভাষার মর্যাদা একই সঙ্গে চারটে ভাষাকে দেওয়া হয়েছে। জার্মান বা ডয়েচ, ফ্রেন্স, ইতালিয়ান এবং রোমানিশ বা রেটোরোমানিশ। তবে তুলনায় জার্মানের চলন সবথেকে বেশি, ব্যবহারে ফ্রেন্স জার্মানের ধারে কাছে নেই, কিছু অংশে ইতায়ালিয়ান আর খুব স্বল্প লোক কথা বলে রোমানিশে। জুরিখ বা স্যুরিশ সুইজারল্যান্ডের ২৬ রাজ্যের একটি। রাজ্য ও শহরের নাম একই। 

আমরা যাত্রা করি বেশ ভোরে। আমরা বলতে আমি আর আমার জার্মান বন্ধু। তার গাড়ি আমাদের নিয়ে যায় স্যুরিশের দিকে। জার্মানির সীমানা পার হলেই সবকিছু আলাদা হয়ে ধরা দেয়, হুট করে সামনের গাড়িগুলোর নেমপ্লেট বদলে গেলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর গাড়ির নামপ্লেটের আদল একই রকম, শুধু নামগুলো আলাদা, কিন্তু সুইচ গাড়ির নেমপ্লেট সম্পূর্ণ আলাদা। দূরে সরে যেতে দেখি শভার্সভাল্ড পর্বতশ্রেণি। আরও দূরে আবছা আবছা আল্পস পর্বতমালা চোখে পড়ে। খেয়াল করলাম আমরা ক্রমশ উপরে উঠছি। চলতে চলতে এক সময় গাড়ির চারপাশ কুয়াশায় আচ্ছন্ন, আবছা আবছা সবকিছু দেখা যায়। বন্ধুকে বলি, এমন ঝলমলে রোদ্দুর দিনে হুট করে কুয়াশা? সে বলে, খেয়াল করে দূরে দেখো, কোনো গাছপালা, কিংবা পাহাড় চোখে পড়ে?— না সূচক মাথা নাড়ি।—আমরা আল্পস রেঞ্জের পাহাড়শ্রেণির ওপরে, এজন্য আশে পাশে উঁচু কিছু চোখে পড়ছে না। আর এগুলো কুয়াশা নয়, মেঘ। আমি বারবার মাথা নাড়ি। বন্ধু ইংরেজি পারে বাতাসের মতো, কিন্তু আমার সঙ্গে আজকাল ফ্রাঙ্কোনিয়ান জার্মানে কথা বলে বেশি—আমি যেন জার্মানে ভালো করি সেসব নিয়ে তার চেষ্টার অন্ত নেই। ফ্রাঙ্কোনিয়া রোমান সময়কালে ডিমিশিয়ান রাজার একটি রাজ্য ছিলো। এখন বাভারিয়ার অন্তর্ভুক্ত। তা সত্ত্বেও ন্যুর্নব্যার্গ বা ন্যুরেমব্যার্গে গেলে তাদের আলাদা খাবার, আলাদা উচ্চারণ চোখে পড়ে। যা হোক সেসব নিয়ে অন্য কোথাও লেখা যাবে। জুরিখের দিকে যাই।

আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিলো জুরিখ শহরের কেন্দ্রে যাওয়া। জুরিখ-হ্রদকেই জুরিখের কেন্দ্র বলা চলে, হ্রদের কাছেই জুরিখ কেন্দ্রীয় গণগ্রান্থাগার, সেখানেই আমাদের সুইচ বন্ধু মিরকার সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা। কোনো শহরে গেলে সেই শহরে জন্মেছে বা বহু বছর ধরে বাস করে এমন কারো সঙ্গ পেলে আর কিছু চাওয়ার থাকে না। তখন মনের আনন্দে শহর হাতের কাছে চলে আসে। আসার পর সবথেকে বড়ো চ্যালেঞ্জ ছিলো গাড়ি পার্কিং করা। আর তারপরের চ্যালেঞ্জ ছিলো সবকিছুকে ঠিক তার মতো করেই খুঁজে পাওয়া। সঙ্গে খোদ শহরের বাসিন্দা থাকায় সবকিছু পানির মতো সহজ হয়ে গেলো। মজার ব্যাপার হলো জুরিখেও ঢাকার শাহবাগ-কাঁটাবন, বা কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের মতো চিন্তক-আড্ডাবাজদের আড্ডা দেওয়ার জায়গা আছে। সামারে সেটা অপেরা হাউজের কাছে জুরিখ-হ্রদের পাড়ে আর শীতে অপেরা হাউজের উল্টো দিকের কফি পাড়ায়, কয়েকটা বইয়ের দোকানে। জুরিখ একেবারে ইন্টারন্যাশনাল। ইংরেজি চলে সবখানে। কিন্তু শহরের কারো প্রিয় সহজে হতে গেলে জার্মান বলা চাই। তবে চট্টগ্রামের বাংলাকে আপনি যদি বাংলা না বলেন তাহলে জুরিখের শ্যুভাইৎসে ডয়েচকে জার্মান বলতে নারাজ হবেন। বইয়ের জার্মানে আপনি চাইলে তারা কথা বলবে, কিন্তু নিজেদের মধ্যে কথা বললে আগা মাথা ধরতে পারবেন না।

জুরিখে ছবির হাটের মতো জায়গা আছে। অপেরা হাউজ থেকে কয়েকশ মিটার দূরে সেখানে শিল্পীদের আড্ডা বসে এক দারুণ ওক গাছের নিচে। তামাকের ঘ্রাণ আপনাকে দোলাবে বারবার। জুরিখের রাস্তা কলকাতার থেকে সরু, তার মধ্যে ট্রাম আর হাজার গাড়ি ভর্তি, রাস্তা দম ফেলার ফুসরত পায় না। তাদের পুলিশ বেশ কড়া। কোনো ভুল করলে খুব সহজে মোলাকাত হয়ে যাবে। সন্ধ্যায় গাড়ির হেডলাইট না জ্বালানোই কয়েক মিনিটের মধ্যে মোটরসাইকেলে সুইচ পুলিশ এসে হাজির। জানালো, হেডলাইট জ্বালানো আবশ্যিক। সুইচ পুলিশ নাকি জরিমানা করতে ইউরোপের সেরা। জার্মানরা বলে সুইচ মানুষের দম্ভ অনেক বেশি—আমি টের পেয়েছি শহরের বাতাসে।

জুরিখের অপেরা হাউজের পুরাতন ভবনটি শো পিসের মতো একটি শিল্পকর্ম। ছাদের নিচে দেখি সারি করে ছয়জনের দুই হাত সমান মূর্তি রাখা। একদম বামে শেকসপিয়র, তারপর জার্মানির জাতীয় কবি ফ্রিডরিশ শিল্যার, তারপর ভেবার, মোসার্ট, ভাগনার এবং গ্যোটের। বেটোভেনের আবক্ষ না থাকায় দুঃখিত হয়েছি। মজার ব্যাপার হলো অপেরা হাউজের কোণে একটি রাস্তার নাম শিল্যারের নামে। সুইচরা শিল্যারকে কেন বড় মনে করে সেটা খুঁজতে আরেকবার যাওয়া প্রয়োজন। 

জুরিখ কেন্দ্রিয় গণগ্রন্থাগার বা জেন্ট্রালবিবলিওটেক স্যুরিশ একই সঙ্গে জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।  
লাইব্রেরি অংশ দৈর্ঘ্যে আমাদের সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের থেকে বেশ বড়ো (চত্বরে নয়)। সম্ভারে সে বিশাল। কোনো শহরে গেলে আমি আগে যাই লাইব্রেরি, তারপর জাদুঘর, আর সবশেষে বাজারে। তারা কীভাবে চলে, কী খায়, কী পড়ে আর কী ভাবে, সেটা জানলেই একটা সাধারণ ধারণা পাওয়া যায় পুরো শহরের ওপর। সুইচ লোকজন জার্মানদের থেকে কিছুটা অহংকারী, এবং অসহিষ্ণু, একটু দেরি করলে হর্ন দিতে পিছপা হবে না, হেসে আপনাকে আগে সুযোগ দেবে না। টাকার জোরে তারা অনেক কিছু নিজেদের করে রেখেছে। তার প্রতিচ্ছবি তাদের জাদুঘর, আর্ট গ্যালারি আর গ্রন্থাগার। 

জুরিখ কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার তেতলা, মাটির নিচে দুই তলা। রকমারি ভাষার গুরুত্বপূর্ণ ৩.৯ মিলিয়ন ছাপা বই, ১,২৪০০০ পাণ্ডুলিপি, ২,৪৩০০০ ম্যাপসহ তাদের সংগ্রহ বিশাল। সেগুলোর এক ক্ষুদ্র অংশ দেখতে গেলে চোখের নিমিষে তিন চার ঘণ্টা চলে যাবে। লাইব্রেরি কার্ড করা আর বই ধার নেওয়ার প্রসেস খুব সহজ। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের সমাগম চোখে পড়ার মতো, কিন্তু কেউ নোট বই কেটে এনে লাইব্রেরির টেবিলে বসে পড়ে না। লাইব্রেরির পাশে বিশাল গির্জা, তার হলরুমে মাঝে মাঝে সেমিনার চলে। ঢোকার পরই দরজার কাছ থেকেই জেনে যাবেন কোথায় কী বই আছে। প্রবেশ দ্বারের ওপরে দুই পাশে জায়গা পেয়েছে সুইচ কবি সালোমন গেসনার এবং য্যাকব বোডম্যর-এর আবক্ষ। মজার ব্যাপার হলো সপ্তাহের সাতদিনই খোলা থাকে এই গ্রন্থাগার।

আমাদের ভ্রমণের দ্বিতীয় দিন সকালে যাই, জুরিখ শিল্প একাডেমিতে। তার ক্যাফেটেরিয়া থেকে সকালের নাস্তা করে ঢোকার পথেই বড় ধাক্কা খাই। মনে হলো ম্যুসে রোঁদায় যাওয়া লাগলো না, রোঁদার (Auguste Rodin) সেই বিখ্যাত শিল্পকর্ম 'দ্য গেট অফ হেল' (La Porte de l'Enfer) এর দেখা মিললো একাডেমির প্রবেশ মুখে। এতই বিখ্যাত শিল্পকর্ম যে, এর রেপ্লিকা রয়েছে টোকিও, ফিলাডেলফিয়া, মেক্সিকো সিটি এবং স্ট্যানফোর্ডে। দান্তের ডিভাইন কমেডির নরক পর্বের পথম পরিচ্ছেদের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে ৩৭ বছর ধরে রোঁদা নির্মাণ করেন এই শিল্পকর্ম। শিল্পকর্ম দেখতে গিয়ে যে লোকটার কথা বারবার মনে হচ্ছিল তিনি কামিল ক্লোদেল। এক সময় রোঁদার প্রেমিকা ছিলেন, মরেছেন নানা সমস্যায় ভুগে। ধারণা করি এই নির্মাণের পেছনে তার হাতও ছিলো। রোঁদার এই শিল্পকর্ম ছাড়াও আর্ট গ্যালারিতে রয়েছে তার বেশ কিছু অরজিনাল স্কাল্পচার। পুরো গ্যালারি ইউরোপের শিল্পীদের চিত্রকর্ম দিয়ে ভর্তি। পাবলো পিকাসোর চিত্রকর্ম ‘হেড, ওমেন’স বুস্ট’ চোখে পড়ল।আর্ট গ্যালারির নিচতলায় পাওয়া যায় নানা রকমের ছবির বই। আর যেসব ক্যালেন্ডার, ভিউ কার্ড আর স্যুভেনির পাওয়া যায়, সে সকল কিছুকেই দুহাতে বাড়ি নিয়ে আসতে মন চাইবে। কিন্তু সে ইচ্ছেই বাধ সাধবে অর্থ। 

ইচ্ছে ছিলো জুরিখ শহরের বাইরে রাত কাটানোর। সে ইচ্ছেও পূরণ হয়েছে। জুরিখ থেকে দশ-বারো মাইল দূরে পাহাড়ের বুকে একটি খামার বাড়িতে আমাদের শেষ রাত কাটে। রাতে যখন ওখানে পৌঁছাই তখন বিশেষ কিছু মনে হয়নি। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পেরুতেই মশা আর থেমে থেমে গরুর ডাক বুকের মধ্যে ভয় ধরিয়ে দেয়। কোথায় এলাম। যা হোক, রাত পার হয়। মুখে ব্রাশ করে বাইরে হাঁটতে বের হই। শীত শীত করে। জার্মানির তুলনায় এখানে তুলনামূলক গরম অনুভূত হয়, আশাপাশে চোখ পড়তেই স্তবির হয়ে যাই, পাহাড়ের খাঁজ ধরে লাল-সাদা গরুর পাল ঘাস খেয়ে বেড়াচ্ছে। নিচে এক পাশে মেঘ জমে আছে, দূরে আল্পস পর্বত শ্রেণি, গায়ে খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে স্প্রুস আর পাইন। মনে হয় এখানেই থেকে যাই।

থাকা হয় না। ফিরে আসতেই হয় পুরনো ব্যস্ততায়। তবে মন পড়ে থাকে জুরিখ-হ্রদের পাড়ে। চোখ বন্ধ করলেই দেখি সবুজ পানির দিকে চেয়ে হ্রদয়ের পাশে বসে আছি, ঝির ঝির করে বাতাস চলে যাচ্ছে শরীরের ভেতর দিয়ে, সামনে শো শো করে দুটো রাজহাঁস পার হয়ে গেলো, কিছু সময় পর পর পেছন দিয়ে জুরিখের মেট্রো চলে যাচ্ছে, হাজারো লোক হেঁটে যাচ্ছে আমার গা ঘেঁষে হ্রদের পাড় ধরে সুন্দর পিচঢালা পথে, বাতাসে তাদের ভাষা উড়ছে—ইংরেজি, জার্মান, তামিল, আরবি, হিন্দি, ফেন্স, স্প্যানিশ আর অজানা কিছু শব্দ সেসবের অন্তর্গত। আমি জল থেকে চোখ রাখি কিছুটা ওপরে, খাড়া পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে দোচালা ঘরগুলো আমাকে বলে তুমি থাকো এই সবুজ জলের কাছে।  

/জেডএস/

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© 2022 Bangla Tribune