X
শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪
১৭ ফাল্গুন ১৪৩০

ফিলিপ্পাকে ঘিরে টুকরো স্মৃতি ।। আনি এরনো

অনুবাদ : কবির চান্দ
১৩ অক্টোবর ২০২২, ১২:০৪আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২২, ১২:০৪

[এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হবার সুবাদে আনি এরনো এখন সুপরিচিত। তাকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। শুধু এটুকুই বলা যেতে পারে, যে বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে নোবেল কমিটি পুরস্কারের জন্য এরনোকে বেছে নিয়েছেন, এ ছোট্ট লেখাটিতে সেগুলোর সুস্পষ্ট আমেজ পাওয়া যায়। লক্ষ্য করুন, যে অন্তরঙ্গ ভঙ্গির সাদামাটা গদ্য শেষদিকে কেমন দ্যুতি ও দ্যোতনা তৈরি করেছে।]

 

অনেক কয়টা চিঠিতেই সে লিখেছিল, সে আমাকে পেতে চায়। আগে থেকে সময় ঠিক করে নিয়ে এক সন্ধ্যায় আমরা দেখা করলাম। তখন কিন্তু মনে হলো, সে ভয় পাচ্ছে। একেবারেই কোনো কথা বলছিল না। সেটাই হবার কথা, কেননা সে তখনও ছাত্র, বয়সে আমার চেয়ে অনেক ছোটো। তাছাড়া আমি লেখালেখি করি। থিয়েটারের চেয়ারের হাতলে তার আর আমার হাতে প্রায়ই ছোঁয়া লাগছিল। শো শেষ হলে আমি তাকে মদ খাওয়ার দাওয়াত দিলাম। আমরা মঁশিয়ে-লা-প্রিন্সের একটি ছোটো পানশালায় গেলাম। ততক্ষণে আমি আর আগের মতো নিশ্চিত ছিলাম না, তার সঙ্গে শারীরিক প্রেম করতে চাই কি না, যদিও গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মন চাইছিল সম্পর্কটা এগিয়ে যাক। কথা আমিই বলছিলাম, আর সে উল্টোদিকে বসে আমাকে দেখছিল। কাছেই কয়েকটা নিচু টেবিল ছিল, সেগুলোর চারপাশে টুলের উপর যুবক-যুবতীরা বসে ছিল। কালো রঙের খাটো স্কার্ট পরা ওয়েটার বারবার আমাদের পাশ দিয়ে যাওয়া-আসা করছিল। সে অ্যালকোহল মেশানো ককটেলে চুমুক দিচ্ছিল, আর আমার সামনে ছিল ফলের জুস। এটা এমন একটা ক্ষণ, যখন মনে হয়, চারপাশের সবকিছুরই যেন একটা অর্থ আছে, কেননা কিছুই তখনও ঘটেনি, এবং সম্ভবত কিছুই ঘটবে না।

পানশালা থেকে বের হয়ে আমি তাকে আমার বাসায় আমন্ত্রণ করলাম, যেন আরেক দফা পান করা যায়। সে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হলো। তখনও জানি না তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক করতে চাই কি না। মনে হয় যেন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে নিজেকে আরও কিছু সময় দিতে চাইছিলাম। এটাও বুঝতে পারছিলাম, বাসায় নিয়ে যাওয়াটা সে সম্ভাবনাকে আরও উসকে দিচ্ছে। গাড়িতে উঠে একটা পপ সঙ্গীতের ক্যাসেট ছাড়লাম। যতবার গিয়ার বদলাচ্ছিলাম, ততবার আমার হাত তার পায়ে ঘষা খাচ্ছিল।

বসার ঘরে দুজনে বেশ দূরে দূরে রাখা হাতলওয়ালা চেয়ারে বসলাম। ‘তুমি কী ধরনের মদ পছন্দ কর?’ জাতীয় টুকটাক বাক্য বিনিময় ছাড়া, যাকে বলে সত্যিকারের কথাবার্তা তখনও তা হচ্ছিল না। আমরা অপেক্ষা করছিলাম। শুরু করার দায়িত্বটা আমাকেই নিতে হলো। পরিষ্কার বুঝতে পারছিলাম আমি এগিয়ে না এলে কিছুই ঘটবে না।

ঠিক কী করা উচিত তা ভাবিনি, কেবল মনে হয়েছিল আমাকে কিছু করতে হবে। চেয়ার থেকে উঠলাম, তার দিকে হেঁটে গেলাম আর তার চুলে হাত বুলালাম। সে আমার শরীরের সাথে তার মাথা চেপে ধরল, তারপর উঠে দাঁড়িয়ে আমাকে বুনো আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরল। টের পাচ্ছিলাম তখনও পর্যন্ত অচেনা একটি লিঙ্গ দুজনের কাপড় ভেদ করে আমাকে চাপ দিচ্ছিল। তাতে এমন জোর আর দৃঢ়তা ছিল, সে সন্ধ্যায় তার নীরবতার অর্থ পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।

সে চলে গেল। পরদিন, আমি আবার রাতের ঘটনাটার স্মৃতিচারণ করলাম। প্রথমবার তার লিঙ্গ দেখার মূর্হর্ত- যা সবসময়ই বর্ণনার অতীত একটা মূহূর্ত, এবং পরে ছোটো কনডমে অর্ধেক ঢাকা অবস্থায় দেখা দৃশ্য আমাকে নাড়া দিল। আমার দিক থেকে করা প্রথম ইঙ্গিতটার কথাও মনে এল, তার চুলে আমার হাত বুলানো, যা ছাড়া হয় তো কিছুই ঘটত না। অন্য যে-কোনো কিছুর চেয়ে এই সঙ্কেতের স্মৃতিটাই আমাকে প্রায় রতিস্খলনের সুখের মতো তীব্র, প্রবল আনন্দে ভরিয়ে দিল। মনে হলো একটি বইয়ের প্রথম বাক্যটি লেখা যেমন, এও যেন ঠিক তাই। যেন এটাও জগতে কিছু একটা ঘটানোর ইচ্ছা থেকে উৎসারিত। মনে হলো একজন নারীর জন্য, কোনো রকম সংকোচহীনভাবে কলম চালানোর স্বাধীনতা যেন কোনো পুরুষের শরীরে প্রথম রমণী হিসেবে কামনামদির স্পর্শ বুলানোর মতই।

আমাদের প্রেমটা হয়েছিল অক্টোবরের এক রোববারে। বিছানায় ছবি আঁকার কাগজ ছড়িয়ে তার উপরে আমি শুয়েছিলাম। সে দেখতে চেয়েছিল তার বীর্য আর আমার মাসিকের রক্ত মিলে কী ছবি তৈরি করে।

পরে আমরা ছবিটা দেখলাম। সেটা তখনো কিছুটা ভেজা ছিল। আমরা একটা নারীর ছবি দেখতে পেলাম, যার মোটা মুখ তার মুখমণ্ডলটাকে গিলে খাচ্ছে। যার শরীর বইছে এবং বিবর্ণ হচ্ছে। এবং যা আকার হারিয়ে ফেলেছে। অথবা হয় তো তা উত্তর গোলার্ধের আলো, বা হয় তো তা সূর্যাস্ত।

আরও আগে কেন এই ধারণাটা মাথায় আসেনি তা ভেবে আমরা মজা পাচ্ছিলাম। কে জানে অন্যরাও একই রকম ভেবেছিল কি না। পরদিন সে ছবিটাতে ফ্রেম লাগাল আর তার ঘরের দেয়ালে টানিয়ে দিল।

পরের দুতিন মাস আমরা একই কাজ করলাম। ব্যাপারটার মধ্যে একটা অতিরিক্ত আনন্দ ছিল। রতিস্খলন হলেই যে সবকিছুর শেষ হয়ে যায় না, এর একটা রেশ রয়েই যায়- এই ধারণা থেকেই কাগজটাতে আমরা তারিখ আর সময় লিখে রাখতাম, যা সাধারণত কোনো শিল্পকর্মের গায়েই করা হয়।

লেখালেখি করা এবং শারীরিক প্রেম করা। আমি অনুভব করি, এ দুটো পরষ্পরের সঙ্গে সংযুক্ত। এটা ব্যাখ্যা করে বোঝানো সম্ভব নয়। আমি যা করতে পারি তা হলো কেবল সেই মূহূর্তগুলোর বিবরণ লিখে রাখা, যে ক্ষণগুলোতে আমার কাছে তা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ধরা দেয়।

/জেডএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কাচ্চি ভাইয়ের ব্যবস্থাপক ও চুমুকের দুই মালিক আটক
বেইলি রোডে আগুনকাচ্চি ভাইয়ের ব্যবস্থাপক ও চুমুকের দুই মালিক আটক
আমরা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানআমরা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না
বেইলি রোড ট্র্যাজেডি: আগুন লাগলো কোথায়, ছড়ালো কীভাবে?
বেইলি রোড ট্র্যাজেডি: আগুন লাগলো কোথায়, ছড়ালো কীভাবে?
বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী, যোগ দিয়েছেন নতুন প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে
বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী, যোগ দিয়েছেন নতুন প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে
সর্বাধিক পঠিত
বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দুদের নাগরিকত্ব দিতে নতুন পোর্টাল করছে ভারত
বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দুদের নাগরিকত্ব দিতে নতুন পোর্টাল করছে ভারত
দুই ছেলের আবদার মেটাতে গিয়ে লাশ হলেন মা’সহ ৩ জনই
দুই ছেলের আবদার মেটাতে গিয়ে লাশ হলেন মা’সহ ৩ জনই
আগুন কেড়ে নিলো ইতালি প্রবাসী মোবারকের পরিবারের সবাইকে
আগুন কেড়ে নিলো ইতালি প্রবাসী মোবারকের পরিবারের সবাইকে
বেইলি রোডের আগুনে অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু
বেইলি রোডের আগুনে অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু
তুরস্কের কাছে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিক্রির সিদ্ধান্তে অটল যুক্তরাষ্ট্র
তুরস্কের কাছে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিক্রির সিদ্ধান্তে অটল যুক্তরাষ্ট্র