X
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪
২ শ্রাবণ ১৪৩১

উপাচার্য-শিক্ষক দ্বন্দ্বের যাঁতাকলে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

ইমতিয়াজ রিফাত, কুবি প্রতিনিধি
০৭ মে ২০২৪, ২২:৪৯আপডেট : ০৭ মে ২০২৪, ২২:৪৯

সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্যের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে চলমান সংকটের কারণে সব রকম কার্যক্রম বর্জন করেছে শিক্ষক সমিতি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ এপ্রিল ৯৩তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়টি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর আগে ২৯ এপ্রিল শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানান, উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত সকল কার্যক্রম বর্জন করা হলো।

এর আগে উপাচার্য শিক্ষক সমিতির সাত দফা দাবি মেনে না নেওয়ায় তিন দফায় শ্রেণি কার্যক্রম বর্জন করেন শিক্ষকরা। প্রথম দফায় ১৩ ও ১৪ মার্চ শ্রেণি কার্যক্রম বর্জন করেন। পরে দাবি আদায় না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় ১৯ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ এবং তৃতীয় দফায় ২১ এপ্রিল থেকে ২৩ এপ্রিল শ্রেণি কার্যক্রম বর্জন করে।

শ্রেণি কার্যক্রম থেকে শিক্ষকরা বিরত থাকায় মিডটার্ম, অ্যাসাইনমেন্ট ও প্রেজেন্টেশন বারবার পেছানো হয়। ফলে ইতিমধ্যে অনেক বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা পিছিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। শিক্ষকদের শ্রেণি কার্যক্রম বর্জনে মিডটার্ম, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন পিছিয়ে যায়। সেই সঙ্গে সেমিস্টার ফাইনালও পিছিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়াও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা, বাংলা, মার্কেটিং, লোকপ্রশাসনসহ বেশ কয়েকটি বিভাগে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও হবে কি-না এ বিষয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং শিক্ষক সমিতির দ্বন্দ্ব কবে শেষ হবে? কবে ক্যাম্পাস স্বাভাবিক অবস্থা ফিরবে? 

শিক্ষার্থীরা বলছেন, সেশনজটে পড়লে ক্যারিয়ারের ক্ষতি। শিক্ষার্থীদের ক্ষতির দায় কে নেবে?

এদিকে, বুধবার (১ মে) বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। 

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী দিতি রাণী সেন কণা বলেন, করোনাকালে আমাদের একাডেমিক অনেক ক্ষতি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমরা আমরা সেশনজটে পড়বো। হল বন্ধ করার যৌক্তিকতা দেখি না। আমার বাসা উত্তরবঙ্গে, এক সপ্তাহ আগে আসছি। বাসায় যাওয়ার আসা করতে তিন হাজার টাকা লাগে। হুট করে আমি এত টাকা কোথায় পাবো? এখন বাসায় গেলে আমার টিউশন দুটোও হারাবো।

উপাচার্য-শিক্ষক দ্বন্দ্বের যাঁতাকলে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সামিউল ইসলাম সজিব বলেন, গতানুগতিক ধারায় দেখে আসছি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করে। কিন্তু এই প্রথম দেখছি কোথাও শিক্ষকরা তাদের স্বার্থ হাসিলে আন্দোলনে নেমেছেন। শিক্ষক সমিতির ক্লাস বর্জনের ফলে আমাদের এখনও মিড, প্রেজেন্টেশন বাকি। সেমিস্টার ফাইনাল পিছিয়ে গেছে। ওনাদের এসব কর্মকাণ্ডে আমাদের যদি সেশনজট হয় তাহলে এই দায়ভার কে নেবে? শিক্ষক-উপাচার্য দ্বন্দ্বে কেন আমার সাধারণ শিক্ষার্থীরাই বলি হবো?

মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী পাভেল রানা বলেন, করোনার কারণে একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এখন আবার শিক্ষকরা ক্লাস-পরীক্ষা নিচ্ছে না। এভাবে পিছিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষক সমিতি ও উপাচার্যের মধ্যে যে ঝামেলা সেটা তারা আলোচনা করে সমাধান করুক। আমাদের কেন জিম্মি করে হচ্ছে? আমরা স্বাভাবিক ক্লাস কার্যক্রম চাই। দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হতে চাই।

বাংলা বিভাগের তাওহীদ হোসেন সানি বলেন, শিক্ষকদের ক্লাস পরীক্ষা বয়কটের সিদ্ধান্ত যেন ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’। ঈদের পর আমাদের স্নাতকোত্তর প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা, কিন্তু ঈদের আগেও ক্লাস বয়কটের কারণে ক্লাস হয়নি, ঈদের পরও ক্লাস হচ্ছে না। তাতে আমাদের কোর্সও শেষ হচ্ছে না, পরীক্ষায় বসতে পারছি না। আমাদের বয়সতো থেমে নেই।’

এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, কয়েকটি বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহে হওয়ার কথা ছিল। বিভাগগুলো চূড়ান্তভাবে আমাদেরকে সেমিস্টার ফাইনালের এখনও জানায়নি। বিভাগগুলো থেকে না জানালে কিছু বলতে পারছি না। এই মাসে সেমিস্টার ফাইনাল নিয়ে অনেকগুলো প্রস্তাবনা ছিল। ডিপার্টমেন্টগুলো যদি এ বিষয়ে আসে, তবে পরীক্ষার জন্য সিদ্ধান্ত দিতে পারবো।

মঙ্গলবার শিক্ষক সমিতির ডাকা মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, উপাচার্যের পদত্যাগ কিংবা অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরবো না। করোনার সময়ে শিক্ষার্থীদের দুই বছরের ক্ষতি পুষিয়ে দিয়েছি। প্রয়োজনে বন্ধের দিনে ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্ষতি পূরণ করে দেবো। এ বিষয়ে শিক্ষকরা নিরলস পরিশ্রম করতে প্রস্তুত।

শিক্ষকদের এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল   মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

/এফআর/
সম্পর্কিত
জাবিতে অবরুদ্ধ উপাচার্য, মুখোমুখি অবস্থানে শিক্ষার্থী-পুলিশ
একে একে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা
‘যা হওয়ার হোক, আমরা হল ছাড়বো না’
সর্বশেষ খবর
দফায় দফায় সংঘর্ষে আরও একটি উত্তাল দিন
দফায় দফায় সংঘর্ষে আরও একটি উত্তাল দিন
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জনগণ যখন আশ্বস্ত, তখনই অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা: কাদের
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জনগণ যখন আশ্বস্ত, তখনই অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা: কাদের
বৃহস্পতিবার সাধারণদের জন্য মার্কিন দূতাবাস বন্ধ থাকবে
কোটা আন্দোলনবৃহস্পতিবার সাধারণদের জন্য মার্কিন দূতাবাস বন্ধ থাকবে
‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ বাম জোটের সমর্থন
‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ বাম জোটের সমর্থন
সর্বাধিক পঠিত
আমার প্রাণের বাংলাদেশ এভাবে রক্তাক্ত হতে পারে না: শাকিব খান
আমার প্রাণের বাংলাদেশ এভাবে রক্তাক্ত হতে পারে না: শাকিব খান
সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা আন্দোলনকারীদের
সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা আন্দোলনকারীদের
ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের রুমে ভাঙচুর
ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের রুমে ভাঙচুর
থমথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস 
থমথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস 
অস্তিত্বে হামলা এসেছে, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রস্তুত হয়ে যান: ওবায়দুল কাদের
অস্তিত্বে হামলা এসেছে, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রস্তুত হয়ে যান: ওবায়দুল কাদের