কোটা সংস্কারের দাবির আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৬৩ জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। সোমবার বাংলা ট্রিবিউনকে একথা জানিয়েছেন ঢামেকের আবাসিক সার্জন (ক্যাজুয়ালটি) মো. আলাউদ্দিন।
তিনি বলেন, রবিবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৬৩ শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জনকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছিল। তবে তাদেরও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এরা টিয়ারশেলের ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। অনেকে শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। কেউ কেউ আঘাত পেয়েছে। অনেকের শরীরে লাঠির আঘাতের চিহ্ন ছিল। আবার অনেকের চামড়া ছিলে গেছে। তবে কারও আঘাতই গুরুতর নয়।’
এসব শিক্ষার্থীদের ফ্রি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঢামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. শাহ আলম তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যে ছাত্ররা আহত হয়ে এসেছিল তারা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমাদের প্রতিষ্ঠান সরকারি প্রতিষ্ঠান। জনগণের টাকায় চলে। আমরা চেষ্টা করেছি তাদের সেবা দেওয়ার।’
তিনি বলেন, সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রক্টর এসে তার ছাত্রকে আমাদের এখানে ভর্তি করে সেবা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।
এ বিষয়ে ঢামেকের আবাসিক সার্জন বলেন, 'রাতে ওরা যখন আসে তখন তারা টিকেট কাটার মতো অবস্থায় ছিল না। আমরা তাদের একে একে চিকিৎসা দিয়েছি। সকালে অফিস খোলার পর আমরা তাদের ব্যাপারে পরিচালক বরাবর আবেদন পাঠাই। তিনি তাদের ফ্রি চিকিৎসার বিষয়টি অনুমোদন দেবেন।'
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মোট ১৬৩ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। তারা কেউ এখন হাসপাতালে ভর্তি নেই।
প্রসঙ্গত, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রবিবার দুপুর ২টায় ঢাবি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের পদযাত্রা শুরু হয়। পরে রাজু ভাস্কর্য হয়ে নীলক্ষেত ও কাঁটাবন ঘুরে পদযাত্রাটি শাহবাগ মোড়ে আসে। বিকাল ৩টা থেকে সেখানেই অবস্থান নেন। এ সময় শাহবাগের আশপাশের সড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অবস্থান ধরে রাখলে রাত পৌনে ৮টার দিকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় কয়েকজনকে আটকও করে পুলিশ। এরপরই পুলিশ আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয়। এ সময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পুলিশের অ্যাকশনের মুখে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও টিএসসি এলাকায়। সবশেষে তারা ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামানের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা উপাচার্যের বাসভবনের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং ভেতরে থাকা একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। আশপাশের কয়েকটি মোটরসাইকেলেও তারা আগুন দেন।
আরও পড়ুন-
সরকার পতনের জন্য মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের এ তাণ্ডব: ঢাবি ভিসি
ভিসির বাড়িতে হামলা, মামলার প্রস্তুতি চলছে
আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলির অভিযোগ
ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা: মোড়ে মোড়ে পুলিশ, আন্দোলনকারীরা হলে
৪ দফা দাবিতে টিএসসিতে অনড় ছাত্রীরা
অশুভ শক্তি গুজব রটিয়ে বেড়াচ্ছে: নানক
ঢাবি উপার্যের বাসভবনে ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন
শাহবাগ মোড়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে অবস্থান
ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা
কার্জন হলে টিয়ারশেল, আন্দোলনকারীদের বিক্ষিপ্ত প্রতিরোধ
কোটা সংস্কার আন্দোলন: গোলাপ না নিয়ে পিছু হটলো পুলিশ
ঢাবি ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের দখলে, আন্দোলনকারীরা টিএসসিতে
কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মিছিল
মুখোশধারীরা আমার বাসভবনে হামলা চালিয়েছে: ঢাবি উপাচার্য
কোটা সংস্কার আন্দোলন: সকাল ১১টায় বৈঠকের প্রস্তাব সরকারের
কোটা সংস্কার আন্দোলন: পুলিশের লাঠিচার্জ-টিয়ারশেলে আহত ৩১
ছাত্রীদের নিরাপদে হলে পৌঁছে দেওয়াটাই এখন বড় বিষয়: ঢাবি প্রক্টর
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ার শেল ও লাঠিচার্জ ( ভিডিও)






