X
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২
২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

ইসির সংলাপে ইভিএমের পক্ষ-বিপক্ষ

এমরান হোসাইন শেখ
২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৬:১১আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৬:৪৭

নির্বাচন কমিশনের (ইসির) সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়েছিল ৩১টি রাজনৈতিক দল। এরমধ্যে লিখিত প্রস্তাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শর্তহীনভাবে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তাব করে ৩টি রাজনৈতিক দল। অপর ৩টি দল ইভিএম চেয়েছে সহজ শর্তে। ৯টি দল লিখিত প্রস্তাবে ইভিএম ব্যবহারের কঠোর বিরোধিতা করেছে। ২টি দল ইভিএমের বিরোধিতা করেছে তাদের মৌখিক প্রস্তাবে। ৪টি দল তাদের লিখিত প্রস্তাবে ভোটার ভেরিফায়েবল পেপার অডিট ট্রেইল (ভিভিপিএটি) সংযুক্ত করার শর্তে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছে। একটি দল ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে কোনও মতামত প্রকাশ করেনি। বাকি ১০টি দলের মধ্যে ৭টি লিখিত ও ৩টি মৌখিক প্রস্তাবে ইভিএম ব্যবহারে রাজনৈতিক সমঝোতা, বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের কথা বলেছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসির) সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংলাপের লিখিত ও মৌখিক প্রস্তাব পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

অবশ্য নির্বাচন কমিশন তার ঘোষিত রোডম্যাপে দাবি করেছে— ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে ২৯টি দল মত দিয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি ইভিএমের পক্ষে মত দিয়েছে ১২টি দল। সরাসরি বিপক্ষে মত দিয়েছে ৬টি দল। শর্ত সাপেক্ষে ইভিএমের পক্ষে মত দিয়েছে ১১টি দল।

রোডম্যাপে ইসি ইভিএমের পক্ষে যেসব দলকে দেখিয়েছে, সেগুলো হলো—বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ, জাকের পার্টি, জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আওয়ামী লীগ, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল-এমএল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট)।

অপরদিকে ইসির তথ্য অনুযায়ী, ইভিএমের বিপক্ষের দলগুলো হলো—বাংলাদেশ কংগ্রেস, জাতীয় পার্টি, গণফ্রন্ট, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।

পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন এমন একাধিক রাজনৈতিক দলকে ইভিএমের পক্ষে দেখিয়েছে, যারা সংলাপের প্রস্তাবে ইভিএমের বিপক্ষে মত দিয়েছিল। অবশ্য কমিশন দাবি করেছে—দলগুলোর লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে ইভিএমের পক্ষ-বিপক্ষ বাছাই করেছে। কেউ কেউ লিখিতভাবে বিপক্ষে মত দিলেও তাদের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মত পাল্টেছে। যে দলগুলো ভোটার ভেরিফায়েবল পেপার অডিট ট্রেইল (ভিভিপিএটি) সংযুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে, তাদেরকে ইভিএমের বিপক্ষে হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

তবে দলগুলোর সংলাপের লিখিত বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসির)সঙ্গে সংলাপের লিখিত প্রস্তাবে সরাসরি ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তাব করেছে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ও সাম্যবাদী দল।

অপরদিকে লিখিত প্রস্তাবে ৯টি দল ইভিএমের বিপক্ষে মত দিয়েছে—জমিয়াতে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাপ ও গণফোরাম। অপরদিকে লিখিত প্রস্তাবে কিছু না বললেও সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ মৌখিক বক্তব্যে ইভিএমের ঘোর বিরোধিতা করেছে।

সহজ শর্তে ইভিএমের পক্ষের দলগুলো হচ্ছে—তরিকত ফেডারেশন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রী পার্টি। ভিভিপিএটি সংযুক্ত করার শর্তে ইভিএমের পক্ষে ছিলো—এনডিএম, এনপিপি, খেলাফত মজলিস ও বিএনএফ।

ইভিএম নিয়ে দলগুলোর প্রস্তাব

আওয়ামী লীগ: আওয়ামী লীগ তার লিখিত প্রস্তাবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ বৃদ্ধি করার কথা বলেছে। নিজেদেরকে ভোট ডাকাতি, ভোট জালিয়াতি এবং প্রহসনের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ভিকটিম আখ্যায়িত করে দলটি বলেছে— বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের দেশ ভারতের মতো আমরাও মনে করি, প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোট ডাকাতি ও ভোট কারচুপি বন্ধ করতে ইভিএমের কোনও বিকল্প নেই। ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহারের শুরুর দিকে কিছু দখল, ভোট কারচুপি এ সব বন্ধ করে একটি টেকসই স্বচ্ছ নির্বাচন পদ্ধতি বাস্তবায়ন ইভিএম ব্যবস্থায় সম্ভব। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এখন এক লাখ ৫০ হাজারের অধিক ইভিএম রয়েছে, যা দিয়ে ৩১ শতাংশ কেন্দ্রে ইভিএম-এর মাধ্যমে ভোট নেওয়া সম্ভব উল্লেখ করে দলটি আগামী নির্বাচনে ইভিএম মেশিনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করে। তারা ইসিকে দেশে ইভিএম পদ্ধতিটি জনগণের কাছে জনপ্রিয় এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য করতে প্রচার-প্রচারণার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলে। এদিকে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মৌখিক বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা মনে-প্রাণে ইভিএমে বিশ্বাস করি। চেতনায় ধারণ করি। কোনও বিশেষ এলাকা নয়। দেশের তিনশ’ আসনে ইভিএমে ভোট হোক, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ দাবি জানাচ্ছি।’

বিকল্প ধারা: দলটি তার লিখিত প্রস্তাবে বলেছে—সব কেন্দ্রে ইভিএম-এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করা হলে অন্তত ভোট কারচুপি বন্ধ হবে। একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারবে না, তার নিশ্চয়তা চাই।

এনপিপি: এনপিপি তার প্রস্তাবে বলেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বল্প সংখ্যক আসনেও যদি ইভিএম ব্যবহার করা হয়, সেক্ষেত্রে আমরা ভোটার ভেরিফায়েবল পেপার অডিট ট্রেইল (ভিভিপিএটি) সংযুক্ত করার প্রস্তাব করছি। দলটি কোনও অবস্থাতেই যাতে কেউ কোনোরূপ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে হ্যাকিং করতে না পারে, সে ব্যাপারে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করে।

জাকের পার্টি: দলটি তার প্রস্তাবে ইভিএম পুরো নিশ্ছিদ্র বা নিরাপদ নয় উল্লেখ করে এর পরিবর্তে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্লক চেইন টেকনোলজি এবং ই-ভোটিং চালুর প্রস্তাব করেছে।

গণফোরাম: দলটি ইসির ইভিএম বিষয়ক মতবিনিময়ে যোগ দিয়ে ইভিএমের বিপক্ষে অবস্থানের কথা জানিয়েছিল উল্লেখ করে এই সংলাপেও আগের অবস্থানের কথা পুনরুল্লেখ করে। তারা ইভিএমের পক্ষে নয় উল্লেখ করে লিখিত প্রস্তাবে বলেছে— ইভিএম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা একেবারেই নগণ্য, যে কয়টি নির্বাচন ইভিএমে হয়েছে, দেখা গেছে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এ যন্ত্রের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ফলাফল নিয়ন্ত্রণের  মেকানিজমের কথাও বলেছে দলটি।

বাংলাদেশ ন্যাপ: দলটির ইভিএম বিষয়ক প্রস্তাব ছিল—বাংলাদেশ ন্যাপ মনে করে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা। ভোটারদের মধ্যে ইভিএম'র বিষয়ে গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি না করে ইভিএম চাপিয়ে দিলে সিদ্ধান্তটি একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন: দলটি মত হচ্ছে—জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম সম্পর্কে ভোটারদের মাঝে সঠিক ধারণা নেই। রাজনৈতিক দলগুলো ইভিএম ব্যবহারের ক্ষেত্রে একমত না, তাই শুধুমাত্র আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫০ আসনে ইভিএম এবং ১৫০ আসনে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করার প্রস্তাব করেছে। দলটি ইভিএম সম্পর্কে ব্যাপক পরিচিতি আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করার জন্য ইউনিয়ন, উপজেলা, থানা ও জেলা পর্যায়ে (ক্যাম্পিং)ব্যাপক প্রচারণা ও প্রদর্শনী এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারের পরামর্শ দেয়।

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম: দলটি ইভিএম ব্যবহারে পেপার অডিট ট্রেইল সংযুক্ত করার প্রস্তাব করেছে। ইভিএম ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর বিকল্প নেই বলেও তারা উল্লেখ করেছে।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট: দলটির প্রস্তাব হচ্ছে, ইভিএম মেশিনে নয়, বরং স্বচ্ছ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

খেলাফত মজলিস: দলটি তার প্রস্তাবে ইভিএম জনগণ ও রাজনীতিকদের আস্থা অর্জন করতে পারেনি দাবি করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম পরিহার করার কথা বলেছে। অবশ্য ভিভিপিএটি সংযুক্ত করে স্থানীয় নির্বাচনে পরীক্ষা করা যেতে পারে বলে মতামত দিয়েছে। রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া ইভিএম চালু করার চেষ্টা করলে সন্দেহ আরও বেশি প্রবল আকার ধারণ করবে  বলে শঙ্কার কথা জানিয়েছে দলটি।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি: লিখিত প্রস্তাবে বলেছে—আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণে আপনাদের (ইসির) তৎপরতায় বিরোধী রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। আপনারা সরকারি দলের হয়ে কাজ করছেন কিনা, জনগণের মধ্যে এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সব বিরোধী রাজনৈতিক দল জাতীয় নির্বাচনে ইডিএম পদ্ধতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জনগণের বড় অংশ ইভিএম গ্রহণ করতে পারছে না ও এই পদ্ধতিকে ডিজিটাল কারচুপির বাক্স মনে করে, সেখানে ইভিএম চালুর অতি আগ্রহ আপনাদেরকে সরকারি দলের পক্ষভুক্ত করে ফেলছে। দেশে সময় নির্বাচন ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনই যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ, সেখানে ইভিএম ইস্যু আপনাদের নিরপেক্ষতাকেও গুরুতর প্রশ্নের মুখোমুখি করছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি চালু করার সব তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার।

ইসলামী ঐক্যজোট: ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের আধুনিক প্রযুক্তি বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রেই গ্রহণ করা হয়েছে। এ পদ্ধতিটি নির্ভুল নিখুঁত হওয়া আবশ্যক। প্রযুক্তির জগতে বাংলাদেশ সবেমাত্র প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে এখনও অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেনি। সুতরাং, এ বিষয়ে প্রথমে জনগণের আস্থা অর্জনের প্রয়োজন রয়েছে|

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যালট পেপারের মাধ্যমে করা।

সাম্যবাদী দল: নির্বাচন ব্যবস্থাকে আধুনিক রূপ প্রদানের জন্য ইভিএম পদ্ধতি চালু সময়ের জরুরি দাবি বলে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএম) যুক্তিযুক্ত বলে মনে করে।

গণতন্ত্রী পার্টি: প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচন করা যেতে পারে। তবে, কোনও অবস্থাতেই যাতে কেউ প্রযুক্তি ব্যবহার করে হ্যাকিং না করতে পারে, সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকতে হবে।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি: পৃথিবীর অনেক দেশ ইভিএম থেকে সরে এসেছে এর ত্রুটির কারণে। সব রাজনৈতিক দল যদি ইভিএমে নির্বাচন করতে আন্তরিকভাবে ইচ্ছুক না হয় এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ইভিএমের বিষয়ে গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি না করে, সেক্ষেত্রে চাপিয়ে দিয়ে ইভিএমে নির্বাচন করতে গেলে আপনাদের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

গণফ্রন্ট: ইভিএম মেশিনের মাধ্যমে কোনও ডিজিটাল কারচুপি হয় কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত করতে হবে। পৃথিবীর অনেক দেশ ইভিএম বাতিল করে দিয়েছে। মেজরিটি রাজনৈতিক দলের আপত্তি থাকলে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন: ইভিএম সম্পর্কে প্রস্তাবে দলটির শিরোনাম ছিল—‘নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা’। প্রস্তাবে দলটি বলেছে, ইভিএমের ব্যাপারে জনগণের স্বচ্ছ ধারণা নেই। ইতোমধ্যেই দেশ-বিদেশে এটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এটি ব্যবহার করা হলে অনেকের ভোট দেয়াও অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। অতএব জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ইভিএম পদ্ধতি সংযোজনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানায়। ইভিএম পদ্ধতিতে বাস্তবে কিছু সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে। কিছু প্রশ্ন ও বিতর্কও তৈরি হয়েছে। জাসদ ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের অভিজ্ঞতা থেকে চিহ্নিত সমস্যা সমাধান করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও কারিগরি ত্রুটিমুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য কাজ করার পাশাপাশি ব্যালট পদ্ধতিতেও ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ: ইভিএমের যান্ত্রিক ত্রুটি রোধ ও সর্বপ্রকার জটিলতা নিরসনসহ ভোটারদের প্রশিক্ষিত করে তুলে ভোট কারচুপি ও জালিয়াতি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। তাহলেই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোনও প্রকার দ্বিধা-সংশয়ের অবকাশ থাকবে না।

বাংলাদেশ মুসলিম লীগ: ইভিএম ব্যবহারে জাতি প্রস্তুত নয়। তাছাড়া পদ্ধতিটি সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও বিতর্কিত ও এখনও পর্যন্ত জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি বিধায় বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ইভিএম ব্যবহার সমর্থন করে না।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি:  চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম-এর ব্যবহারে ত্রুটি ও দুর্ভোগ ইভিএম সম্পর্কে অনীহা বাড়িয়েছে উল্লেখ করে দলটির প্রস্তাব—ইভিএমে ভোটার ভেরিয়েবল পেপার অডিট ট্রেইল যুক্ত করা ও হাতের ছাপের পরিবর্তে চোখের রেটিনার ছবির দিয়ে ভোটার শনাক্তকরণের ব্যবস্থা করা। প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে রাখা পাসওয়ার্ড দিয়ে ভোটারের ব্যালট খোলার বিধান একেবারেই না রাখা।

জমিয়াতে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ: ভোটার জনতার অধিকাংশই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোট প্রদানে অভ্যস্ত নয় বিধায় ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালটেই ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ কংগ্রেস:  ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এর অবস্থান ও পরিচালনায় গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে এবং ভোট প্রদানের পর প্রতীকসহ মুদ্রিত টোকেন প্রদান পদ্ধতি চালু করতে হবে।

জাতীয় পার্টি (জেপি): সংসদ নির্বাচনে কোথাও  ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট, আবার কোথাও ব্যালটে— এ ধরনের কোনও বৈষম্য নয়। ৩০০ আসনের পুরোটায় ইভিএমে কিংবা সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতি আসনের ১০/১৫ শতাংশ কেন্দ্রে ইভিএমে  ভোটগ্রহণের পরামর্শ দেয় দলটি।

বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি-বিএনএফ: দলটি লিখিতভাবে ইভিএম সম্পর্কে কোনও প্রস্তাব করেনি। দলটির চেয়ারম্যান মৌখিক বক্তব্যে ইভিএমে পেপার অডিট ট্রেইল যুক্তের প্রস্তাব করেন।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ: কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ লিখিত প্রস্তাবে ইভিএমের বিষয়টি আনেনি। তবে দলটির সভাপতি কাদের সিদ্দিকী ইভিএমের বিরোধিতা করেন। ইভিএমে ভোটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইভিএম নিয়ে তার জ্ঞান না থাকলেও তিনি ওই যন্ত্রের ৩০টি ত্রুটি বের করে দিতে পারবেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি (ন্যাপ): দলটি লিখিত প্রস্তাবে ইভিএম সম্পর্কে কিছু বলেছে কিনা জানা যায়নি। এ দলটির সঙ্গে ইসির সংলাপটিও সরাসরি সম্প্রচার করা হয়নি। সংলাপের পর বেরিয়ে এসে দলটির ভারপ্রাপ্ত কার্যকরী সভাপতি আইভি আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ইভিএমের গ্রহণযোগ্যতা হলে আমরা গ্রহণ করবো। এটার জন্য মানুষ এখনও প্রস্তুত নয়। প্রস্তুত কতটুকু করতে পারবেন, তা উনাদের ওপর নির্ভর করবে। গ্রহণযোগ্যতা আনতে পারলে ইভিএম চাই। না হলে চাই না।’

মুক্তিজোট: বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) তার লিখিত বক্তব্যে ইভিএম সম্পর্কে কোনও মতামত দেয়নি। তবে দলটি জুন মাসে অনুষ্ঠিত ইভিএম প্রদর্শন বিষয়ক ইসির মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে এ সম্পর্কে কথা বলেছিল। দলটির পরিচালনা বোর্ডের প্রধান আবু লায়েস মুন্না বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তারা রাজনৈতিক সংলাপের সময় ইভিএম নিয়ে কোনও মতামত দেননি। তবে, ইভিএম নিয়ে ইসির মতবিনিময়ে বলেছিলেন— রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা হলে শহরাঞ্চলে ইভিএম ব্যবহার করা যেতে পারে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর লিখিত বক্তব্য ও ভিডিও ক্লিপের ভিত্তিতে ইভিএম নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অনেকেই লিখে নিয়ে এসেছেন বিপক্ষে, কিন্তু আলোচনা পর মাইন্ড চেঞ্জ করেছেন, আমরা তাদের পক্ষে রেখেছি।

তিনি বলেন, ‘অনেকেই পেপার ট্রেইল রাখার কথা বলেছেন। তবে এই মুহূর্তে এটা সংযোজন করা সম্ভব নয়। তাই এটা আমরা ইভিএমের বিপক্ষে সংশ্লিষ্ট দলের মতামত হিসেবে ধরে নিয়েছি।’

নির্বাচন কমিশন দেশের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপের আমন্ত্রণ জানালে তাতে ৩০টি দল সাড়া দিয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিসহ ৯টি দল সংলাপে অংশ নেয়নি। সিপিবি সংলাপে অংশ না নিলেও জুন মাসে ইসিকে দেওয়া এক চিঠিতে বলেছে, ‘ইভিএম এখনও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেনি। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ইভিএমে ভোটদান পদ্ধতির বিরোধিতা করেছে। তাই আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।’

 

/এপিএইচ/
রাজধানীতে ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ২৫৫
রাজধানীতে ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ২৫৫
‘মালয়েশিয়া থেকে বাণিজ্য-রেমিট্যান্স বাড়ার সুযোগ আছে’
‘মালয়েশিয়া থেকে বাণিজ্য-রেমিট্যান্স বাড়ার সুযোগ আছে’
রোহিত-কোহলিদের জরিমানা
রোহিত-কোহলিদের জরিমানা
ভয়ের ঊর্ধ্বে থাকতে হবে: ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের রাশেদা সুলতানা
ভয়ের ঊর্ধ্বে থাকতে হবে: ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের রাশেদা সুলতানা
সর্বাধিক পঠিত
আজ অব্দি শাকিব খানের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিইনি: বুবলী
আজ অব্দি শাকিব খানের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিইনি: বুবলী
কাতার থেকে অভিযোগ, শাহজালালে ধরা
কাতার থেকে অভিযোগ, শাহজালালে ধরা
ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা
ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা
প্রশ্ন ছাড়াই ব্যাংকে জমা দেওয়া যাবে ১০ লাখ টাকা
প্রশ্ন ছাড়াই ব্যাংকে জমা দেওয়া যাবে ১০ লাখ টাকা
ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহকের আমানতের পূর্ণ নিশ্চয়তা রয়েছে: বাংলাদেশ ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহকের আমানতের পূর্ণ নিশ্চয়তা রয়েছে: বাংলাদেশ ব্যাংক