রিজার্ভ চুরি ও ব্যাংক ভবনে আগুন: আলোচনায় ‘তিন দিনের ছুটি’!

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৫:৫২, মার্চ ২৪, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৫৯, মার্চ ২৪, ২০১৭

বাংলাদেশ ব্যাংকে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে ফায়ার সার্ভিস

রিজার্ভ চুরির ঘটনা নিয়ে এমনিতেই সমালোচিত বাংলাদেশ ব্যাংক, এর ওপর বৃহস্পতিবারের আগুন লাগার ঘটনা বিষয়টিকে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এ দুটি ঘটনার মধ্যে সম্পর্ক আছে কিনা তা নিয়েও চলছে জোর আলোচনা। উভয় ঘটনার মধ্যে একটি সাদৃশ্য এ প্রশ্নটিকে আরও জোরালো করেছে, আর তা হচ্ছে গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছিল ৩ দিনের ছুটির ফাঁকে, এবারও আগুন লাগার ঘটনার পরে রয়েছে তিন দিনের ছুটি।    

সঙ্গত কারণেই, দুটি ঘটনা কাকতালীয় নাকি উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক আছে তা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানকে। এমন প্রশ্নে বিব্রত অর্থ প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্যে এর সাদৃশ্যের কথা স্বীকার না করলেও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট সিস্টেম হ্যাকড করে রিজার্ভ চুরি করা হয়। সেদিনটা ছিল বৃহস্পতিবার। পরের দুইদিন শুক্র ও শনিবার বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে সাপ্তাহিক ছুটি পালিত হয়। আবার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি। আবার ৭ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) চীনের নববর্ষ উপলক্ষে ছুটি ছিল ফিলিপাইনে। এই ছুটির ফাঁকে মার্কিন ফেডারেল ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে স্থানান্তর করা হয় ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকে। তিন দেশে ভিন্ন ভিন্ন দিনের ছুটির দিনগুলোকে সমন্বয় করেই হ্যাকাররা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

এবার আগুন লাগার পরের দুইদিন বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটি, আবার রবিবার বিভিন্ন দেশের ছুটির সঙ্গে বাংলাদেশে স্বাধীনতা দিবসের ছুটিও রয়েছে।

বাংলাদেশের ব্যাংকের ১৪ তলায় বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের জিএম এর কক্ষে আগুন

ছুটির ফাঁকে আগুন লাগার ঘটনায় রিজার্ভ চুরির সময়ের সাদৃশ্য থাকা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম. এ. মান্নান বলেন, “আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলা ঠিক হবে না। তবে আপাতত এমনটি মনে হচ্ছে না।” তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও উল্লেখ করেন।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কোনওভাবেই কাম্য নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কাকতালীয় হোক আর যা-ই হোক, এভাবে আগুন লাগার পেছনে অন্য কোনও কারণ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। আমাদের আইসিটি বিভাগ, বুয়েট ও কম্পিউটার সায়েন্সের বিশেষজ্ঞদের দেখানো হবে। ঘটনা যা-ই ঘটুক, প্রকৃত ঘটনা সবাইকে জানানো হবে। এখানে ঢেকে রাখার কিছু নেই।’

সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি দেশবাসীকে সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট কাজ করে রাত ১০টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয় রাত ১০টা ৩৪ মিনিটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ৭০ জন কর্মী ভবনটিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন।

/জিএম/আরজে/এসএ/টিএন/

আরও পড়ুন:

বাংলাদেশ ব্যাংকে আগুন: আরও উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সুপারিশ অর্থ প্রতিমন্ত্রীর

আগুন রহস্য উদঘাটনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ সদস্যের কমিটি

পুড়ে গেছে বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের জিএম-এর কক্ষের ১০-১৫ ভাগ

বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে আগুন: ফায়ার সার্ভিসের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি

বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে আগুন

লাইভ

টপ