প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় জাফর ইকবালের ওপর হামলা

Send
রাফসান জানি
প্রকাশিত : ০০:৩৫, মার্চ ০৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:১৫, মার্চ ০৫, ২০১৮

হামলাকারী তার পেছনেই ছিলো, নিরাপত্তায় সঙ্গে থাকা পুলিশও ছিল-এরপরও রক্ষা পেলেন না ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। একেবারেই মাথার পেছনে আঘাত করা হয় তাকে। শনিবার বিকালে হামলা হওয়ার পর ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়।

হামলার ঘটনাস্থল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। চলছিল প্রতিষ্ঠানের ত্রিপল-ই বিভাগের ফেস্টিভ্যাল। জাফর ইকবালের ওপর হামলা করতে এই ফেস্টিভ্যালকেই বেছে নেয় হামলাকারী। তবে এর পেছনে কী উদ্দেশ্য, কার পরিকল্পনা—এসব এখনও উদঘাটন সম্ভব হয়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কীভাবে জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপ হয় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়জুল্লাহ’র। ঘটনার সময় তিনি ছিলেন মাত্র বিশ গজ দূরে।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ফয়জুল্লাহ বলছিলেন, ‘ত্রিপল-ই (ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং) ফেস্টিভ্যাল চলছিল। শনিবার বিকাল ৫.৩৫। ফেস্টিভ্যালের এক পর্যায়ে বিকাল ৫.৩৫ এ ব্রেক দেওয়া হয়। ফেস্টিভ্যালে ৫ মিনিট ব্রেক দেওয়া হয়। ওই সময় স্যার মঞ্চেই ছিলেন। অনেক আগে থেকেই ছিলেন সেখানে। তো, যখন ব্রেক দিলো, তখন আমরা জাস্ট বিশ গজ দূরে এসে চা স্টলে দাঁড়ালাম চা পান করতে। ওখানে একটি চায়ের টং আছে, সেখানে গেছিলাম। আর ওই সময়টাতেই ঘটনা ঘটে।’

ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘একেবারে ব্রেক দেওয়ার প্রথম মিনিটেই ঘটনাটা ঘটছে। ছেলেটা আগে থেকেই মঞ্চে উঠে গিয়েছিল। মঞ্চে শিক্ষার্থীরা ছিল, মঞ্চের পেছনে চারজন পুলিশ ছিল। হামলাকারী সন্ত্রাসী আগে থেকেই মঞ্চে উঠেছিল। আর সুযোগ পেয়ে আঘাত করে বসে।’

হামলাকারীর পরিচয় সম্পর্কে ফয়জুল্লাহ জানান, ‘এখন পর্যন্ত তার কোনও পরিচয় আমরা পাইনি।’

উল্লেখ্য, শনিবার বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান চলাকালে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে পেছন থেকে মাথায় ছুরিকাঘাত করে ২৪-২৫ বছর বয়সী এক তরুণ। এরপর তাকে সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরই মধ্যে সেখানে অস্ত্রোপচার শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়েছে। এর আগে, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. দেবপদ রায়।

এদিকে, ড. জাফর ইকবালের হামলাকারীকে আটক করে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হামলাকারী তরুণের নাম ফয়জুল। তার বাবার নাম মাওলানা আতিকুর রহমান।সিটিটিসি সূত্র জানিয়েছে, অতীতে বিভিন্ন সময় ড. জাফর ইকবালকে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর দেওয়া হুমকির বিষয়টি মাথায় রেখে ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।

ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পক্ষ থেকেও নিন্দা জানানো হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন ‘এ’-এর সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ-মিছিল করেছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগেও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণজাগরণ মঞ্চ।

ওটিতে ড. জাফর ইকবাল

‘ড. জাফর ইকবাল শঙ্কামুক্ত’

জাফর ইকবালের চিকিৎসায় বোর্ড গঠন

শাবিতে ড. জাফর ইকবালের মাথায় ছুরিকাঘাত

জাফর ইকবালকে দেখতে শিক্ষামন্ত্রী হাসপাতালে

জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীকে র‌্যাবে হস্তান্তর

জাফর ইকবালের পেছনেই দাঁড়িয়েছিল হামলাকারী যুবক

হামলাকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সিলেট যাচ্ছে সিটিটিসি

অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বলছে আ. লীগ, বিএনপি’র দাবি চক্রান্ত

জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ

জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

জাফর ইকবালকে হত্যার টার্গেটে রাখা হয়েছিল সবসময়: গণজাগরণ মঞ্চ

‘নিরাপত্তার মধ্যে তাৎক্ষণিক সুযোগ পেয়ে জাফর ইকবালের ওপর হামলা করা হয়’

/এসটিএস/টিএন/

লাইভ

টপ