স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বর্ধিত ভাড়ায় চলছে গণপরিবহন

Send
শাহেদ শফিক
প্রকাশিত : ১৫:১২, জুন ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:০৭, জুন ০১, ২০২০

গুলিস্তানে চলছে গণপরিবহন, ছবি: নাসিরুল ইসলাম দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর সোমবার থেকে শুরু হয়েছে গণপরিবহন চলাচল। সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব পরিবহন পরিচালনার নির্দেশনা থাকলেও তার পুরোপুরি পালন করতে দেখা যায়নি। তবে এক্ষেত্রে বাসের আসন ফাঁকা রাখার যে নির্দেশনা ছিল সেটি পালন করতে দেখা গেছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি পালন হচ্ছে কিনা সেটি দেখার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনও মনিটরিং চোখে পড়েনি। সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সকালে সরেজমিনে সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে গণপরিবহনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার উদ্দেশ্যে বাসে যাত্রীদের উঠতে দেখা গেছে। হেলপাররা আগের মতো জোর করে টেনে টেনে যাত্রী তুলছেন। এসময় কোনও পরিবহনে জীবাণুনাশক ছিটাতে দেখা যায়নি। তবে পরিবহনগুলো বের হওয়ার আগেই জীবাণুমুক্ত করে রাখা হয়েছে বলে দাবি পরিবহন শ্রমিকদের।

জানতে চাইলে বলাকা সার্ভিসের চালকের সহযোগী ইলিয়াস হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গতকালই আমরা আমাদের সব বাস জীবাণুমুক্ত করেছি। এখনও হ্যান্ড স্যানিটাইজার পাইনি। তাই সেটা নিয়ে বের হতে পারিনি। তবে যাত্রীদের আমরা ধীরে বাসে উঠাচ্ছি এবং নামাচ্ছি। তিনি নিশ্চিত করেন পাশাপাশি দুটি সিটে কাউকে বসতে দেওয়া হচ্ছে না।

শাহবাগ এলাকায়ও গণপরিবহন চলতে দেখা গেছে। তবে যাত্রী সংখ্যা কম। এই এলাকার পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষও খুব বেশি পরিবহনে উঠছে না। যাদের একান্ত  প্রয়োজন তারাই গণপরিবহন ব্যবহার করছেন।

রজনীগন্ধা বাসের চালক জসিম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যাত্রী কম। আমরাও মানুষকে ডাকাডাকি করে পরিবহনে তুলছি না। মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে অনুরোধ করছি। বাসের ফাঁকা ফাঁকা স্থানে বসতে অনুরোধ করছি। যাদের মুখে মাস্ক নেই তাদের উঠতে দিচ্ছি না।’

মহাখালীতে চলছে গণপরিবহন, ছবি:  সাজ্জাদ হোসেন বাসে ওঠার সময় যাত্রীদের কেনও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে না এমন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এখনও মালিক থেকে সেটা বুঝে পাইনি।

অপরদিকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা গেছে বেশ কয়েকটি গণপরিবহনে। খিলগাঁও এলাকায় মিডলাইন পরিবহনের চালকের সহযোগীর হাতে জীবাণুনাশক স্প্রে দেখা গেছে। যাত্রীরা বাসে ওঠার সময় সবার হাতে প্রয়োজন মতো হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে। বাসটির ভেতরেও যাত্রীদের আসন ফাঁকা রেখে বসতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যেই অফিস খোলা ও গণপরিবহন সীমিত আকারে চলাচলের সরকারি সিদ্ধান্তের পর বাসের ভাড়া ৮০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বিআরটিএ’র ওই সুপারিশকে গণবিরোধী উল্লেখ করে চলা সমালোচনার মধ্যেই গতকাল রবিবার বিআরটিএ এ সুপারিশের মাত্র ২০ শতাংশ কমিয়ে গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। আজ সোমবার বর্ধিত ভাড়ায় রাজধানীসহ সারাদেশে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেছেন  সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হুমায়ন কবির পল্লব।

জানতে চাইলে তরঙ্গ পরিবহনের যাত্রী নজরুল ইসলাম বলেন, বনশ্রীতে বোনের বাসা। তিনি খুবই অসুস্থ। তাকে দেখতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে বের হয়েছি। বাধ্য হয়েই বাসে উঠেছি। আসলে যেসব স্বাস্থ্যবিধির কথা বলা হয়েছে সেগুলো পুরোপুরি পালন করা হচ্ছে না। যেখানে ঘন ঘন আসনগুলো জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করার দরকার সেখানে দিনে একবারও করা হচ্ছে কিনা সন্দেহ রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আজকের সার্বিক পরিস্থিতি অনেক ভালো। যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেগুলো পুরোপুরি পালনের চেষ্টা চলছে। দূরপাল্লার গাড়িগুলোও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালানো হচ্ছে। আমি এবং আমাদের মালিকরা সবস্থানেই তদারকি করছেন।

তিনি আরও বলেন, মহাখালীসহ বিভিন্ন টার্মিনালে জীবাণুমুক্ত টানেল স্থাপন করা হয়েছে। যাত্রীদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর যারা স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করবে তাদের গাড়ি রাস্তায় নামতে দেওয়া হবে না।

ছবি: নাসিরুল ইসলাম ও সাজ্জাদ হোসেন। 

/এফএএন/এমএমজে/

লাইভ

টপ