হায়েনার কামড়ে হাত বিচ্ছিন্ন: হাসপাতালে কাতরাচ্ছে শিশু সাইফ

কবির হোসেন
০৯ জুন ২০২৩, ২১:০০ আপডেট : ০৯ জুন ২০২৩, ২১:৪৫

দুই বছরের শিশু সাইফ মা-বাবার একমাত্র সন্তান। সারাক্ষণ খেলাধুলায় আর দুষ্টুমিতে কাটতো যার সময়। বাড়ির সবাইকে আনন্দে মাতিয়ে রাখতো শিশুটি। আজ হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে সে। রাজধানীর শ্যামলীর পঙ্গু হাসপাতালে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের ২৬ নম্বর বেডে ভর্তি আছে সাইফ। ভয়ে-আতঙ্কে-ব্যথায়-যন্ত্রণায় বারবার চিৎকার করছে সে। পাশেই শিশুটির বাবা-মা ও স্বজনরা। ছেলের যন্ত্রণায় মায়ের চোখ বেয়ে জল গড়াচ্ছে। মা নিজেকে সামলিয়ে শত চেষ্টা করেও কোনোভাবেই ছেলের কান্না থামাতে পারছেন না।

বৃহস্পতিবার (৮ জুন) রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় মা-বাবা ও আরও কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে জাতীয় চিড়িয়াখানায় ঘুরতে যায় সাইফ। মায়ের কোল থেকে হঠাৎ করে নেমে দৌড়ে হায়েনার খাঁচার কাছে চলে যায় সে। এ সময় খাঁচায় বন্দি হায়েনা কামড়ে নিয়ে যায় শিশু সাইফের ডান হাতের কবজির অংশ। মুহূর্তেই আনন্দ পরিণত হয় বিষাদে। চিড়িয়াখানার লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরইমধ্যে এক দফা অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে সাইফের। সংক্রমণের টিকাও দেওয়া হয়েছে।

শিশুটির সুচিকিৎসার ও ঘটনা তদন্তের জন্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর থেকে আলাদা তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ জুন) বিকালে সরেজমিন হাসপাতালে দেখা যায়, অস্থির হয়ে ছোটাছুটি করছিলেন সাইফের বাবা গার্মেন্টকর্মী মো. সুমন মিয়া। কখনও ডাক্তারের কাছে, আবার কখনও ছেলের বেডের পাশে আসছিলেন দ্রুত পা চালিয়ে। একমাত্র সন্তানের সঙ্গে এমন ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন বাবা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ছয় মাস আগে গাজীপুর থেকে সাভারের জিরানী এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করি। শ্বশুরবাড়ির কিছু আত্মীয়সহ আমি ও আমার স্ত্রী দুই বছরের ছেলে সাইফকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় যাই। দুপুর ১২টার দিকে চিড়িয়াখানায় হায়েনার খাঁচার সামনে সাইফ তার মায়ের কোল থেকে নামে। আমি পাশেই একটি বেঞ্চে বসছিলাম। সে হঠাৎ হায়নার খাঁচার সামনে চলে যায়। তখন ১০ সেকেন্ডের মধ্যে খাঁচায় থাকা হায়েনাটি তার হাতে কামড় দেয়। পরে আমরা সবাই মিলে অনেক চেষ্টা করেও হায়েনার মুখ থেকে তাকে ছোটাতে পারিনি। কামড়ের একপর্যায়ে তার ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ছেলেটা আমার বাসা মাতিয়ে রাখতো। সে একটু বাইরে ঘুরতেও পছন্দ করতো। কোথা থেকে কী হয়ে গেলো। তাকে নিয়ে সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে কে জানে।

জাতীয় চিড়িয়াখানা

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এখানে কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কিনা দেখা হবে। নিরাপত্তা বিধানের বিষয়টিও দেখবো। শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত তার সব চিকিৎসা ব্যয় আমরা বহন করবো। শিশুটির জন্য হাসপাতালে আমাদের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক একজন থাকবে এবং আমরা মনিটরিংয়ে রাখবো।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রাণীকে চিড়িয়াখানার ভেতরে আবদ্ধ রাখা, এটিও এক ধরনের অমানবিক কাজ। এরপরও বিশ্বব্যাপী এটি নিয়ে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। কেউ এটির পক্ষে, আবার কেউ এটির বিপক্ষে। প্রাণী দেখে শিখবে, জানবে। শিক্ষা ও গবেষণার জন্য চিড়িয়াখানা প্রয়োজন। তবে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীরা যাবেন, তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের এবং সেক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স থাকতে হবে। প্রাণীর নিরাপত্তা যেমন প্রয়োজন, যারা দেখতে যাবেন তাদেরও সঠিক নিরাপত্তা দিতে হবে।

তিনি বলেন, গতকালের ঘটনায় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সামনে যেন এমনটা আর না ঘটে এজন্য তাদের আরও সচেতন হতে হবে। এগুলো নিয়ে একটি রিভিউ দরকার। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানে যেতে হবে, যেন এরকম মর্মান্তিক কোনও ঘটনা না ঘটে।

পরিবেশবিদ আহমেদ কামরুজ্জামান আরও বলেন, যারা দর্শনার্থী তারা চিড়িয়াখানায় যাবেন, তাদেরও যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। প্রাণীদের উত্ত্যক্ত করা যাবে না, খাবার দেওয়া যাবে না, ঢিল ছুড়ে মারা এসব করা যাবে না। চিড়িয়াখানার সংশ্লিষ্টরাও মানুষ চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করার সময় সচেতনমূলক বার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি স্থানে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনটা করা যাবে আর কোনটা যাবে না এসব বিষয়ে সার্বক্ষণিক সচেতনতার ব্যবস্থা করতে হবে।

আরও পড়ুন- খাঁচায় বন্দি হায়েনা নিয়ে গেলো দুই বছরের শিশুর হাত

/এফএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে ঢাকায় ১৬ হাজার পুলিশ: ডিএমপি
একদিনে হামের উপসর্গে আরও একজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১০১০
অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে অতিরিক্ত ডিআইজির সেই বাড়িতে কী কী হতো
সর্বশেষ খবর
ইরাক প্রবাসীদের জন্য সুখবর
ইরাক প্রবাসীদের জন্য সুখবর
প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে ঢাকায় ১৬ হাজার পুলিশ: ডিএমপি
প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে ঢাকায় ১৬ হাজার পুলিশ: ডিএমপি
কক্সবাজার সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে মানুষের ঢল, ভক্তদের আহ্বান ‘আবার দেখা হবে’
কক্সবাজার সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে মানুষের ঢল, ভক্তদের আহ্বান ‘আবার দেখা হবে’
একদিনে হামের উপসর্গে আরও একজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১০১০
একদিনে হামের উপসর্গে আরও একজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১০১০
সর্বাধিক পঠিত
পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুইপক্ষ এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুইপক্ষ এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
পুলিশের সেই অতিরিক্ত ডিআইজিকে নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির
পুলিশের সেই অতিরিক্ত ডিআইজিকে নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির
প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরতে চেয়ে প্রত্যাহার রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার
প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরতে চেয়ে প্রত্যাহার রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার
পে-স্কেল: বেতন-ভাতা নির্ধারণে প্রস্তুতি কতদূর
পে-স্কেল: বেতন-ভাতা নির্ধারণে প্রস্তুতি কতদূর
স্থানীয় নির্বাচনে কেমন প্রার্থী বেছে নিতে হবে, সাফ জানিয়ে দিলেন তারেক রহমান
স্থানীয় নির্বাচনে কেমন প্রার্থী বেছে নিতে হবে, সাফ জানিয়ে দিলেন তারেক রহমান