X
শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪
১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

নভেম্বরে আসার কথা থাকলেও আসেনি ইলেকট্রিক বাস

জুবায়ের আহমেদ
৩০ নভেম্বর ২০২৩, ২০:০১আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৩, ২০:০৪

ধাপে ধাপে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রবেশ করছে রাজধানী ঢাকা। ইতোমধ্যে মেট্রোরেলের মতো আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো বিরামহীন সড়ক ব্যবস্থার সুবিধা ভোগ করছে রাজধানীবাসী। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় যুক্ত হবে ইলেকট্রিক বাস। বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ মুক্ত পরিবেশবান্ধব ১০০টি ইলেকট্রিক বাস চলতি বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বহরে যুক্ত হবার কথা ছিল। যার মধ্যে ৮০টি ঢাকায় ও ২০টি চট্টগ্রামে চলাচল করবে। তবে নভেম্বর মাস শেষ হলেও দেশে ইলেকট্রিক বাস আসেনি।

গত ১০ মে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে 'সাব রিজিওনাল মিটিং অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ওয়ার্কশপ অন এক্সিলারেটিং দ্যা ট্রানজিশন টু ইলেকট্রিক মোবিলিটি ইন এশিয়া অ্যান্ড দ্যা প্যাসিফিক' শীর্ষক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নভেম্বরে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস আনার কথা জানিয়েছিলেন।

এর আগে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার ড. বিনয় জর্জের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দুদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা হয়। এসময় ভারতীয় ঋণ সহায়তা চুক্তি 'লাইন অব ক্রেডিট' (এলওসি) আওতায় বিআরটিসির জন্য ৩০০টি ইলেকট্রিক ডাবল-ডেকার এসিবাস সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে চলতি বছরের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০০টি বাস সরবরাহের জন্য অনুরোধ করা হয় বলে জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। ভারতের ঋণ সহায়তা ছাড়াও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে দেশে ইলেকট্রিক বাস আনার কথা চলছিল। ইলেকট্রিক বাসের প্রতীকী ছবি

এছাড়া এবছরই ঢাকায় ইলেকট্রিক বাস চলাচলের বিষয়ে গত ৯ মে ডিএসসিসির নগর ভবনে বাস রুট র‍্যাশনালাইজেশন কমিটির ২৭তম সভায় ঢাকার দুই মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও মো. আতিকুল ইসলাম আশাব্যক্ত করেছিলেন।

পরিবেশবান্ধব বাসগুলো আনার প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৯ সালে। ২০২০ সালে তৈরি হয় নীতিমালা। এবং গত ২৩ ফেব্রুয়ারি 'ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৩’ নামে এই নীতিমালা অনুমোদনও হয়।

তবে নভেম্বর মাস শেষ হলেও দেশে এখনও ইলেকট্রিক বাস আসেনি। ভারতীয় ঋণ সহায়তা চুক্তি এলওসি-র মাধ্যমে যে অর্থায়ন আসার কথা ছিল তা আসেনি। এই ঋণ সহায়তার সকল কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, ইন্ডিয়ান হাইকমিশনেও জানানো হয়েছে। তবে ঋণ এখনও পাস হয়নি। ঋণ পাস হলেই ইলেকট্রিক বাস আনার কাজ এগিয়ে যাবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'বাস আনার প্রক্রিয়া চলমান। এটা ভারতের সঙ্গে এলওসি ঋণ চুক্তি আওতায় আসছে। তাই লোন প্রসেস করতে হয়। তবে আমরা আশা করছি দ্রুত কাজটা সম্পন্ন করে দেশে ইলেকট্রিক বাস আনার।'

বাস আনার নির্দিষ্ট কোনও সময় বলা যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, 'চেষ্টা করে যাচ্ছি। যে কোনও সময়ই এটা হতে পারে। এটা বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃদেশীয় বিষয়, তাই দেরি হচ্ছে। আমরা ইন্ডিয়ান হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। তবে নির্দিষ্ট টাইম বলা যায় না।

দেশে আনা হলে ওই ইলেকট্রিক বাসগুলো বিআরটিসির বিভিন্ন ডিপোতে থাকবে এবং সেখানেই বাসগুলো চার্জ করার ব্যবস্থা রাখা হবে।

বিআরটিসির সূত্র জানা যায়, বাস চালানোর জন্য চালকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে। এছাড়া আগের তেলে চালিত বিআরটিসির বাসের মতো যন্ত্রাংশের অভাবে এই বাসগুলো যেন অকেজো হয়ে না পড়ে সে বিষয়টি মাথায় রেখেই আমদানি করা হবে এসব ইলেকট্রিক বাস।

এ বিষয়ে বিআরটিসির চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। চালকদের ট্রেনিং দেওয়াচ্ছি। আমাদের টেকনিশিয়ানদের দক্ষ করে তুলছি। যেন তারা ইলেকট্রিক বাস এলে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে। চালকদের মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখছি।

এছাড়া কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের ঋণ সহায়তায় কোরিয়া থেকেও ১০০টি ইলেকট্রিক বাস আনার কাজ এগিয়েছে বলেও জানান বিআরটিসির চেয়ারম্যান।

তবে ইলেকট্রিক বাস আনার পূর্বে ব্যবস্থাপনাগত প্রস্তুতিটাও জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, কেবল ইলেকট্রিক বাসকে এককভাবে চিন্তা করলে হবে না। এই বাস নামানোর পাশাপাশি এর পরিচালনা, পরিচর্যা ও নতুন এই পরিবহনের জন্য নতুন সড়ক ব্যবস্থাপনাও প্রয়োজন।

এ বিষয়ে যোগাযোগবিশেষজ্ঞ ও অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে ইলেকট্রিক বাস আমাদের দেশে নতুন। আগের তেলে চালিত বাসগুলোর মতো এই বাসগুলো না। সুতরাং এই বাসগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখা প্রয়োজন। তা না হলে বাস এসে পড়বে কিন্তু সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় দেখা যাবে বাসগুলো কিছুদিন পর নষ্ট হয়ে পড়ে থাকবে।

তিনি বলেন, ডিজেল চালিত যান থেকে বৈদ্যুতিক যানের যুগে আমরা প্রবেশ করছি। এটা একটা বড় পরিবর্তন, তাই আমাদের প্রস্তুতিটাও ব্যাপক হওয়া উচিত, যেন এটি টেকসই হয়। এরজন্য ওয়ার্কশপগুলো প্রস্তুত করা, বিদেশের ওপর নির্ভর না করে দেশি টেকনিশিয়ান তৈরা করা, সড়কে এই বাসগুলো চলাচলের ও যাত্রী উঠানামার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা রাখা— এই কাজগুলো আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে হবে। এগুলো করতে কিন্তু সময় লাগে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, কেনার প্রতি অনেক আগ্রহ, কিনে আনার পর তোড়জোড় শুরু করে কীভাবে এইটা চালানো যায়। তখন যথাযথ প্রস্তুতি না থাকায় দ্রুতই তা নষ্ট হয়ে যায়। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হয়।

/এমএস/
সম্পর্কিত
আগুন নিয়ন্ত্রণে, ভিড়ে উদ্ধারকাজ ব্যাহত
বেইলি রোডে ভবনে আগুনছাদে আটকে আছেন অনেকে, ৬৮ জনকে উদ্ধার
বেইলি রোডে আগুনদগ্ধ ৬ জন হাসপাতালে
সর্বশেষ খবর
বাবাকে লিগ্যাল নোটিশ দিলেন তিশা
বাবাকে লিগ্যাল নোটিশ দিলেন তিশা
আগুন নিয়ন্ত্রণে, ভিড়ে উদ্ধারকাজ ব্যাহত
আগুন নিয়ন্ত্রণে, ভিড়ে উদ্ধারকাজ ব্যাহত
ছাদে আটকে আছেন অনেকে, ৬৮ জনকে উদ্ধার
বেইলি রোডে ভবনে আগুনছাদে আটকে আছেন অনেকে, ৬৮ জনকে উদ্ধার
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ
সর্বাধিক পঠিত
বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন দল কত টাকা পাবে জানালো বিসিবি
বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন দল কত টাকা পাবে জানালো বিসিবি
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে নতুন ডিজি
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে নতুন ডিজি
গাজায় যুদ্ধবিরতি: কী বলছে হামাস, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র
গাজায় যুদ্ধবিরতি: কী বলছে হামাস, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র
মুরাদের ফোন ও ল্যাপটপে যৌন হয়রানির প্রমাণ মিলেছে
মুরাদের ফোন ও ল্যাপটপে যৌন হয়রানির প্রমাণ মিলেছে
বিদ্যুতের বর্ধিত দাম কার্যকর হবে ফেব্রুয়ারি থেকেই
বিদ্যুতের বর্ধিত দাম কার্যকর হবে ফেব্রুয়ারি থেকেই