X
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
৮ বৈশাখ ১৪৩১

আমার প্রতিন্দ্বন্দ্বী সবাই শক্তিশালী: শাহ মঞ্জুরুল হক

বাহাউদ্দিন ইমরান
০৪ মার্চ ২০২৪, ২০:৩৮আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৪, ২০:৫৬

আগামী ৬ ও ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। দেশের অন্যান্য আইনজীবী সমিতির তুলনায় এই সংগঠনটির নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন দেশের সাধারণ আইনজীবীরা, এমনকি রাজনৈতিক মহলও। গত বছরের নির্বাচনে বড় দুটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ব্যালট ছিনতাইসহ বেশকিছু বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে এবারের নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের কাছে আরও বেশি গুরুত্ব বহন করছে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল (সাদা দল) বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ থেকে সম্পাদক পদে প্রার্থিতা করছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক। নির্বাচনকে ঘিরে বাংলা ট্রিবিউনের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।

প্রশ্ন: আইনপেশার শুরু এবং আপনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাই।

অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক: আমি আইনপেশার সঙ্গে প্রায় ২৬ বছর ধরে যুক্ত রয়েছি। শুরুর দিকে আইনজীবী হওয়ার ইচ্ছা ছিল না, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার ইচ্ছা ছিল। তবে শিক্ষকতায় মনোনিবেশ করতে না পারায় ১৯৯৭ সাল থেকে আইন পেশা শুরু করি। ব্যারিস্টার রফিকুল হক স্যারের সঙ্গে জুনিয়রশিপ করি। সেইসঙ্গে বড় বড় কিছু কোম্পানির আইন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। ফলে শুরুটা ভালোই ছিল। ১৯৯৭ সালের পর আমাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

২০০৫ সালে নিজে চেম্বার শুরু করি। ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের সময় বড় বড় কোম্পানি ও কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী-এমপির মামলার কাজ করার সুযোগ হয়। তারপর থেকে আমার পেশা আরও প্রস্ফুটিত হতে শুরু করে। তখনও সেন্ট্রাল ল কলেজ, আইডিয়াল ল কলেজ, নর্দান ইউনিভার্সিটিতে পার্ট টাইম শিক্ষকতা করতাম। তবে আইন পেশায় ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় শিক্ষকতা ছেড়ে দেই। এরপর থেকে আইনপেশায় যুক্ত আছি। ডিএলআর-সহ বিভিন্ন ল ম্যাগাজিনে সিনিয়রদের সঙ্গে এবং আমার একক ৫০টির বেশি রিপোর্টেড মামলাও রয়েছে।

অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হকের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন বাংলা ট্রিবিউনের রিপোর্টার বাহাউদ্দিন ইমরান প্রশ্ন: দেশের আইন অঙ্গনে আইনজীবীদের স্বার্থে কী কী অবদান রেখেছেন?

অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক: আমি আইনজীবীদের পাশে সবসময়ই ছিলাম এবং এখনও আছি। যখন থেকে প্র্যাকটিস ভালো করছি, তখন থেকেই আইনজীবীরা তাদের দুঃসময়ে আমাকে পাশে রাখার চেষ্টা করেছেন। আমি সবসময়  তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। যখন করোনা মহামারি আসলো, তখনও আমি বড় অঙ্কের একটি টাকা জুনিয়রদের সহযোগিতা জন্য দিয়েছিলাম। এর বাইরেও করোনাকালীন সময়ে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি— বিভিন্ন বারের জুনিয়রদের সাহায্য করার। নারী আইনজীবীদেরও সহযোগিতা করেছি। অসুস্থ আইনজীবীদের পাশে সবসময় থাকার চেষ্টা করেছি। এছাড়া সমিতির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা খেলাধুলার মধ্যে এসপিএল, ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন খেলায় সহযোগিতা করে আসছি। প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করে আমি ব্যাডমিন্টন গ্রাউন্ড করে দিয়েছি। ফুটবল টিমগুলোকে অনুদানের ব্যবস্থা করি সবসময়। আইনজীবীরা ক্রিকেট টিম নিয়ে নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়াতে গিয়েছিল। তাদের সবাইকে সহযোগিতার চেষ্টা করেছি। বিভিন্ন বারের লাইব্রেরি উন্নয়নে সহযোগিতা করেছি। চট্টগ্রাম বার লাইব্রেরিতে বই কেনা, এসি বসানোসহ দেশের বিভিন্ন বারে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি।

প্রশ্ন: নির্বাচন করতে এসে কোনও প্রতিবন্ধকতা দেখছেন কিনা?

অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক: কোনও প্রতিবন্ধকতা নেই। তবে আমি মনে করি, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী তিন জনই শক্তিশালী প্রার্থী। আমি উপলব্ধি করছি, এই পদে (সম্পাদক) খুব কঠিন প্রতিদ্বন্দিতা হবে। শুধু আমিই না, সমিতির অন্যান্য আইনজীবীও আমাকে বলেন, এর মধ্য থেকেই প্রতিদ্বন্দিতা করে আমাকে বিজয়ী হতে হবে। পাস-ফেলতো আল্লাহর কাছে। তবে আমি আমার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমার সঙ্গে সমিতির সব আইনজীবীর সুসম্পর্ক রয়েছে। আমি আইনজীবী-বান্ধব। যতদূর জেনেছি, আমার কোড অব কন্ডাক্ট, ক্লায়েন্ট ডিলিং, নিজের ব্যবহার, বার-বেঞ্চের সঙ্গে সুসম্পর্ক— এসব মিলিয়ে আইনজীবীরা আমাকে পছন্দ করেন। এরপরও আমাকে নিয়ে কেউ কেউ বদনাম খোঁজার চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। 

প্রশ্ন: একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ দলের বাইরে বিচারপ্রার্থীদের মামলা পরিচালনা করেছেন। এর সত্যতা কতটুকু?

অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক: আমি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলা পরিচালনা করিনি। এ বিষয়ে মিথ্যা কাগজ ছড়ানো হচ্ছে। আরেকটি বিষয় হলো— দলের বাইরেও অনেকে মামলা পরিচালনা করে থাকেন। আমিও যে দুই-একটি মামলা করিনি, তা নয়। এখানকার অনেক আইনজীবী অনুরোধ করেছেন বলেই তা করেছি। অনেক আইনজীবীকেই এমনটা করতে হয়।

প্রশ্ন: বিজয়ী হলে আপনার করণীয় কী থাকবে?

অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক: এক বছর খুবই কম সময়। তবুও আমি একটি ইশতেহার দিয়েছি। যদি বিজয়ী হতে পারি, তাহলে সবার সহযোগিতায় আমার কাজগুলো অব্যাহত রাখবো। পাশাপাশি বিজয়ী হওয়ার পর আমি যদি কোনও কাজের সূচনা করে যেতে পারি, তবে তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। জুনিয়র আইনজীবীদের নিয়ে আমার চিন্তা। তাদের বসার জায়গা নেই। আমাদের একটি ভবন খুবই প্রয়োজন। গত পাঁচ বছর ধরে আইনজীবীদের এই একটাই দাবি। এটা আমার একার পক্ষে সম্ভব না। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা লাগবে। আমরা বারবার তার দ্বারস্থ হয়েছি। তিনিও আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। সাদা প্যানেল বিজয়ী হলে— এখানে একটি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারবো। আমার পরবর্তী সময়ে যিনি আসবেন, তিনি হয়তো কাজ শেষ করবেন।

একটি ভালো সেমিনার কক্ষ, করপোরেট-সহ বিভিন্ন ধরনের ক্লায়েন্টের বসার জায়গা, আরবিট্রেশন সেন্টার, আধুনিক লাইব্রেরি, রেস্টুরেন্টসহ অনেক লজিস্টিক সাপোর্ট আমাদের নিশ্চিত করা দরকার। জুডিশিয়ারিতে বিচারপ্রার্থীদের বসার জায়গা করা হয়েছে। এমন ব্যবস্থা সমিতিতেও থাকা প্রয়োজন। একটি কমন রুম থাকলে ক্লায়েন্টরা সেখানেও বসতে পারবেন।

প্রশ্ন: কম ফিতে জুনিয়র আইনজীবীদের মামলা পরিচালনা করা নিয়ে আপনার বেশ সুনাম রয়েছে। বিজয়ী হলেও কি তা অব্যাহত থাকবে?

অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক: বিগত প্রায় ৫ বছর ধরে কম ফি’র বিনিময়ে আমি জুনিয়র আইনজীবীদের মামলা পরিচালনা করে আসছি। জুনিয়র আইনজীবীরা কত টাকা ফি দিচ্ছেন, তা খুলেও দেখি না। যা ফি দিচ্ছেন তা নিয়েই মামলা করছি। এতেও আমি লাভবান হচ্ছি, এতে করে বিভিন্ন মামলায় কোর্টে আমার শুনানির অভিজ্ঞতা বাড়ছে। বিভিন্ন আইনি ইস্যুতে দক্ষতাও বাড়ছে। তাই জুনিয়র আইনজীবীরা কিংবা আমি উভয়েই লাভবান হচ্ছি। আইনজীবীদের কাছে যাওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো কোনও মাধ্যম নেই। সুতরাং, এটি অব্যাহত থাকবে।

আমরা সবাই জানি, আইনপেশার শুরুতে জুনিয়রদের অনেক কষ্ট থাকে। আমিও সেটা বুঝি। তাই আমাদের এখানে যারা (জুনিয়র) আসেন, তাদের প্র্যাকটিসের অবস্থা দেখে তাদের উত্তরণের চেষ্টা করি। সেক্ষেত্রে এখানে ডায়নামিক লিডারশিপের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি।

প্রশ্ন: ভোটার আইনজীবীদের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?

অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক: যেহেতু এখানে ভোটের মাধ্যমেই নির্বাচিত হতে হয়। তাই আমি সবার কাছে বিনীতভাবে ভোট প্রার্থনা করবো। আমার জন্য তাদের কাছে দোয়া চাই। আইনজীবীদের ভোট অনেক কঠিন। প্রত্যেক আইনজীবীর কাছে গিয়ে ভোট চাইতে হয়। অনেক নির্বাচনের তুলনায় এটি অন্যরকম। তাই আমি সবার কাছে আমার জন্য ভোট চাইবো।

/ইউএস/
সম্পর্কিত
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম থেকে ব্যারিস্টার খোকনকে অব্যাহতি
পিএসসির সদস্য ড. প্রদীপ কুমারকে শপথ করালেন প্রধান বিচারপতি
আলাপচারিতায় ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম ও মানস ঘোষমুজিবনগরে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও সংবাদ সংগ্রহ
সর্বশেষ খবর
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তৃতীয় গ্রুপের ফল প্রকাশ
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তৃতীয় গ্রুপের ফল প্রকাশ
জবিতে পরীক্ষা বন্ধ, ক্লাস অনলাইনে
জবিতে পরীক্ষা বন্ধ, ক্লাস অনলাইনে
ট্রেনিং নেই তবু মাস্টার ট্রেইনার
ট্রেনিং নেই তবু মাস্টার ট্রেইনার
ট্রেনে পায়ের আঙুল কাটা পড়েছে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের
ট্রেনে পায়ের আঙুল কাটা পড়েছে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের
সর্বাধিক পঠিত
সারা দেশে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় ছুটি ঘোষণা
সারা দেশে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় ছুটি ঘোষণা
সোনার দাম কমেছে, আজ থেকেই কার্যকর
সোনার দাম কমেছে, আজ থেকেই কার্যকর
মুখোমুখি ইরান-ইসরায়েল, পরীক্ষার মুখে মার্কিন সামরিক কৌশল
মুখোমুখি ইরান-ইসরায়েল, পরীক্ষার মুখে মার্কিন সামরিক কৌশল
ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট, হিন্দু মহাজোট ‘নেতা’ পুলিশ হেফাজতে
ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট, হিন্দু মহাজোট ‘নেতা’ পুলিশ হেফাজতে
জানা গেলো বেইলি রোডে আগুনের ‘আসল কারণ’
জানা গেলো বেইলি রোডে আগুনের ‘আসল কারণ’