সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ইশরাকের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:০৩, জানুয়ারি ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫০, জানুয়ারি ২৭, ২০২০

প্রেস ক্লাবে সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ইশরাক হোসেন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ইশরাক হোসেন বলেন, ‘সিটি নির্বাচনে গণমাধ্যম থেকে আমাকে যে সহযোগিতা করা হচ্ছে, তার জন্য ধন্যবাদ জানাতে আজকে আমি এখানে এসেছি। গত ১৮ দিন গণমাধ্যমের লোকজন নিরলস পরিশ্রম করে আমার প্রচারে কাজ করে যাচ্ছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের প্রচারণা চালাতে গিয়ে দেখলাম, ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গত ১০ বছরে সিটি করপোরেশন যারা পরিচালনা করেছেন, জনগণ তাদের প্রতি বিক্ষুব্ধ। ফলে জনগণ পরিবর্তন চায়। অতীতের সব বাদ দিয়ে এই নির্বাচনে জনগণ যাতে ভোট দিয়ে তাদের অধিকার ব্যক্ত করতে পারে, সেই প্রত্যাশা করছি। জনগণ যেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারে।’

সিটি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের প্রতি চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে অভিযোগ করে মোশাররফ বলেন, ‘প্রচারে আমাদের কাউন্সিলর প্রার্থী এবং সমর্থকদের প্রতি হামলা ও আক্রমণ করা হচ্ছে। তাদের বাড়িতে গিয়েও আক্রমণ করা হচ্ছে। গতকাল (রবিবার) আমাদের মেয়র প্রার্থী ইশরাকের প্রচারণায় হামলা চালানো হয়েছে। এটা কোনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নয়। আমরা দেখছি, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের যে পরিবেশ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হওয়ার কথা, সেটা হয়নি। সবকিছু নির্বাচন কমিশনকে জানালেও তারা কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।’ 

সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সবাই চাই শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে। আনন্দের বিষয় হচ্ছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। আমার বিশ্বাস, মিডিয়াগুলো তার সঠিক দায়িত্ব পালন করছে।’

নগরবাসী ভোটের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেবে বলে উল্লেখ করে ইকবাল সোবহান বলেন, ‘আজকের মতো অন্যান্য মেয়র প্রার্থীও আমাদের এখানে আসবেন। আমরা প্রেস ক্লাবে সবাইকে স্বাগত জানাই। রাজনৈতিক নেতারা তাদের বক্তব্য রেখেছেন। আমরা কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য দেবো না।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘সিটি নির্বাচনে গণমাধ্যম থেকে যে সহযোগিতা করা হচ্ছে, তার জন্য ধন্যবাদ জানাতে আজকে আমি এখানে এসেছি। গত ১৮ দিন গণমাধ্যমের লোকজন নিরলস পরিশ্রম করে আমার প্রচারে কাজ করে যাচ্ছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

ঢাকা অবাসযোগ্য শহরের তালিকায় এক নম্বরে কিছুদিন আগেও ছিল উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, ‘বায়ু দূষণ ও নারী-শিশুদের জন্য অনিরাপদ শহরের তালিকায়ও কিছুদিন আগে ঢাকা এক নম্বরে ছিল। আমি জনগণের খেদমত এবং তাদের উন্নয়নে নিজের জীবন উৎসর্গ করবো। এই ঢাকায় আমার বেড়ে ওঠা। এই সমস্যাগুলোর মধ্যেই আমি বেড়ে উঠেছি। আপনাদের বলতে চাই, এই শহরকে বাসযোগ্য করার জন্য যা যা করণীয় সব করবো।’

বিএনপি উদার গণতান্ত্রিক দল উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাসী এবং নির্বাচনি ব্যবস্থায় বিশ্বাসী। যেখানে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।’

রবিবার (২৬ জানুয়ারি) তার প্রচারে হামলার নিন্দা জানিয়ে ইশরাক বলেন, ‘গত ১৮ দিন আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার চালিয়ে আসছিলাম। বিভিন্ন এলাকায় গিয়েছি। সবাই আমাকে খুব সাদরে গ্রহণ করেছে। ওইসব এলাকায় আওয়ামী লীগ এবং তাদের সমর্থিত কাউন্সিলরদের সঙ্গেও আমি দেখা করেছি, কথা বলেছি, মতবিনিময় করেছি। কিন্তু গতকাল প্রচার শেষে ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলের নির্বাচনি ক্যাম্পের সামনে দিয়ে আসার সময় বাসার ছাদ থেকে অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিন জন সাংবাদিকসহ ১২ জন নেতাকর্মী আহত হন।’

হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযোগ করে ইশরাক বলেন, ‘গতকাল থেকে আশঙ্কা করেছিলাম, আমাদের নেতাকর্মীদের ধরপাকড় শুরু করবে। সেটাই হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাঁচ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওয়ারী থানায় ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আসামি করে আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটা মামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছি। নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবো, নির্বাচনের প্রচার সমানভাবে করার সুযোগ আমাদের দেওয়া হোক। এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে।’

গত জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির ওপর হামলা-মামলা করে মাঠ খালি করার একটা কাজ করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করে বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী বলেন, ‘সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর না হয়। পরিশেষে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিও জানাচ্ছি আমি।’

মতবিনিময় সভায় আরও  উপস্থিত ছিলেন—জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, এমরান সালেহ প্রিন্স, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ। 

/এএইচআর/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ