যেভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ করতে চায় ডিএসসিসি

Send
শাহেদ শফিক
প্রকাশিত : ১৮:০৩, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০২, মার্চ ০৫, ২০২০

 

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসির কৌশলপত্র

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে ‘কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ ডিপার্টমেন্ট’ তৈরি করার জন্য একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সিঙ্গাপুরের আদলে রাজধানীতে কীভাবে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে এতে। কৌশলপত্রটির আলোকে একটি প্রকল্প গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ডিএসসিসি মনে করছে, কৌশলপত্র অনুযায়ী সরকার যদি পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত সবধরনের রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. শরীফ আহমেদ এই কর্মকৌশল প্রণয়ন করেছেন।

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা শুনছেন ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন

যেভাবে এই কৌশল বাস্তবায়ন:

ডিএসসিসির এই কৌশল প্রচারের জন্য বিভিন্নভাবে প্রচারণার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রয়েছে কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সম্পর্কে অবহিত করা ও পর্যালোচনা সভা করা; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা; পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ; সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন প্রচার; মাইকিং, রোড-শো, ডিজিটাল বোর্ড ও এসএমএসের মাধ্যমে প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ। এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে উঠান বৈঠকের আয়োজন রয়েছে প্রচারণা কৌশলে।

পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ:

এ বিষয়ে প্রস্তাবনায় রয়েছে রাস্তা বা ড্রেনে পানি জমে থাকতে না দেওয়া; অব্যবহৃত টায়ার, কৌটা, ক্যান, টব ও পাত্রসহ যেখানে এডিস মশার লার্ভা জমে সেসব নিয়মিত অপসারণ করা; বাসাবাড়িতে এডিস মশার প্রজননস্থল সৃষ্টি হতে না দেওয়া এবং বাড়ির মালিকের নিজ উদ্যোগে এসব প্রজননস্থল ধ্বংসের ব্যবস্থা করা। সরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হচ্ছে এসব ফগার মেশিন।

জীবজ নিয়ন্ত্রণ:

ড্রেন ও জলাশয়ে গাপ্পি মাছ চাষ ও বিটিআই কর্তৃক ব্যাকটেরিয়া প্রয়োগের মাধ্যমে মশার লার্ভা ধ্বংস করা।

রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ:

সময়োপযোগী কার্যকর কীটনাশক নিয়মিত প্রয়োগ করা, সকাল ৮-১১টা পর্যন্ত লার্ভিসাইড ও বিকাল ৫-৬টা পর্যন্ত অ্যাডাল্টিসাইড কার্যক্রম চালানো; ওয়ার্ডের প্রতিটি জায়গায় ন্যূনতম সপ্তাহে দুই দিন স্প্রে ও ফগিং করা। তবে আপৎকালীন সময়ে এর পরিমাণ বাড়াতে হবে।  

মশক ও কীটনাশকের বিষয়ে নিয়মিত গবেষণা ও কার্যক্রম:

কেন্দ্রীয় মশক গবেষণা সেল সারা বছর বিভিন্ন ওয়ার্ডে সার্ভিলেন্সের মাধ্যমে মশার প্রজাতি শনাক্ত, ঘনত্ব নির্ধারণ, কীটনাশকের কার্যকারিতাসহ নানা বিষয়ে গবেষণা চালিয়ে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

প্রশিক্ষণ:

মশককর্মী, কর্মকর্তা ও কর্মীদের দেশে বা বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনের প্রয়োগ:

নির্মাণাধীন বিল্ডিং বা বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ডের ব্যবস্থা করা।

তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার:

মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সবার অবগতি ও প্রয়োজনীয় করণীয় বিষয়ে ওয়েব পোর্টাল, সোশ্যাল মিডিয়া, ইন্সট্যান্ট মেসেঞ্জার, ওয়্যারলেস, মোবাইল ও ইন্টারনেট, কল সেন্টারের ব্যবহার করা।

মশক নিয়ন্ত্রণ কমিটি:

এজন্য কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক ও ওয়ার্ড পর্যায়ে তিনটি কমিটি থাকবে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে সংস্থার মেয়রসহ শীর্ষস্থানীয়রা থাকবেন, তারা বছরের শুরুতে পুরো বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও নির্দেশনা দেবেন। বছরে কমপক্ষে চারটি সভা করবেন। কীটনাশকের চাহিদা প্রণয়ন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করবেন। জনবল ও মেশিনের সবরাহ করবেন। আঞ্চলিক কমিটিতে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, কীটতত্ত্ববিদ, সহকারী প্রধান বর্জ্যব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মশক সুপারভাইজার ও সহকারী স্বাস্থ্য-কর্মকর্তারা থাকবেন। তারা অঞ্চলের অধীন প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম তদারকি করবেন। কীটনাশক ও মেশিনারিজের চাহিদা, সরবরাহ ও মজুত নিশ্চিত করবেন। বাসাবাড়িতে যেন মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি না হয়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। জনসচেতনতা সৃষ্টির ব্যবস্থা করবেন। এছাড়া ওয়ার্ডভিত্তিক মশক নিয়ন্ত্রণ কমিটিতে স্থানীয় কাউন্সিলর, কমিউনিটি অ্যাম্বাসেডর, মশক সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক থাকবেন; তারা ফগার মেশিন, কীটনাশকের সরবরাহ ও মজুত কর্মীদের হাজিরা ও নিয়মিত লার্ভিসাইডিং এবং অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম নিশ্চিত করবেন।

 মশক নিধনকর্মীদের কর্মকাণ্ড তদারক করছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র সাঈদ খোকন

কেন্দ্রীয় মশক নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা সেল:

এই সেলের জনবল কাঠামোতে বলা হয়েছে: তিনজন পরামর্শক থাকবেন। তারা হচ্ছে−ভেক্টর বায়োলজিস্ট, কীটনাশক বিশেষজ্ঞ ও মেশিন বিশেষজ্ঞ। এছাড়া একজন প্রিন্সিপাল এন্টোমলজিস্ট, যিনি মশক রিয়ারিং ল্যাবের ইনচার্জ থাকবেন। ঊর্ধ্বতন এন্টোমলজিস্ট, যিনি কীটনাশকের ইফিসিয়েন্সি টেস্ট ল্যাবের ইনচার্জ থাকবেন এবং এন্টোমলজিস্ট, যিনি আঞ্চলিক এন্টোমলজিস্টদের কাজ সমন্বয় করবেন।

সার্ভিলেন্স টিম:

এই কাজ তৃতীয় পক্ষ দিয়েও করার সুযোগ রাখা হয়েছে কর্মকৌশল প্রণয়ন সভায়। এই টিম বছরে তিনবার সার্ভে করে প্রতিবেদন প্রদান করবে।

মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন টিম:

এতে একজন করে এন্টোমলজিস্ট ও এন্টোমলজিস্ট টেকনিশিয়ান থাকবেন। যারা দুই মাস পরপর বছরে ছয়বার রিপোর্ট দেবেন।

ডাটা ম্যানেজমেন্ট সেন্টার:

এতে বিভিন্ন পদে পাঁচজন জনবল চাওয়া হয়েছে, যারা সব ধরনের তথ্য সংরক্ষণ করবেন।

মশক গবেষণা ল্যাবরেটরি:

এই বিভাগে মশক রিয়ারিং ল্যাব (ইনসেক্টিরিয়াম) ও কীটনাশক ইফিসিয়েন্সি টেস্ট ল্যাব থাকবে।

ল্যাবরেটরির সরঞ্জামাদি:

রিয়ারিং ল্যাবে রিয়ারিং চেম্বার, ইনকিউবেটর, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, রিয়ারিং কেস, স্টেরিও জুম মাইক্রোস্কোপ, কম্পাউন্ড মাইক্রোস্কোপ, হিউমিডিফায়ার, ডিহিউমিডিফায়ার, হিটার, এসি ও অ্যাসপিরেটর থাকবে। আর টেস্টিং ল্যাবে হিউমিডিফায়ার, ডিহিউমিডিফায়ার, পাঁচটি বিশেষ ফগার মেশিন ও পাঁচটি বিশেষ স্প্রে-মেশিন  থাকবে।

কর্মপরিধি:

বছরজুড়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে মশকের প্রজাতির উপস্থিতি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় মশক নিয়ন্ত্রণ সেলকে পরামর্শ দেবে। মাঠ পর্যায়ে কীটনাশকের কার্যকারিতা পরীক্ষা ও কীটনাশকের বিরুদ্ধে মশকের প্রতিরোধী ক্ষমতার বিষয়ে পরীক্ষা করে পরামর্শ দেবে। মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত লার্ভিসাইডিং এবং অ্যাডাল্টিসাইডিং বিষয়ে মনিটরিং এবং সার্ভিলেন্স করবে। সফল মশক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় গবেষণা এবং তা বাস্তবায়নের সুপারিশ করবে। কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবে। এই কমিটি তাদের প্রয়োজনে বাইরের যেকোনও বিশেষজ্ঞকে কোঅপ্ট সদস্য করতে পারবে।

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো

প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো:

মশক নিয়ন্ত্রণের জন্য দুই হাজার ৪০০ জনের একটি জনবল কাঠামো তৈরি করে তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ডিএসসিসিতে মাত্র ৪৩২ জন কর্মরত রয়েছেন। বাকি এক হাজার ৯৬৮ জন জনবলের ঘাটতি রয়েছে। প্রস্তাবিত জনবলের মধ্যে প্রতি ওয়ার্ডে ৩০ জন করে মোট দুই হাজার ২৫০ জন মশক কর্মী নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। প্রতি ওয়ার্ডের ১০টি ব্লকে দুই জন করে ২০ জন স্প্রে ও ফগিং কাজে নিয়োজিত থাকবেন। অতিরিক্ত ১০ জন বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রজননস্থল শনাক্ত, ধ্বংস ও সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করবেন। প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে ৭৫ জন মশক সুপারভাইজার থাকবেন। এছাড়া প্রতিটি অঞ্চলে একজন করে ১০টি অঞ্চলে ১০ জন এবং কেন্দ্রীয় সেলের জন্য দুইজন মশক সুপারভাইজার থাকবেন। প্রতি অঞ্চলের জন্য দুইজন করে ২০ জন ইনসেক্টর কালেক্টর এবং কেন্দ্রীয় সেলের জন্য ৩ জন থাকবেন। একজন ঊর্ধ্বতন কীটনিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা থাকবেন। প্রতি অঞ্চলে একজন করে ১০ জন কীটনিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ও কেন্দ্রের জন্য একজন থাকবেন। প্রতি অঞ্চলে একজন করে ১০ জন সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা থাকবেন।

কীটনাশক প্রয়োগে যেভাবে ব্যবস্থা:

ক) লার্ভিসাইডের ক্ষেত্রে:

সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার বাদে ৩০২ দিন ওষুধ প্রয়োগ করা হবে। এজন্য ৭৫টি ওয়ার্ডে ২০টি করে এবং ভিআইপি এলাকার জন্য অতিরিক্ত ২০টি করে মোট এক হাজার ৫২০টি ফগার মেশিন প্রয়োজন। এক হাজার ৫২০টি মেশিনে দিনে ৬ বার স্প্রের জন্য প্রতিবার ৫ মিলিলিটার করে ওষুধ লাগবে। এজন্য দিনে কমপক্ষে ৪৫ হাজার ৬০০ মিলিলিটার ওষুধ প্রয়োজন। সেই হিসেবে ৩০২ দিনের জন্য সর্বমোট ১৩ হাজার ৭৭১ লিটার ওষুধ প্রয়োজন।

খ) অ্যাডাল্টিসাইডের ক্ষেত্রে:

একই হিসেবে এক হাজার ৫২০টি মেশিনের জন্য ৫ লিটার করে ৭ হাজার ৬০০ লিটার হিসাবে ৩০২ কার্যদিবসের জন্য ২২ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ লিটার ওষুধ প্রয়োজন।

অ্যান্টিসাইড ফগিংয়ের জন্য জ্বালানি:

প্রতিদিনের ১৫২০টি ফগিং মেশিনের প্রতিটির জন্য এক লিটার করে এক হাজার ৫২০ লিটার অকটেন প্রয়োজন। সেই হিসাবে ৩০২ কার্যদিবসের ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৪০ লিটার অকটেন প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত মেশিন:

বর্তমানে এক হাজার ৫০০টি হস্তচালিত মেশিন প্রয়োজন। কিন্তু রয়েছে ৩৭৭টি। এতে ঘাটতি রয়েছে এক হাজার ১২৩টি মেশিন। আর ফগার মেশিনের প্রয়োজন এক হাজার ৫০০টি। আছে ২৮৯টি। ঘাটতি রয়েছে এক হাজার ২১১টি। ভেহিক্যাল মাউন্টেন্ট ফগার ও ভেহিক্যাল মাউন্টেন্ট (ইউএলভি) স্প্রে মেশিন ১০টি করে ২০টি মেশিন প্রয়োজন। কিন্তু এ দুই প্রকার মেশিনের মধ্যে একটি মেশিনও নেই ডিএসসিসিতে।

প্রস্তাবিত সরঞ্জামাদি:

কৌশলপত্রে ১৫টি গাড়ি, ১০৭টি মোটরসাইকেল, ৮৭টি ওয়াকিটকি, ১১টি মাল্টিমিডিয়া ও ১১টি মাইকের প্রস্তাব করা হয়েছে। মশককর্মীদের নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ক্যাপ, মাস্ক, গ্লাভস, রেইন কোট, গাম বুট, জ্যাকেট, কালো চশমা দিতে হবে। 

এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করলে দক্ষিণ সিটি এলাকায় মশক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এটি প্রকল্প আকারে গত ৭ জুলাই মেয়রের অনুমোদনের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা শুধু সিটি করপোরেশন নয়, সারা বাংলাদেশের জন্য একটা ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর (রোগের জীবাণু বহনে সক্ষম বাহক) ম্যানেজমেন্ট করার জন্য বিশেষ কাজ করছি। আমাদের মন্ত্রণালয় এটার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করছে। সেখানে আমি কিছু কমেন্ট দিয়ে দিয়েছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সিটি করপোরেশন যে প্রকল্প দিয়েছে, সেটা একটি আইনি বিষয়। কারণ, চাইলেই জনবল দিয়ে দেওয়া যাবে না। কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। আর সেখানে কাজ করার জন্য যে জনবল দরকার, সেটা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়েরও একটা উইং আছে। তারাও কাজ করছে।’

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ‘‘আমরা সিঙ্গাপুরের আদলে ‘কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ ডিপার্টমেন্ট’ নামে যে বিভাগটি চালু করার কথা বলেছি, সেটার বিষয়ে একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। কিন্তু সেখান থেকে এখনও কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।’’ 

জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় যদি ঢাকায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ভবিষ্যতে এডিস মশা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। সিটি করপোরেশন বা মন্ত্রণালয় কিংবা অন্য কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যেটাই হোক না কেন, এডিস মশার জন্য আলাদা প্রকল্প নিতেই হবে। না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাছাড়া বর্তমানে সিটি করপোরেশনের যে জনবল কাঠামো ও যন্ত্রপাতি রয়েছে, তা খুবই নগণ্য।’

/এএইচ/টিএন/এমএমজে/

লাইভ

টপ
X