খুলেছে নিউমার্কেট, ক্রেতা কম

Send
সাদ্দিফ অভি
প্রকাশিত : ১৯:১৬, মে ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২২, মে ৩১, ২০২০

টানা ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর রবিবার (৩১ মে) থেকে চালু হয়েছে ঢাকা নিউমার্কেট। নিউমার্কেট খোলার সিদ্ধান্তে খুলেছে তার আশেপাশের কয়েকটি মার্কেট। এর মধ্যে আছে গাউসিয়া, চাঁদনি চক, নুরজাহান সুপার মার্কেট এবং নীলক্ষেতের বইয়ের দোকান। ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করা হয়েছে। তবে প্রথম দিন হওয়ায় ক্রেতা বেশ কম।

সকাল থেকে নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গাউসিয়ার নূর ম্যানশন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ধোয়া-মোছার কাজ করছেন। দোকানের কর্মচারীরা ব্যস্ত দোকানের পণ্য পরিষ্কার করতে। এর মধ্যে ক্রেতা দেখলেই হাঁকডাক দিচ্ছেন তারা।

এই মার্কেটের একজন ব্যবসায়ী জানান, স্বাস্থ্য সুরক্ষার যেসব বিষয় আছে সেগুলোর ব্যবস্থা করেই দোকান খুলেছি। তবে এসব মেনে ব্যবসা চালানো খুব কষ্ট হবে বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া ক্রেতাদের ওপরও নির্ভর করে কিছুটা সুরক্ষা। এই দুইমাস অনেক কষ্টে আমরা চলেছি, কর্মচারির বেতন দিতে গিয়ে আমাদের অবস্থা খুব খারাপ। এখন দোকান না খুলে উপায় নেই। আজকে প্রথম দিন কাস্টমার কম, হয়তো কিছুটা বাড়বে কালকের থেকে।

নূর ম্যানশনের প্রবেশ মুখে জীবাণুনাশক টানেল বসানো হয়েছে। তবে নিরাপত্তাকর্মীর কাছে জ্বর মাপার যন্ত্র দেখা যায়নি। তার কাছে জানতে চাইলে বলেন, জ্বর মাপার যন্ত্র আনতে বলা হয়েছে, এখনও আসেনি। এই বিষয়ে কথা বলতে মার্কেট কমিটির কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

নূর ম্যানশনের পাশেই চাঁদনিচক মার্কেট। এই মার্কেটের প্রবেশমুখে আলাদা জীবাণুনাশক টানেলের মতো গেট বসানো হলেও তাতে জীবাণুনাশক ছিটানোর ব্যবস্থা রাখা হয়নি। মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মীরা প্রবেশমুখে ইনফ্রারেড থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর মেপে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন। প্রবেশ করার পর আরও কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী হাতে জীবাণুনাশক স্প্রে করছেন।

চাঁদনিচক মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, মার্কেট কমিটির পক্ষ থেকে নির্দেশনাগুলো একটু পর পর মাইকিং করে বলা হয়। এছাড়া এখানকার বেশিরভাগ দোকানেই পরিষ্কারের কাজ করতে দেখা যায়।

রবিবার থেকে চালু হয়েছে ঢাকা নিউমার্কেট। এই মার্কেটের গেটে নিরাপত্তাকর্মীরা ক্রেতাদের জ্বর মাপছেন এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিচ্ছেন। এছাড়া প্রবেশের পর সামনে থাকছে জীবাণুনাশক মেশানো চটের বস্তা। সেখানে পা মুছে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

এই মার্কেটের ভেতরেই বসেন অনেক হকার। তাদের একজন রাজু জানান, দোকান তো মাত্র খুলে বসলাম। প্রথম দিনে ক্রেতা নেই বললেই চলে। ক্রেতাদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা আছে, তাছাড়া এখন দুইজনের বেশি ক্রেতা দোকানের সামনে দাড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। 

ঢাকা নিউমার্কেটের জুয়েলারি ব্যবসায়ী বুলবুল সাহা জানান, ক্রেতাদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং গ্লাভসের ব্যবস্থা রেখেছেন তিনি। তিনি বলেন, কাস্টমার এসে যা দেখতে চাইবে দেখাবো একটা একটা করে, যেগুলো জুয়েলারি স্পর্শ করবে সেগুলো আলাদা রেখে দিচ্ছি। তারপর সেগুলো পরিষ্কার করছি জীবাণুনাশক দিয়ে। যেটা নিচ্ছে সেটি পরিষ্কার করে বক্স সেনিটাইজ করে দিয়ে দিচ্ছি।

অন্যান্য পণ্যের দোকানের পাশপাশি খুলেছে খাবারের দোকানও। ঢাকা নিউমার্কেটের ভেতরে তিনটি খাবারের দোকান আছে জাহিদুল ইসলামের। কিভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আর্থিকভাবে পুরাই ভেঙ্গে পড়েছি। এখানে ৩ দোকান আছে আমার। ব্যাংকের লোন আছে, কর্মচারীদের বেতন দিয়ে চালাতে হয়েছে। সব মিলায়ে খুব খারাপ অবস্থা। আজকে দোকান খুললাম ২ মাসেরও বেশি সময় পর। কাস্টমারদের নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে বসাচ্ছি। এছাড়া আমার কর্মচারীদের সুরক্ষায় কিছু দিয়েছি আজকে। কালকে আরও জিনিসপত্র আনবো।

এদিকে নিউমার্কেটের বেশির ভাগ মার্কেট খুললেও চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, নুরজাহান সুপার মার্কেট, বদরুদ্দোজা শপিং কমপ্লেক্স, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট এখনও খুলেনি।

 

/এফএএন/

লাইভ

টপ