চালু হলো অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট, শুরুতে যাত্রী সংকট

Send
চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ১৮:৪৫, জুন ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪৯, জুন ০১, ২০২০

দুই মাসের বেশি সময় পর চালু হলো দেশের ভেতরে তিনটি ‍রুটের ফ্লাইট। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর আবার চালু হলেও প্রথম দিন যাত্রী সংকটে বাতিল হয়েছে একাধিক ফ্লাইট।


দূরত্ব বজায় রাখতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) উড়োজাহাজের আসন সংখ্যার সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ যাত্রী বহনের নিয়ম করে দিয়েছে। যদিও প্রথম দিনে সব এয়ারলাইন্স ছিল যাত্রী সংকটে। বিমানবন্দরেও যাত্রীদের দূরত্ব বজায় রাখতে ছিল কড়াকড়ি।  বিমানবন্দরে প্রবেশ মুখেই যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করেছে এয়ারলাইন্সগুলো। প্রবেশ মুখেই এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষার পাশাপাশি  মাস্ক ও গ্লাভস দিয়েছে। একইসঙ্গে  যাত্রীদের ব্যাগে ছিটানো হয়েছে জীবাণুনাশক।

বিমানবন্দরের ভেতরেও প্রবেশ করার মুখে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও যাত্রীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে ভেতরে প্রবেশ করতে দিয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের দেওয়া হয়েছে ফরম যেখানে স্বাস্থ্যগত তথ্য দিতে হবে সব যাত্রীকে। সেই  ফরমে যাত্রীকে নাম, বয়স, লিঙ্গ, জন্ম তারিখ, বর্তমান ঠিকানা, এয়ারলাইন্সের নাম, ফ্লাইট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, শরীরের তাপমাত্রা, মোবাইল ও ই-মেইল নম্বর পূরণ করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বর,  শ্বাসকষ্ট, কোভিড-১৯ এর কোনও উপসর্গ আছে কিনা সে তথ্য দিতে হবে যাত্রীকে। কোনও যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলে তাকে আর ফ্লাইটে যেতে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। শনিবার কমপক্ষে দুজন যাত্রীকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত যেতে হয়েছে শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকায়।

এদিকে বিমানবন্দরের কর্মীদেরও দেখা গেছে ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরঞ্জাম ব্যবহার করতে। বিমানবন্দরের ভেতরে কিছু সময় পর পর ছিটানো হচ্ছে জীবাণুনাশক। যাত্রীদের চলাচলে জায়গা, ট্রে, চেয়ার, দেয়াল, রেলিং, ব্যাগেজ বেল্ট পরিষ্কার করে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে। এয়ারলাইন্সগুলোর কাউন্টারেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। যাত্রীদের বসার জায়গাগুলোতে দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে। কাউন্টারে যাত্রীদের শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে ফ্লোরে করা হয়েছে মার্কিং।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক এএইচএম তৌহিদ উল আহসান বলেন, যাত্রীদের  স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমারা ব্যবস্থা নিয়েছি। এয়ারলাইন্সগুলোকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরেও জীবাণুমুক্ত করতে পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে।  ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে সবাইকে  শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

এদিকে ফ্লাইট চালু হলেও যাত্রী ছিল সংকট। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস বাংলাকে বাতিল করতে হয়েছে একাধিক ফ্লাইট। ইউএস বাংলার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটের ফ্লাইটে যাত্রী ছিল ২৮ জন আর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছেন ৩৫ জন। ঢাকা থেকে সৈয়দপুর গেছেন ৫১ জন আর ঢাকায় এসেছেন ৫৮ জন। নভোএয়ার সৈয়দপুর রুটে ৩টি, চট্টগ্রাম রুটে ৩টি ও সিলেটে ১টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের  মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ)  মো. কামরুল ইসলাম জানান, সোমবার সকাল ৭টায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রথম ফ্লাইট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামের  শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে প্রতিদিন ৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

সকালে বিমানবন্দর পরির্দশন করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান। তিনি বিমানবন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ফ্লাইটের পর উড়োজাহাজ জীবাণুমুক্ত করতে বলা হয়েছে, যা মনিটরিং করা হচ্ছে। আমরা একেবারে ঝুঁকিমুক্ত নই, তবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করলে সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুরে  ৬টি থাকলেও যাত্রী সংকটে ৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিমানের  উপ-মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার বলেন, যাত্রী কম থাকায় ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ঢাকা সৈয়দপুর ৪ জন যাত্রী নিয়ে ফ্লাইট গিয়েছে। ঢাকায় ফিরেছে ২০ জন যাত্রী নিয়ে।

প্রথম দিনে যাত্রী কম হলেও ধীরে ধীরে যাত্রী বাড়বে বলে আশা  প্রকাশ করেছেন এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মফিজুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী চলাচল শুরু হলো। আশা করছি যাত্রী সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়বে।

ভাড়া বাড়কে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মফিজুর রহমান বলেন,  সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ফ্লাইট পরিচালনার কারণে যাত্রী কম থাকছে। এছাড়া অন্যান্য বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে ব্যয় বেড়েছে। এখনও আমরা ভাড়া বৃদ্ধি করিনি, তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে ভাড়া বাড়তে পারে।

বেবিচকের নিয়মানুসারে প্রতিটি কাউন্টারের ছিল হ্যান্ড স্যানিটাইজার । সামাজিক দূরত্ব মেনে যাত্রীদের চেক-ইনের লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। দেড় ঘণ্টার কম সময়ের ফ্লাইটে পানি ছাড়া খাবার দেওয়া যাবে না। ফলে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীদের খাবার দেওয়া হচ্ছে না। ফ্লাইটের ক্রুদের এন-৯৫ মাস্ক,  গ্লাভস ও গগলস ব্যবহারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

তবে এতোবিধি নিষেধেও সন্তুষ্ট যাত্রীরা। হেলাল আহমদে বিমানবন্দর এসেছিলেন সৈয়দপুরে যেতে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দুই মাস পর বাসা থেকে বের হলাম। দ্রুত যেতে পারবো দেখেই আকাশপথে যাচ্ছি। বিমানবন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনাও বেশ ভালো মনে হয়েছে।
ছবি: চৌধুরী আকবর হোসেন

/এমআর/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ