ঘর-দোকান দুটোই কয়লা, পুড়েছে সন্তানের পা

Send
শাহরিয়ার হাসান
প্রকাশিত : ০৯:২৪, অক্টোবর ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৫, অক্টোবর ৩১, ২০২০

পুড়ে যাওয়া ঘর-বাড়িকল্যাণপুরের নতুন বাজার বস্তিতে ১০টি সেকশন রয়েছে। ৭ নম্বর সেকশনে রয়েছে ৫০টির মতো ঘর। শুক্রবার (৩০ আক্টোবর) রাতে ৭ নম্বর সেকশনের ‘মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ইস্পাত ভাঙাড়ির দোকানে গ্যাস সিলেন্ডারে বিস্ফোরণ হয়।  মুহূর্তেই আগুন পাশের আসবাবপত্রের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে পুরো বস্তিতে ছড়িয়ে পড়ে। চোখে সামনে পুড়তে থাকে আমাদের আশ্রয়স্থল–কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই ঘটনার বর্ণনা দিলেন আগুনের ঘর-দোকান সর্বস্ব হারানো সবুজ মিয়া।

বিস্ফোরণের পরও আসবাবপত্র দোকানের ভেতরে কাজ করছিলেন সবুজ। তিনি বলেন, ‘লোহার ভাঙারির দোকান থেকে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। তাকাতেই দেখি আগুন জ্বলছে। আমি বের হতে না হতেই আমার দোকানে আগুন লেগে যায়। দোকানের ঠিক পেছনেই আমার ঘর। দোকানে আগুন লাগা মানে ঘরে আগুন লাগা। পাশে দিয়ে দৌড়ে গিয়ে মেয়েটাকে কোলে নিয়ে অন্য সন্তানের হাত ধরে বের হই। আমার স্ত্রীও আমার পিছে পিছে আসে। ওই ছোট চাপা গলি দিয়ে বের হতে আমার দোকানে লাগা আগুনেই আমার দুই সন্তানের পা পুড়ে যায়।’ 

আগুনে ক্ষতিগ্রস্থরা

সবুজ মিয়া বলেন,  ‘আমার আর কিছুই থাকলো না। না ঘর, না দোকান। কাঠ কিনবো বলে কিছুদিন ধরে কিছু টাকা জমিয়েছিলাম। টাকা গুলো দোকানে ছিল সেগুলোও পুড়ে কয়লা। মাথা গোঁজার জায়গার পাশাপাশি সোজা হয়ে দাঁড়ানোর শক্তি ও শেষ করে দিলো এই আগুন।’

শুধু সবুজ মিয়ার না এমন অবস্থা সাত নম্বর সেকশনের সবার। দেড় ঘণ্টার আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অন্ধকারের মধ্যেই ছাইয়ের স্তূপে দাঁড়িয়ে সবাই কী যেন খুঁজছেন। তখনও সেখানে আগুনের তাপ। নিজের পোড়া ঘর থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আব্দুল মালেক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগুনের এই তাপ আর কতটুকু ক্ষতি করবে। যা করার তা তো করেছে। ছাইয়ে কী হারানো সম্পদ মেলে, মেলে না!’

কল্যাণপুর বস্তি

সিটি করপোরেশন যা বলছে

কল্যাণপুর নতুন বাজার বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য মেয়রের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিটি পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিটি করপোরেশন।

কল্যাণপুর বস্তি

দগ্ধ হয়েছেন অনেকে

অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকজনই দগ্ধ হয়েছেন। অনেকেই আশেপাশের ফার্মেসি থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে  আনোয়ার (২১) ও আক্তার হোসেন (১৯) নামের দুজন বেশি দগ্ধ হয়েছেন। তাদের শরীরের ৫০ শতাংশের মতো দগ্ধ হয়েছে। তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। আবার মিরপুর ফায়ার স্টেশনের লিডার মানিক আগুনে নেভানোর কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে, তাকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

কল্যাণপুর বস্তি

তদন্ত কমিটি গঠন

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সালেহ উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর আগুন লাগার আসল কারণ ও কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে জানা যাবে।

 

 

/এসএইচ/এসটি/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ